‘উন্নত’ ফুটবলে মন ভরল না, তবু পাঞ্জাবকে ২-১-এ হারিয়ে লিগ টেবলের শীর্ষে উঠে এল মোহনবাগান

Arween After Goal Photo-SNS

দলের পারফরম্যান্সে উন্নতি করাই লক্ষ্য বলে আগের দিন জানিয়েছিলেন মোহনবাগান কোচ। পারফরম্যান্সে কিছুটা উন্নতি দেখা গেল ঠিকই, কিন্তু সমর্থকদের মন ভরানোর মতো খেলা দেখাতে পারল না তারা। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই গোল খাওয়ার পর লি আরউইন ও দেজান দ্রাজিচের গোলে সবু-মেরুন বাহিনী জিতল ঠিকই, কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে গোল মিস করার সেই পুরনো রোগ ফিরে আসায় আরো বড় ব্যবধানে জিততে পারল না তারা। সেরা ছন্দে না থেকেও ২-১-এ পাঞ্জাব এফসি-কে হারিয়ে আইএসএলে লিগ তালিকার শীর্ষে উঠে এল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট।

আগের দিন কোচ দিম্পেরিস বলেছিলেন, তাদের উন্নত পারফরম্যান্স দেখাতে হবে। শনিবার শুরুর ১৫ মিনিট বাদ দিলে উন্নতিই দেখা দেখা যায় মোহনবাগানের খেলায়। তবে নিজেদের খেলা গোছানোর আগেই মাত্র দু’মিনিটের মাথায় গোল খেয়ে যান বিশাল কয়েথ। কোনসাম সানাথোই সিং-এর কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকেই গোলে শট নেন আলফ্রেড প্লানাস, যা বিশাল কিছু বুঝে ওঠার আগেই জালে জড়িয়ে যায়।

অশনি সঙ্কেত দেখে ক্রমশ শৃঙ্খলাবদ্ধ হওয়ার উদ্যোগ নিতে শুরু করে মোহনবাগান, কিন্তু তার মধ্যেই মাত্র সাত মিনিটের মাথায় ফের অবধারিত গোলের শট নেন মাংলেনথাঙ কিপজেন, যা বিশাল দুর্দান্ত দক্ষতায় না বাঁচালে আরো পিছিয়ে যেত কলকাতার দল। মরার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো সহাল আব্দুল সামাদ চোট পেয়ে মাঠ ছেড়ে চলে যান। তাঁর জায়গায় নামেন অনিরুদ্ধ থাপা।


ছন্দ ফিরে পেতে মোহনবাাগান নিয়ে নেয় প্রায় মিনিট ১৫ এবং ১৮ মিনিটের মাথাতেই সমতা আনেন লি আরউইন। অনিরুদ্ধ থাপার পা থেকে আসা বলে বক্সের বাঁ দিক থেকে নেওয়া বাঁ পায়ে শট নেন লি আরউইন, যাতে গোলকিপারের কিছুই করার ছিল না।

ক্রমশ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে নিয়ে চলে আসে মোহনবাগান এবং আক্রমণের সংখ্যা ও তীব্রতা ক্রমশ বাড়াতে থাকে তারা। রাহুল ভেকে, আরউইনরা গোলের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এর মধ্যে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের সঙ্গে সঙ্ঘর্ষে চোখে চোট পান আলবার্তো রদ্রিগেজ। তখন মনে হচ্ছিল, তিনিও হয়তো মাঠ ছেড়ে চলে যাবেন। তবে আলবার্তো মাঠ ছাড়েননি।

এরিয়াল বলের দখল নিতে গিয়ে মেসি বৌলির সঙ্গে সঙ্ঘর্ষে চোট পান রাহুল ভেকেও। কিন্তু তিনিও মাঠ ছেড়ে যাননি। এতটাই মরিয়া ছিলেন সবুজ-মেরুন ফুটবলাররা। ৩৯ মিনিটের মাথায় সামির জেলকোভিচের গোলমুখী শট দুর্দান্ত সেভ করেন গোলকিপার অর্শদীপ সিং।

Drazic After Goal Photo-SNS

মোহনবাগানের লক্ষ্যপূরণ হয় তার ঠিক দু’মিনিট পরেই, ৪২ মিনিটের মাথায়। আরউইনের অ্যাসিস্টে এ বার বাঁ পায়ে গোলে বল ঠেলে দেন দেজান দ্রাজিচ। বিপক্ষের এক ফুটবলারের গায়ে লেগে গতিপথ বদলে তা জালে জড়িয়ে যায়। ডিফ্লেকশন হওয়ায় গোলকিপারও বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। ২-১-এ এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় হোম টিম।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে মেসি বৌলি একটু বেশিই তৎপর হয়ে ওঠেন এবং বেশ কয়েকবার সুযোগ তৈরির চেষ্টা করেন। গোলদাতা প্লানাসও তাঁর সঙ্গে সমঝোতা তৈরি করে খেলায় ফেরার চেষ্টা করছিলেন। তিনিও সমতা আনার চেষ্টায় একবার গোলে শট নেন। তবে সফল হননি। প্রথমার্ধে যতটা আকর্ষণীয় ফুটবল দেখা গিয়েছিল, দ্বিতীয়ার্ধের ফুটবল ততটা আকর্ষণীয় হয়ে ওঠেনি।

৭২ মিনিটের মাথায় দ্রাজিচের জায়গায় লিস্টনকে নামায় মোহনবাগান, যাতে আক্রমণে নতুন করে গতি আসে। গত ম্যাচে লিস্টনের ক্রস থেকেই গোল পেয়েছিলেন মনবীর। এ দিনও ৭৫ মিনিটের মাথায় লিস্টন মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে প্রতিপক্ষের বক্সে ঢুকে গোল প্রায় সাজিয়ে দেন আরউইনকে। কিন্তু গোলকিপার অর্শদীপ তাঁর পা থেকে বল প্রায় কেড়ে নিয়ে সেই অবধারিত গোলের সম্ভাবনা ভেস্তে দেন। পরের মিনিটেই অ্যালফ্রেডের চেষ্টা প্রায় একই ভাবে বিফলে যায় বিশালের তরপরতায়।

নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার সাত মিনিট আগে ফের বক্সের মধ্যে থেকে নেওয়া মনবীরের শট আটকে দেন অর্শদীপ। পরের মিনিটেই বক্সের বাঁ দিক থেকে নেওয়া লিস্টনের শটও আটকান তিনি। শেষ মিনিটে আরউইনের জায়গায় লালিয়ানজুয়ালা ছাঙতেকে নামান মোহনবাগান কোচ। কিন্তু তাতেও তিনি গোলসংখ্যা বাড়াতে পারেননি। সংযুক্ত সময়ে লিস্টন ও পাঞ্জাবের সুহেল সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও হাতছাড়া করেন। রেফারির সঙ্গে তর্ক করে মোহনবাগান কোচকে হলুদ কার্ডও দেখতে হয়।