শহরে ইস্টবেঙ্গলের পুরোদমে ডার্বি-প্রস্তুতির দিনে মোহনবাগান ফুটবলারদের দিন কাটল রাস্তায়, প্রবল উদ্বেগে!

Photo: X

একদিন পরেই ডুরান্ড কাপের ফাইনাল। শুধু ডুরান্ড কাপের ফাইনাল বললে ভুল করা হবে। সে আবার বাঙালির সবচেয়ে প্রিয় ফুটবল দ্বৈরথ মোহনবাগান বনাম ইস্টবেঙ্গল। এমন এক ম্যাচের আগে দুই দলেরই ভালোরকমের প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। কিন্তু রবিবারের ম্যাচের আগে দুই দলের প্রস্তুতির অবস্থা সম্পুর্ণ বিপরীত। একদল যেখানে খুব ভালোমতোই প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে, সেখানে আর এক দলের গোটা একটা দিন কাটল মাঠে নয়, রাস্তায়।

বৃহস্পতিবার রাতে শিলংয়ে ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট টাই ব্রেকারে নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে ৪-৩-এ হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। তার আগের দিন ইস্টবেঙ্গল এফসি সেমিফাইনালে এসসি দিল্লিকে টাই ব্রেকারেই হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। তবে তাদের ম্যাচ ছিল কলকাতাতেই।

খেলা ও অনুশীলন করা ছাড়া বাড়তি কোনো ধকলই নিতে হয়নি লাল-হলুদ বাহিনীকে। কিন্তু মোহনবাগান এসজি-র ফুটবলারদের শুক্রবার শিলং থেকে কলকাতায় ফিরতে যে ধকল পোহাতে হল, তার পরে তারা শনিবার ফাইনালের প্রস্তুতি নিতে কী ভাবে মাঠে নামবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।


বুধবার শিলংয়ে ছাত্রদের একটি বাইক মিছিলকে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়েছিল, তা পরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। গত ২৪ ঘণ্টায় মেঘালয়ে সরকারি সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ এবং পেট্রল বোমা হামলার একাধিক ঘটনা ঘটে।

এর ফলে অসমে অবরোধের জেরে আন্তঃরাজ্য যান চলাচলও ব্যাহত হয়। শিলংয়ে একটি পুলিশ ফাঁড়ি লক্ষ্য করে পেট্রল বোমা ছোড়া হয়। বুধবারের হিংসার পর এমন হামলার ঘটনায় মেঘালয়ের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বুধবারের ঘটনায় অন্তত ৩১টি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

শুক্রবার এই পরিস্থিতির মধ্যে থেকেই বেরিয়ে আসতে হয় মোহনবাগান এসজি-র ফুটবলারদের। মোহনবাগান সূত্রে জানা যায়, পুরো দলকে একসঙ্গে ফিরিয়ে আনার মতো বিমান টিকিটেরও ব্যবস্থা করতে পারেনি ক্লাব কর্তৃপক্ষ। ফুটবলারদের সফরের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব ডুরান্ড কাপ আয়োজকদেরই নেওয়া উচিত। কিন্তু অদ্ভুত নিয়মে তারা সেই দায়িত্ব নেয়নি। সব রকম ব্যবস্থা ক্লাবকেই করতে হয়।

শুক্রবার চার দফায় কলকাতায় ফেরেন মোহনবাগান ফুটবলাররা। শিলংয়ে হিংসার পরিস্থিতির মধ্যেই শুক্রবার সকালে দলের বিদেশি ফুটবলাররা, বিদেশি কোচ ও তাঁর সহকারী-সহ ন’জনকে শিলং বিমানবন্দর থেকে কলকাতার বিমানে তুলে দেওয়া হয়।

এর পরেই শুরু হয় যাবতীয় নাটক। ক্লাব সূত্রে জানা গিয়েছে, দলের বাকিদের জন্য শিলং থেকে কলকাতার সরাসরি বিমানের টিকিটের ব্যবস্থা করা যায়নি। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে, যেখানে অবরোধের জেরে আন্তঃরাজ্য যান চলাচলও ব্যাহত হয়, সেখানে তাঁদের গুয়াহাটিতে এনে কলকাতার বিমান ধরানোটা ছিল একটা বড়সড় চ্যালেঞ্জ।

একটি ছোটো বাসে শিলং থেকে গুয়াহাটি সফর শুরু করেন সবুজ-মেরুন ফুটবলার ও কর্তারা। যে রাস্তা দু’ঘণ্টা লাগে, সেই রাস্তা তাঁদের চার ঘণ্টায় পেরিয়ে বিকেল নাগাদ বিমানবন্দরে পৌঁছতে হয়। কারণ, সোজা রাস্তা দিয়ে আসতে না পেরে ফুটবলারদের ঘুরপথে গুয়াহাটি বিমানবন্দরে পৌঁছতে হয়। বিকেলে তাঁদের বাস বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পরে তিনটি আলাদা বিমানে ফুটবলার ও কর্তারা কলকাতায় ফিরতে পারেন। শেষ দফায় আসা ফুটবলাররা কলকাতায় এসে পৌঁছন রাত আটটায়।

শিলংয়ের সেমিফাইনালে খেলার পর শুক্রবার তাদের বিশ্রামের দিন ছিল। ম্যাচের পরের দিন সাধারণত যে কোনো দলের রিকভারি সেশন হয়। কিন্তু শুক্রবার সারাটা দিন মোহনবাগান ফুটবলারদের রাস্তাতেই কেটে যায় প্রবল মানসিক উদ্বেগের মধ্যে। শনিবার ডুরান্ড ফাইনালে কলকাতা ডার্বি। তার আগে মাত্র একদিন প্রস্তুতিতে নামার সুযোগ পাচ্ছে সবুজ-মেরুন বাহিনী। অন্যদিকে, ইস্টবেঙ্গল এফসি বুধবার ঘরের মাঠে সেমিফাইনাল জেতার পর দুদিন পুরোদমে অনুশীলনের সুযোগ তো পাচ্ছেই, তাদের কোনো সফরের ধকলও পোহাতে হয়নি।

দুই ফাইনালিস্টের অবস্থার মধ্যে এই ফারাক নিয়েই সরব মোহনবাগান সমর্থকেরা। রবিবার ডার্বি জিতবে কারা, তা কেউই বলতে পারে না। কিন্তু মোহনবাগান জিততে না পারলে এই প্রশ্ন উঠবেই।