বিশ্বকাপ ফুটবলে ফ্রান্সের নাম শুনলেই কিলিয়ান এমবাপের দুরন্ত ভূমিকার কথা সবার মনে আলোড়ন তোলে। তাঁর অসাধারণ খেলা সবাইকে মাতিয়ে রাখে। তাই তো তারকা ফুটবলারদের মধ্যে উজ্জ্বল নাম এমবাপে। ফ্রান্স দলে সবচেয়ে ভরসা বলতেই এমবাপে। তাই তো সারাবিশ্ব অপেক্ষা করে থাকে এমবাপের ফ্রান্সের খেলা দেখবার জন্য। তারপরে কোচ দিদিয়ে দেশঁ যে দলের দায়িত্বে রয়েছেন, সেই দল চমক দেবে এটাই স্বাভাবিক। তারপরে দিদিয়ে দেশঁ ফুটবলার ও কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জেতার নজির রয়েছে।
ফ্রান্সের কথা উঠলেই বেকেনবাউয়ার ও মারিও জাগালোর স্বপ্নের খেলা চোখে ভাসে। আর এবারে বিশ্বকাপ খেতাব তুলে নেওয়ার জন্য অবশ্যই প্রধান দাবিদার ফ্রান্স। এই বারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স দল অভাবনীয় ফুটবল উপহার দেবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। গত কাতার বিশ্বকাপে অল্পের জন্য বিশ্বকাপটা হাতছাড়া হয়ে গেছে এমবাপেদের। আর্জেন্টিনার সঙ্গে তীব্র লড়াই করে পেনাল্টি শুট আউটে ফাইনালে হেরে গিয়ে এমবাপেদের রানার্স-আপ হয়ে দেশে ফিরে যেতে হয়। সেই কষ্ট ভুলে যেতে কোচ দিদিয়ে দেশঁ নতুন ছকে এবারে বাজিমাত করার জন্যে অপেক্ষায় রয়েছেন।
নিঃসন্দেহে আক্রমণে শিল্পী ফুটবলার বলতেই কিলিয়ান এমবাপে। এমবাপে এবারে দুটো গোল করতে পারলেই জাঁ ফঁতের বিশ্বকাপে ১৩ গোলের রেকর্ডকে স্পর্শ করে ফেলবেন। গত সাতবারের বিশ্বকাপের মধ্যে ফ্রান্স চারবার ফাইনাল খেলেছে। তাই চলতি বিশ্বকাপে দারুণ ছন্দে থাকা এমবাপেরা প্রতিপক্ষ দলগুলোকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে চান। লিওনেল মেসি বা ক্রিশ্চিযানো রোনাল্ডোর পাশে এমবাপের ফুটবল শৈলি ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বিস্ময়। ফ্রান্স দলে এমবাপের পাশে মাইকেল ওলিসে আর মার্কাস থুরামের দক্ষতা প্রতিপক্ষ দলের কাছে বিপদের কারণ হতে পারে। পাশাপাশি, মাঝমাঠের শক্ত ভিত বলতেই অরেলিয়ঁ চুয়ামেনি এবং অদ্রিয়েন র্যাবিয়ঁর। ফ্রান্স দলের শক্তি যে কোনও দলের কাছে ঈর্ষার কারণ হতে পারে। কোচ দিদিয়ে সবসময় অঙ্ক কষে খেলতে ভালোবাসেন। ফুটবলের শেষ পরিচয় গোল। গোল করার লক্ষ্যে যে কোনও সময়ে ছক পরিবর্তন করে বিপক্ষ দলকে সমস্যায় ফেলতে চেষ্টা করেন। তাই প্রতিপক্ষ দলের পরিস্থিতি আঁচ করে কখনও ৪-২-৩-১ বা ৪-৫-১ ছকের রণকৌশলকে সার্থক রূপ দিতে চেষ্টা করেন।
প্রথম ম্যাচে ফ্রান্সের সঙ্গে লড়াই করতে হবে তাই সেনেগাল শিবির বেশ চিন্তিত। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ফ্রান্স ৩ নম্বরে আর সেনেগাল অবস্থান করছে ১৫ নম্বরে। সেনেগাল বেশ কিছুটা পিছিয়ে থেকে ফুটবল যুদ্ধে নামবে। তবে তাদের মধ্যে একটা লড়াকু মনোভাব দেখতে পাওয়া যাবে বলে অনেকেই ভাবছেন। ২০০২ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে নেমে সেনেগাল শেষ আটে পৌঁছে গিয়েছিল। এবারে সেনেগাল চতুর্থবার বিশ্বকাপ খেলতে নামছে। দলের আক্রমণ ভাগের ফুটবলার সাদিও মানে হঠাৎ হঠাৎ ছক বদলে দিয়ে গোল করে চমক দিয়ে থাকেন। এছাড়া নিকোলাস জ্যাকসন, ইলমান এনদিয়ায়ে ও ইসমাইলরা অঘটন ঘটাতে ওস্তাদ। রক্ষণভাগে বড় শক্তি কালিদু কুলিবালি এবং এডুয়ার্ড মেন্ডি। দলের কোচ পাপে থিয়াউ ফুটবলারদের কড়া নজরে রেখে দেন। কোচ ৪-৩-৩ ছকে খেলাতে পছন্দ করেন। তিনি সবসময় ফুটবলারদের পরীক্ষা নিরীক্ষা করে থাকেন। এখন দেখার বিষয় ফ্রান্সের বিরুদ্ধে সেনেগাল কীভাবে লড়াকু খেলার পরিচয় দিতে পারে।