মাঝরাতে শহরে দুই বিদেশি তারকা মিগুয়েল, ইকোনোমিডিস, বিমানবন্দরে দুই প্রধানের সমর্থকদের মধ্যে প্রায় হাতাহাতির উপক্রম

Miguel-Ikonomidis Photo-SNS

মাঝরাতে শহরে এসে পড়লেন মোহনবাগানের ব্রাজিলীয় মিডিও মিগুয়েল ফিগেরা, যিনি গত মরসুমে ইস্টবেঙ্গলে খেলার পর এ মরসুমে সই করেছেন তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান সুপার জায়ান্টে। মিগুয়েল আসার কিছুক্ষণ আগেই বিমানবন্দরে এসে পৌঁছন ইস্টবেঙ্গলের নতুন বিদেশি অতিথি ক্রিস ইকোনোমিডিস। এই দুই খেলোয়াড়কেই অভ্যর্থনা জানাতে মাঝরাতে উপস্থিত ছিলেন দুই ক্লাবের সমর্থকেরা। দুই বিদেশি খেলোয়াড়ের আগমন নিয়ে তারা নিজেদের মধ্যে বচসায় জড়িয়ে পড়েন এবং হাতাহাতিরও উপক্রম হয়।

বুধবার মাঝরাতে প্রায় তিনটে নাগাদ শহরে এসে পৌঁছন মোহনবাগানের বিদেশি ফুটবলার মিগুয়েল। তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন প্রায় শতিনেক সমর্থক ও ক্লাবের কয়েকজন কর্মকর্তা। তার আধঘণ্টা আগে এসে পৌঁছন অস্ট্রেলীয় ফরোয়ার্ড ইকোনোমিডিস। তাঁর জন্যও বিমাবন্দরে উপস্থিত হন প্রায় সমসংখ্যক লাল-হলুদ সমর্থক।

ইকোনোমিডিস আসার পরই তাঁকে ঘিরে শুরু হয় সমর্থকদের হইচই, উন্মাদনা। বিমানবন্দরে নতুন বিদেশি ফুটবলারের সঙ্গে সেলফি, ভিডিও তোলার জন্য পাগল হয়ে যান সমর্থকেরা, স্লোগান ওঠে ‘জয় ইস্টবেঙ্গল’। এমন অভ্যর্থনা পেয়ে অবাক ইকোনোমিডিস প্রথমে হতবাক হয়ে যান। পরে ধাতস্থ হয়ে সমর্থকদের আবদার মেটান এবং নিরাপত্তারক্ষীদের বেষ্টনির মধ্যে থেকে ধীরে ধীরে গাড়িতে উঠে হোটেলের পথে রওনা হন।


এই সময়ই এক জায়গায় জড়ো হয়ে থাকা মোহনবাগান সমর্থকদের মধ্যে থেকে কয়েকজন আবেগ ধরে রাখতে না পেরে কিছু কটূ মন্তব্য করেন এবং তার পরেই দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয় কথা কাটাকাটি, বচসা। শেষ পর্যন্ত উপস্থিত নিরাপত্তা বাহিনী এসে অবস্থা সামলান।

উত্তপ্ত পরিস্থিতি দেখে মিগুয়েল আসার সময় নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা বাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের ওখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবু কয়েকজন থেকে যান, তাঁদের প্রাক্তন খেলোয়াড়দের দেখার জন্য ও তাঁর সঙ্গে সেলফি তোলা ও অটোগ্রাফ নেওয়ার জন্য। যেহেতু মিগুয়েল গত মরসুমে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে খেলে গিয়েছেন এবং এ বছরই ইস্টবেঙ্গলে যোগ দিয়েছেন, তাই তাঁর প্রতি লাল-হলুদ সমর্থকদের অনেকেরই অভিমান রয়েছে হয়তো। সেই অভিমান থেকেই হয়তো তাঁকে নিয়ে কয়েকজন কটূ মন্তব্য করে বসেন, যা মেনে নিতে পারেননি সবুজ-মেরুন সমর্থকেরা।

চলতি ডুরান্ড কাপের প্রথম ম্যাচেই মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ডার্বি জিতে মরসুমের শুরুটা করে দুর্দান্ত ভাবে। ডার্বি হারের হতাশা কাটিয়ে ইস্টবেঙ্গল ডুরান্ড কাপের দ্বিতীয় ম্যাচে সিআইএসএফ প্রোটেক্টর্সকে ৮-০-য় হারিয়ে উল্লসিত হয়ে ওঠে। কিন্তু মঙ্গলবার মোহনবাগান এসজি-ও তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে সাউথ ইউনাইটেডকে একই ব্যবধানে হারিয়ে লাল-হলুদ শিবিরের আনন্দ অনেকটাই মাটি করে দিয়েছে।

ডুরান্ড কাপে আর একটি করে ম্যাচ বাকি দুই প্রধানের। তারা যেহেতু একই গ্রুপে রয়েছে এবং যেহেতু একটি দলই এই গ্রুপ থেকে গ্রুপসেরা হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে, তাই শেষ ম্যাচে দুই দলের জয় ছাড়া কোনো রাস্তা নেই। আগামী শুক্রবার ইস্টবেঙ্গল খেলবে সাউথ ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ও সোমবার মোহনবাগান খেলবে সিআইএসএফ-এর বিরুদ্ধে। শেষ ম্যাচে মোহনবাগান ড্র করলেই শেষ আটে চলে যাবে। তবে শেষ আটের দৌড়ে টিকে থাকতে হলে ইস্টবেঙ্গলকে জিততেই হবে।

দুই নম্বরে থেকেও শেষ আটে ওঠার রাস্তা অবশ্য খোলা থাকবে ইস্টবেঙ্গলের সামনে। কারণ, টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী ছ’টি গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানাধিকারীদের মধ্যে সেরা দুই দলকে শেষ আটে জায়গা দেওয়া হবে। সে জন্য পয়েন্ট, গোলসংখ্যা ও গোলপার্থক্য বিবেচনা করা হবে। কোনোটিই খারাপ নয় নয় লাল-হলুদ ব্রিগেডের। তাই তাদেরও কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট রয়েছে।

দুই প্রধানই ডুরান্ডের নক আউট পর্বে উঠলে তাদের বিদেশিদের মাঠে নামতে দেখা যেতে পারে। তার আগে বিমানবন্দরে দুই বিদেশির আগমন ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে যা হল, তা থেকেই ইঙ্গিত পাওয়া যায়, নক আউটের কোনো পর্যায়ে ফের দুই দল মুখোমুখি হলে এবং তাদের পুরো দল নামলে সমর্থকদের মধ্যে এ বার কী কী হতে পারে।