সদ্যসমাপ্ত কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের ভারোত্তোলন দল এ বার একাধিক সাফল্য নিয়ে দেশে ফিরেছে। একটি সোনা, ছ’টি রুপো এবং একটি ব্রোঞ্জ— মোট আটটি পদক জিতে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন ভারতীয় ভারোত্তোলকেরা। দেশে ফেরার পর তাঁদের সংবর্ধনা দিল কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রক। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য।
অনুষ্ঠানে ক্রীড়ামন্ত্রী পদকজয়ীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের জেতা প্রতিটি পদক সারা দেশকে আনন্দ দিয়েছে। দেশের ১৪০ কোটি মানুষ আপনাদের জন্য গর্বিত। আপনারা শুধু পদক জেতেননি, দেশের তরুণ প্রজন্মকেও অনুপ্রাণিত করেছেন’।
কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের একমাত্র সোনাজয়ী ভারোত্তোলক মীরাবাই চানু-র হাতে এই অনুষ্ঠানে ৩০ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। অন্য পদকজয়ী ভারোত্তোলকদেরও নগদ আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয় তাঁদের কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মীরাবাই বলেন, ‘এই সম্মান আমাকে আরও ভালো কিছু করার অনুপ্রেরণা দেবে। এখন আমার মূল লক্ষ্য জাপানে এশিয়ান গেমসে পদক জেতা। ৪৯ কেজি বিভাগেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব এবং সেখানেও দেশের জন্য সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব’।
ক্রীড়ামন্ত্রী মাণ্ডব্য বলেন, ‘এ আমাদের কাছে খুব বড় মুহূর্ত। আপনাদের এই সাফল্য আগামী দিনের ভারতীয় ভারোত্তোলকদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেবে’।
২০১৪-য় কমনওয়েলথ গেমসে রুপো জিতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আত্মপ্রকাশ করেন মীরাবাই। এরপর টানা তিনটি কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জেতেন তিনি— ২০১৮-য় গোল্ড কোস্ট, ২০২২-এ বার্মিংহ্যাম এবং ২০২৬-এ ফের গ্লাসগোয়।
এ ছাড়াও ২০১৭-য় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতেছিলেন মীরাবাই। ২০২২ ও ২০২৫ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে রুপোও জেতেন তিনি। পাশাপাশি এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ এবং কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়নশিপেও একাধিক পদক রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।
গ্লাসগো থেকে দিল্লিতে ফিরে সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মীরাবাই বলেন, ‘পদক জিতলে খুব আনন্দ হয়। কিন্তু পদক জেতা খুব কঠিনও। পদক জেতার পর দায়িত্ব অনেক বেড়ে যায়। পরের প্রতিযোগিতাগুলিতে নিজের সেরাটা দিতে হয়। চাপও অনেক থাকে। আমার কাছে এশিয়ান গেমসে একটি পদক জেতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ’।
তিনি আরো বলেন, ‘আমি সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করব। কারণ, যে প্রতিযোগিতায় এখনও পর্যন্ত কোনও পদক জিততে পারিনি, সেখানে আমাকে জিততেই হবে। তাই এশিয়ান গেমস আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হ্যাঁ, এ বার আমার লক্ষ্য এশিয়ান গেমসে পদক জেতা। সেই লক্ষ্য পূরণ করার চাপও রয়েছে’।
মীরাবাই জানান একটা পদক জয় তাঁকে আরো বেশি শক্তি জোগায়। বলেন, ‘অনেকে পদক জিতে খুব খুশি হন। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে পদক আমাকে আরও শক্তি দেয়। আমি মনে করি, পরের পদক জিততে হলে আমাকে আরো বেশি পরিশ্রম করতে হবে’।
এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে কোনও বিশেষ প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা নেই বলেই জানিয়েছেন মীরাবাই। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, এত দিন যেভাবে প্রস্তুতি নিয়েছেন, সেই নিয়ম মেনেই অনুশীলন চালিয়ে যাবেন।
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এশিয়ান গেমসের আগে চোটমুক্ত থাকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এর বাইরে আলাদা করে কোনো বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন নেই। নিয়মিত যে অনুশীলন করি, সেটাই চালিয়ে যাব’।
শুধু এশিয়াডের পদক নয়, আরো একটি ইচ্ছে আছে মীরাবাইয়ের। কী ইচ্ছে? তিনি বলেন, ‘খেলরত্ন পুরস্কার আগেই পেয়েছি। তবু ছোটবেলা থেকেই অর্জুন পুরস্কার পাওয়ার স্বপ্ন দেখেছি। তাই যদি সেই সম্মানও পাই, তা হলে অবশ্যই খুব খুশি হব’।