গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নরওয়েকে ৪-১-এ প্রায় উড়িয়ে দিয়ে দুর্দান্তভাবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হল ফ্রান্স। যদিও ম্যাচের নায়ক ছিলেন উসমান দেম্বেলে। মাত্র ২৫ মিনিটের ব্যবধানে হ্যাটট্রিক করে তিনিই কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন। পরে সংযুক্ত সময়ে দেজিরে দুয়ে আরও একটি গোল করে জয় নিশ্চিত করেন। এই জয়ে একশো শতাংশ সাফল্য নিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করল ফরাসিরা।
ম্যাচ শেষে ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে সতীর্থদের প্রশংসায় ভরিয়ে দেন। তাঁর কথায়, পুরো দল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অসাধারণ মানসিকতা দেখিয়েছে। এমবাপে বলেন, ‘আজ আমরা দেখিয়ে দিয়েছি, এই দল কতটা শক্তিশালী হতে পারে। সবাই নিজেদের দায়িত্ব অসাধারণভাবে পালন করেছে। উসমান (দেম্বেলে) অবিশ্বাস্য খেলেছে। ওর মতো একজন ফুটবলার দলে থাকলে ম্যাচের ছবি মুহূর্তের মধ্যে বদলে যেতে পারে। তবে এটা শুধু একজনের পারফরম্যান্স নয়, পুরো দলের জয়।’
দেম্বেলের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি ওর জন্য ভীষণ খুশি। ও অনেক পরিশ্রম করেছে এবং আজ সেই পরিশ্রমের পুরস্কার পেয়েছে। ওর এই পারফরম্যান্স আমাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেবে।’ নকআউট পর্বের আগে দলের মানসিকতা নিয়েও আশাবাদী ফরাসি অধিনায়ক। এমবাপের কথায়, ‘গ্রুপ পর্ব শেষ হয়েছে, কিন্তু আসল লড়াই এখন শুরু। আমাদের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। আমরা জানি সামনে আরও কঠিন প্রতিপক্ষ অপেক্ষা করছে। তবে আমরা নিজেদের সামর্থ্যের উপর ভরসা রাখছি।’
যেহেতু দুই দলই নক আউটে উঠে গিয়েছে এবং এটি নিয়মরক্ষার ম্যাচ ছিল, তাই নরওয়ে প্রথম দলের দশজনকে এ দিন বিশ্রাম দেয়। যাঁরা ভেবেছিলেন, এই ম্যাচে এমবাপে ও এরলিং হালান্ডের দ্বৈরথ দেখবেন, তাঁরা হালান্ডকে মাঠে না দেখতে পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন। এমবাপে ৮৬ মিনিট পর্যন্ত মাঠে থাকলেও হালান্ডকে রিজার্ভ বেঞ্চ থেকে মাঠে নামাননি কোচ। শেষ ৩২-এর রাউন্ডে আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে খেলতে হবে তাদের। সেই ম্যাচের জন্যই বাঁচিয়ে রাখা হল মূল দলের খেলোয়াড়দের।
ফ্রান্সের পুরো দল খেললেও এ দিন ডাগ আউটে ছিলেন না তাদের কোচ দিদিয়ে দেশঁ। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে ইরাকের বিরুদ্ধে ম্যাচের পরই তিনি দেশে ফিরে যান এই এই কদিনের জন্য দলের দায়িত্ব দিয়ে যান সহকারী কোচ গাই স্তেফানকে। তিনিই এ দিন মাঠের বাইরে থেকে দল পরিচালনা করেন।এ দিন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ফ্রান্স। সপ্তম মিনিটে গোলের খাতা খোলেন দেম্বেলে। এরপর ২০ ও ৩২ মিনিটে আরও দুটি গোল করে প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন তিনি। বিশ্বকাপে এটিই সবচেয়ে কম সময়ের ব্যবধানে করা হ্যাটট্রিক।
ম্যাচের শুরু থেকেই ঝড় তোলে ফ্রান্স। খেলা শুরুর এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে কিলিয়ান এমবাপ্পের জোরালো শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। এরপর এমবাপ্পের নিখুঁত ক্রসফিল্ড পাস থেকে বল পান উসমান দেম্বেলে। ডান দিক থেকে ভেতরে কেটে এসে নিজের চেনা ভঙ্গিতে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে বল জড়িয়ে দেন দূরের পোস্টের কোণে, আর তাতেই ফ্রান্স এগিয়ে যায়।
দেম্বেলের দ্বিতীয় গোলটি ছিল আরও বেশি দৃষ্টিনন্দন। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তাঁর দুর্দান্ত শট ফের জালে জড়িয়ে যায়। এর পর ৩২তম মিনিটে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি—এই বিশ্বকাপে যা তাঁর তৃতীয় গোল। এবারও তিনি নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বলটি গোলরক্ষক এগিল সেলভিক এবং তাঁর ডানদিকের পোস্টের মাঝের ফাঁক দিয়ে জালে পাঠান।
সংযুক্ত সময়ে গোল করে ‘লে ব্লু’-র জয়ের ছবিতে শেষ তুলির টান দেন দেজিরে দুয়ে। বিশ্বকাপের মূল পর্বে এটি ছিল তাঁর প্রথম গোল, যা ফ্রান্সের দুর্দান্ত ৪-১ ব্যবধানের জয়কে আরও স্মরণীয় করে রাখে। নরওয়ের হয়ে থেলো আসগার্ড একটি গোল শোধ করেন ২১ মিনিটের মাথায়।
এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচে পুরো ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থান দখল করল ফ্রান্স। পরাজিত হলেও আগের দুই ম্যাচের ফলের সুবাদে নরওয়েও রানার্স-আপ হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে।