ডুরান্ড কাপের ম্যাচে আজ জোড়া ‘এম’-এর ঝলক দেখতে পাবেন মোহনবাগান সমর্থকেরা? কী বলছেন কোচ প্যানোস?

Image: MBSG

ডুরান্ড কাপ (Durand Cup) গ্রুপ পর্বে আজ মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের কাছে জয়ের হ্যাটট্রিক খুবই গুরুত্বপূর্ণ যেমন, তেমনই সবুজ-মেরুন সমর্থকদের কাছে বেশি জরুরি দুই ‘এম’-এর ঝলক দেখা। দুই ‘এম’ কারা, তা নিশ্চয়ই অনেকে বুঝতে পেরেছেন। ব্রাজিলের মিগুয়েল ফিগেরা ও অস্ট্রেলিয়ার জেমি ম্যাকলারেন।

দিমি পেট্রাটস ও জেসন কামিংস জুটির আক্রমণের দিন শেষ সবুজ-মেরুন বাহিনীতে। এ বার নতুন যুগ শুরু করতে চলেছেন এই অ্যাটাকার ব্রাজিলীয়-অস্ট্রেলীয় জুটি। এই মরসুমে মোহনবাগান এসজি (Mohan Bagun SG)-কে ঝুরি ঝুরি গোল এনে দেবেন এই দুজন, এমনই প্রত্যাশা সবুজ মেরুন ফ্যানদের। তাই আজ বিকেলে কিশোরভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ডুরান্ড কাপের (Durand Cup) গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের এক ঝলক দেখে নিতে চান সমর্থকেরা। গ্রিক কোচ প্যানাগিওতিস দিলমপেরিস তেমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন।

মিগুয়েল গত বছর ইস্টবেঙ্গল এফসি (East Bengal FC) -কে প্রচুর গোল করতে সাহায্য করেছেন। ভারতে এসে প্রথম বছরেই জাত চিনিয়ে দেন তিনি। আইএসএলে (ISL) নিজে দুটি গোল করেন ও পাঁচটি গোলে অ্যাসিস্ট করেন তিনি। আইএসএলের (ISL) সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়ে গোল্ডেন বল জিতে নেন তিনি। তার আগে বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংসের হয়ে টানা তিন মরসুম খেলেছেন। তাই উপমহাদেশের আবহাওয়া পরিবেশ এবং কলকাতার ফুটবলের সমর্থকদের এবং এখানকার মাঠের প্রতিটি ঘাস তাঁর চেনা হয়ে গিয়েছে বলা যায়।


আরও পড়ুন: ‘ক্রিকেটাররা তো যন্ত্র নন’– বুমরাহ-সুদর্শনদের আগলে কেন এ কথা বললেন লক্ষ্মণ?

এ বার তাঁকে পেতে মোহনবাগান (Mohan Bagun) এসজি ঝাঁপিয়েছিল সেই কারণেই। এমন একজন পরীক্ষিত ফুটবলারকে নিয়ে তারা পেট্রাটস বা কামিংসের শূন্যস্থান পূরণ করতে চান। সত্যিই এই প্রত্যাশা পূরণ করতে কতটা পারবেন মিগুয়েল, সোমবার মাঠে নামলে তার ইঙ্গিত পাওয়া যাবে।

সবুজ-মেরুন কোচ প্যানোস অবশ্য যা ইঙ্গিত দিয়েছন, তাতে মিগুয়েল বা ম্যাকলারেন—কাউকেই শুরু থেকে খেলতে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা কম। তিনি বলেন, ‘আশা করছি এই দুই বিদেশিকে কিছুটা সময় খেলাতে পারব এই ম্যাচে। এই মুহূর্তে ওদের শারীরিক সক্ষমতা ৪৫ মিনিট খেলার মতোও নেই। তাই শুরু থেকে নামানোর ঝুঁকি নেওয়া যাবে না’।

