বদলি হিসেবে নেমে ৮৮ মিনিটে জয়সূচক গোল করে স্পেনের ফুটবলে নতুন নায়ক হয়ে উঠলেন মিকেল মেরিনো। শনিবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১-এ হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে পড়ল স্পেন। এই অসাধারণ জয়ের পর তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালের প্রশংসায় পঞ্চমুখ স্প্যানিশ মিডফিল্ডার মেরিনো। একই সঙ্গে জানিয়ে দিলেন, এবার লক্ষ্য ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠা।
২০১০ বিশ্বকাপ জয়ের পর এই নিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে উঠল স্পেন। শেষ চারের লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ফ্রান্স, যারা আগের দিনই কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে। ডালাস স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম আকর্ষণীয় সেমিফাইনাল হতে চলেছে এই ম্যাচ।
জয়ের পর মেরিনো বলেন, ‘লামিনে একজন অবিশ্বাস্য ফুটবলার। ওর বয়সে এতটা পরিণত ফুটবল খুব কম খেলোয়াড়ই খেলতে পারে। ও সব সময়ই প্রতিপক্ষের রক্ষণকে সমস্যায় ফেলে এবং বিপক্ষের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য গড়ে দেয়। আমাদের দলে অসাধারণ মানসিকতা রয়েছে। আমরা জানি, ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেলে সুযোগ আসবেই। আজও সেটাই হয়েছে।’
বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে অপ্রত্যাশিত ভাবে প্রথম একাদশে সুযোগ পাওয়া ফাবিয়ান রুইজ ম্যাচের প্রথম গোলটি করেন। এর আগে দানি ওলমোর শট দুর্দান্তভাবে রুখে দিয়েছিলেন থিবো কুর্তোয়া। এর পর বিদ্যুৎগতির লামিনে ইয়ামাল কাট করে ভেতরে ঢুকে একটি শট নেন, যা অল্পের জন্য লক্ষভ্রষ্ট হয়।
তবে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে পাল্টা আক্রমণ থেকে সমতা ফেরায় বেলজিয়াম। কেভিন ডি ব্রুইনের দুর্দান্ত দূরদৃষ্টিসম্পন্ন পাসে ফাঁকা জায়গা পান টিমোথি কাস্তানিয়ে। তাঁর নিখুঁত ক্রস থেকে সুকৌশলে অনসাইডে থাকা চার্লস ডি কেটেলারে হেডে বল জালে জড়ান।
ম্যাচের ৭১তম মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন কিংবদন্তি গোলরক্ষক কুর্তোয়া। তাঁর পরিবর্তে নামা সেনে ল্যামেন্স দূরপাল্লা থেকে পাও কুবার্সির নেওয়া শট ঠিকমতো তালুবন্দি করতে ব্যর্থ হন। সেই সুযোগে কয়েক মিনিট আগেই বদলি হিসেবে নামা মেরিনো ফিরতি বল জোরালো শটে জালে জড়িয়ে স্পেনের জয় নিশ্চিত করেন।
ফ্রান্সকে নিয়ে মেরিনো বলেন, ‘ওরা বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। তবে আমরাও নিজেদের সামর্থ্যে বিশ্বাস করি। যদি নিজেদের খেলাটা খেলতে পারি, তাহলে ফাইনালে ওঠার সুযোগ অবশ্যই থাকবে।’
স্পেন শিবিরের বড় ভরসা হয়ে উঠেছেন লামিনে ইয়ামাল। গোল না পেলেও পুরো ম্যাচজুড়ে তাঁর গতি, ড্রিবলিং এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল বেলজিয়ামের রক্ষণকে বারবার চাপে ফেলে। সেই কারণেই সেমিফাইনালের আগে স্পেনের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে।