বিশ্বকাপ যত শেষের দিকে এগোচ্ছে, ততই জমে উঠছে গোল্ডেন বুটের লড়াই। মরক্কোর বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে ২-০ জয়ে গোল করে ফ্রান্সকে সেমিফাইনালে তোলার পাশাপাশি লিওনেল মেসির সঙ্গে ব্যক্তিগত লড়াইটাও আরও আকর্ষণীয় করে তুললেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এই ম্যাচে গোলের ফলে চলতি বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়াল আট, যা আর্জেন্টিনার অধিনায়ক মেসির সমান।
এই লড়াইটা চলবে। কারণ, দুই তারকাই এখনও বিশ্বকাপে টিকে আছেন। ফলে সেমিফাইনাল এবং সম্ভাব্য ফাইনাল— দুই ম্যাচই গোল্ডেন বুটের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিতে পারে। বর্তমানে এমবাপ্পে ও মেসি দু’জনেরই আটটি করে গোল রয়েছে। ফিফার টাইব্রেক নিয়ম অনুযায়ী সমান গোল হলে অ্যাসিস্ট এবং কম সময়ে সেই গোল করার হিসাব বিবেচনা করা হয়। সেই কারণেই এই মুহূর্তে এই তালিকায় এমবাপ্পেই সামান্য এগিয়ে রয়েছেন।
মরক্কোর বিরুদ্ধে ম্যাচটি এমবাপ্পের কাছে মোটেই সহজ ছিল না। প্রথমার্ধে তাঁর নেওয়া পেনাল্টি রুখে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক। কিন্তু তিনি বড় খেলোয়াড়। দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত ভাবে ঘুরে দাঁড়ান ফরাসি অধিনায়ক। ৬০ মিনিটে বাঁকানো শটে বল জালে জড়িয়ে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন তিনি। মাত্র ছ’মিনিট পরে উসমান দেম্বেলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ম্যাচ কার্যত শেষ করে দেন।
এমবাপ্পের এই গোল শুধুমাত্র গোল্ডেন বুটের লড়াইকেই জমিয়ে তোলেনি, বিশ্বকাপের ইতিহাসেও তাঁকে আরও উঁচু আসনে বসিয়ে দিয়েছে। এটি ছিল তাঁর বিশ্বকাপ কেরিয়ারের ২০তম গোল, ফলে এই তালিকায় তিনি লিওনেল মেসিকে ছুঁয়ে ফেলেছেন। মাত্র ২৭ বছর বয়সে এই কীর্তি তাঁর অসাধারণ ধারাবাহিকতারই প্রমাণ।
ফ্রান্সের দিক থেকেও ছবিটা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। দিদিয়ে দেশঁর দল টানা তৃতীয় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠল এবং নকআউট পর্বে এখনও পর্যন্ত একটি গোলও হজম করেনি। শক্তিশালী রক্ষণভাগের সঙ্গে এমবাপ্পের দুর্দান্ত ফর্ম ফ্রান্সকে বিশ্ব খেতাবের অন্যতম দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
অন্যদিকে, মেসির সামনে এখনও কোয়ার্টার ফাইনালে সুইৎজারল্যান্ডের চ্যালেঞ্জ। যদি আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে ওঠে, তাহলে গোল্ডেন বুটের লড়াই আরও জমে যাবে। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এখন প্রশ্ন একটাই—শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত এই মর্যাদার লড়াইয়ে এগিয়ে থাকবেন এমবাপ্পে, নাকি শেষ হাসি হাসবেন মেসি? আপাতত দু’জনই সমানে সমান, আর বিশ্বকাপের শেষ অধ্যায়ে এই দ্বৈরথই হয়ে উঠতে পারে টুর্নামেন্টের সেরা আকর্ষণ।