গত মরসুমে আইএসএলে (ISL)  দশটি গোল করেন ম্যাকলারেন। সুপার কাপে দুটি ও ডুরান্ড কাপে (Durand Cup) একটি গোলও করেছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে ১৯ ম্যাাচে ১৩ গোল করা ‘ম্যাকা’ এখন সবুজ-মেরুন সমর্থকদের মণি। তবে তিনি এ বার একটু দেরিতে কলকাতায় এসে পৌঁছনোয় অনুশীলনে যোগ দিতে দেরি করেছেন। ফলে এখনও পুরো ম্যাচে খেলার জন্য তৈরি হননি। অনুশীলনেও আলাদা কসরৎ করছেন তিনি। তিনি ঠিক কতটা ম্যাচ ফিট, তা এই ম্যাচে বুঝে নিতে চান কোচ। কারণ, ডুরান্ড কাপের (Durand Cup) নক আউট পর্বে এই দুই বিদেশিকে প্রয়োজন হবে তাঁর। এ ছাড়াও আলবার্তো রদ্রিগেজ তো থাকবেনই।

আজ যে দলের বিরুদ্ধে খেলতে নামবে সবুজ-মেরুন বাহিনী, সেই সিআইএসএফ (CISF) প্রোটেক্টর্সকে কয়েকদিন আগে ৮-০-য় হারিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল (East Bengal FC) । দুই ম্যাচে দশ গোল খেয়েছে তারা। তাই এই ম্যাচে জিততে অসুবিধা হওয়ারই কথা নয় তাদের। তাই এই ম্যাচে দলের হাল-হকিকত বুঝে নিতে চান কোচ প্যানোস।

আরও পড়ুন: জয়সওয়ালের ঝোড়ো পঞ্চাশ, সিরাজের ‘ক্যামিও’! শ্রীলঙ্কা একাদশকে হারিয়ে টেস্টের আগে জয় ভারতের

তিনি বলেন, ‘শেষ দুটো ম্যাচের ভিত্তিতে দলের বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়। অনুশীলনে যা দেখেছি, তাতে বুঝতে পেরেছি, আমি দলকে দিয়ে যে রকম ফুটবল খেলাতে চাই, ছেলেরা সেই স্টাইলটা পছন্দ করছে এবং সেই স্টাইল রপ্ত করার খুব চেষ্টা করছে। তবে কখনো ক্লান্ত হয়ে পড়ছে ওরা, কখনো মনঃসংযোগ কমে যাচ্ছে। আরো অনুশীলন করতে হবে’।

মোহনবাগান (Mohan Bagun)  ছাড়াও এই গ্রুপ থেকে ইস্টবেঙ্গল  কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে কি না, তা বুঝতে এখনও তাদের কয়েকটা দিন অপেক্ষা করতে হবে। তিন ম্যাচে ছয় পয়েন্ট ও ১২-র গোলপার্থক্য নিয়ে তারা ‘এ’ গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। ‘বি’ গ্রুপে শেষ ম্যাচে মহমেডান ভারতীয় সেনা দলকে হারালে তাদেরও হবে ছয় পয়েন্ট। তবে ইস্টবেঙ্গলের মতো ১৩ গোল করতে পারেনি তারা, করেছে ছয় গোল ও খেয়েছে তিন।

সত্যি বলতে অন্যান্য গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানাধিকারী দলগুলির কোনওটিই ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal FC)  মতো ১৩ গোল করতে পারেনি বা তাদের কারো গোলপার্থক্যও ১২ নয়। তাদের কাছাকাছি রয়েছে নর্থইস্ট ইউনাইটেড, যারা ‘এফ’ গ্রুপে দুই ম্যাচে দশ গোল দিয়ে মাত্র এক গোল খেয়েছে। অর্থাৎ, তাদের গোলপার্থক্য ৯। তাই অনেকেই ধরে রেখেছেন দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলগুলির মধ্যে সেরা দুটি দল হিসেবে শেষ আটে পৌঁছবে ইস্টবেঙ্গল (East Bengal FC) এবং নর্থইস্ট-ই।

দেখুন:<iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/qE8uMXym_WI?si=9D6nTZeT5OT0AH8e” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>

তবে যতক্ষণ না গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ শেষ হচ্ছে, তারা শেষ আটে উঠছেই—এই কথা বলা ঠিক নয়। নর্থইস্টের শেষ ম্যাচ কাল, মঙ্গলবার। সেই ম্যাচের পর কিছুটা আভাস পাওয়া যেতে পারে। তবে নিশ্চিন্ত হওয়ার কোনো উপায় নেই। কারণ, ফুটবলে কখন কী হয়, কিছুই বলা যায় না।