আধ ঘণ্টার জন্য মাঠে নেমেও মেসি-ম্যাজিক, গড়লেন ইতিহাস, পুরো ন’পয়েন্ট নিয়েই নক আউটে আর্জেন্টিনা

তিনি পুরো ৯০ মিনিটের জন্য মাঠে নামুন বা শেষ আধ ঘণ্টা খেলুন, লিওনেল মেসি যে এই বিশ্বকাপে গোল করেই যাবেন, এটাই এখন স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে গিয়েছে। চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রথম দুই ম্যাচের মতো তৃতীয় ম্যাচেও দেখা গেল মেসি-ম্যাজিক। আধ ঘণ্টা মাঠে ছিলেন। তাতেও জাদু দেখাতে ভুললেন না ফুটবলের জাদুকর। এ বারের বিশ্বকাপ যে মেসি-রই হতে চলেছে, সেই ইঙ্গিতই পাওয়া গেল (ভারতীয় সময় অনুযায়ী) রবিবার সকালে।

এ দিন একাধিক তারকাকে বিশ্রাম দিয়ে মাঠে নামলেও একটুও দাপট কমল না আর্জেন্টিনার। ডালাসে গ্রুপ জে-র ম্যাচে জর্ডনকে ৩-১ গোলে হারিয়ে একশো ভাগ জয়ের রেকর্ড নিয়ে নকআউট পর্বে পৌঁছে গেল লিওনেল স্কালোনির দল। বদলি হিসেবে মাঠে নামলে এবং গোলও করলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। গড়ে ফেললেন আরও একটি অনন্য বিশ্বকাপ রেকর্ডও।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা সাতটি ম্যাচে গোল করার নজির আর কোনও ফুটবলারের ছিল না, যে নজির গড়লেন মেসি। আরও কত নজির যে গড়বেন তিনি, তা স্বয়ং ঈশ্বরই জানেন বোধহয়।


আগের দুই ম্যাচ জিতে আগেই গ্রুপ সেরা নিশ্চিত করেছিল আর্জেন্টিনা। তাই স্কালোনি প্রথম একাদশে একাধিক পরিবর্তন করেন। শুরু থেকেই বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আলবিসেলেস্তেরা।

১৯ মিনিটে জিওভানি লে সেলসোর দুর্দান্ত ফ্রি-কিক থেকে প্রথম গোল আসে। জর্ডনের গোলরক্ষকের নাগালের বাইরে বাঁক খেয়ে জালে জড়িয়ে যায় বল। প্রথমার্ধেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে আর্জেন্টিনা। ৩১ মিনিটে ভিএআর পর্যালোচনার পর পেনাল্টি পায় তারা। স্পট-কিক থেকে কোনও ভুল করেননি লাউতারো মার্তিনেজ।

দ্বিতীয়ার্ধে জর্ডন লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করে। মুসা আল-তামারি গোল করে ব্যবধান কমান। এটিই এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের হজম করা প্রথম গোল। এতদিন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে দুর্ভেদ্য ছিলেন তিনি। এ দিনই প্রথম গোল খেলেন।
ম্যাচের ৬০ মিনিটের মাথায় দর্শকদের প্রবল উল্লাসের মধ্যে মাঠে নামেন লিওনেল মেসি। শুরুতে বিশ্রামে রাখা হয়েছিল তাঁকে। মাঠে নেমেই আক্রমণে নতুন গতি আনেন আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী। ম্যাচের ৮০তম মিনিটে দুর্দান্ত একটি ফ্রি-কিক থেকে গোল করে ৩-১ ব্যবধান নিশ্চিত করেন তিনি।

এই গোল করে নিজের মুকুটে আরও একটি পালক যোগ করলেন মেসি। বিশ্বকাপে টানা সাতটি ম্যাচে গোল করা প্রথম ফুটবলার তিনিই। ৩৯ বছর বয়সেও তাঁর ধার যে এতটুকু কমেনি, তা আবারও প্রমাণ করলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে গ্রুপ জে-র শীর্ষে থেকে শেষ করল আর্জেন্টিনা। শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে। অন্যদিকে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা জর্ডন বিদায় নিলেও নিজেদের লড়াকু মানসিকতার ছাপ রেখে গেল।