ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলে ফেলেছেন লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে এবং আর্লিং হালান্ড মতো তারকারা। এবার বিশ্বকাপ মঞ্চে নামার পালা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর। বুধবার গ্রুপ ‘কে’-র ম্যাচে কঙ্গোর বিরুদ্ধে মাঠে নামবে পর্তুগাল। আর সেই ম্যাচকে ঘিরেই এখন বিশ্ব ফুটবলে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও উত্তেজনা।
৪১ বছর বয়সী রোনাল্ডোর বিশ্বকাপের সপ্তম আসর এটি। দীর্ঘ কেরিয়ারে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, নেশনস লিগ এবং অসংখ্য ব্যক্তিগত রেকর্ড জিতলেও বিশ্বকাপ এখনও তার অধরা স্বপ্ন। ফলে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত এই আসরকে তার শেষ বিশ্বকাপ হিসেবে দেখছেন অনেকেই।
অন্যদিকে, বিশ্বকাপের শুরুতেই আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক মেসি। আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে ৩-০ জয়ে হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৬-তে নিয়ে গিয়েছেন তিনি। এর ফলে জার্মান কিংবদন্তি মিরোশ্লাভ ক্লোজ-এর সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
ফ্রান্সের অধিনায়ক এমবাপেও দুর্দান্ত শুরু করেছেন। সেনেগালের বিরুদ্ধে ৩-১ জয়ে দুটি গোল করে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৪-তে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। বয়সের বিচারে এখনও অনেকটা পথ বাকি থাকায়, মেসি ও ক্লোজের রেকর্ড ভাঙার অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছে ফরাসি ফরোয়ার্ডকে।
নরওয়ের তারকা হালান্ডও বিশ্বকাপের মঞ্চে নজর কেড়েছেন। ইরাকের বিরুদ্ধে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। প্রমাণ করেছেন যে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরেও তিনি সমান কার্যকর। তবে বুধবারের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু নিঃসন্দেহে রোনাল্ডো।পর্তুগালের আক্রমণের নেতৃত্বে থাকা এই কিংবদন্তির সামনে রয়েছে আরও একটি ইতিহাস গড়ার সুযোগ। বিশ্বকাপে গোল করলে তিনি টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সের স্কোরারদের অন্যতম হয়ে উঠবেন।
প্রথম ম্যাচে নামার আগে নিজের ‘এক্স’ হ্যান্ডলে দলের উদ্দেশ্যে রোনাল্ডো লিখেছেন, ‘যখনই দেশের জার্সি গায়ে দিয়ে মাঠে নামি, তখনই গর্ব অনুভব করি। একই রকম আবেগ অনুভব করি। প্রথম দিন যেরকম দায় ছিল, এখনও সেরকমই আছে। আজ এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। এই মুহূর্তের জন্য আমরা অনেক পরিশ্রম করেছি। এ বার দেশের জন্য নিজেদের উজাড় করে দেওয়ার সময় এসে গিয়েছে। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা পর্তুগিজ জনতা, যারা আমাদের সমর্থন করে, তারা আমাদের ওপর আস্থা রাখুন, যেমন আমরা নিজেরা রাখি’।
পর্তুগালের কোচ ও সমর্থকরা আশা করছেন, ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে অসংখ্য রেকর্ড গড়া রোনাল্ডো বিশ্বকাপেও নিজের সেরা ছন্দ খুঁজে পাবেন। কারণ, পর্তুগালের স্বপ্ন এবার শুধু গ্রুপ পর্ব পেরোনো নয়, বরং খেতাবী লড়াইয়ে পৌঁছনো। বিশ্বকাপের প্রথম সপ্তাহেই মেসি, এমবাপ্পে ও হালান্ড নিজেদের ছাপ রেখে দিয়েছেন। এখন দেখার, কঙ্গোর বিরুদ্ধে মাঠে নেমে রোনাল্ডোও একইভাবে বিশ্বকাপে ঝড় তুলতে পারেন কিনা।