বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে একটি গোল করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও প্রথমার্ধে একটি পেনাল্টি নষ্ট করেন ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ম্যাচ শেষে সেই ব্যর্থতার কারণ নিজেই ব্যাখ্যা করলেন ফরাসি তারকা। তাঁর দাবি, ভার-কে ঘিরে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তিই তাঁর মনোযোগ নষ্ট করে দেয়।
ম্যাচের শুরুতেই ফ্রান্স পেনাল্টি পায়। কিন্তু এমবাপ্পে শট নেওয়ার জন্য যখন তৈরি, ঠিক তখনই ভার-এর মাধ্যমে ঘটনাটি দীর্ঘক্ষণ খতিয়ে দেখা হয়। সত্যিই পেনাল্টি হওয়া উচিত কি না, তা রেফারিরা সেই ব্যাপারে নিশ্চিত হতেই প্রায় তিন মিনিট ১১ সেকেন্ড লাগিয়ে দেন। এতক্ষণ অপেক্ষার পর যখন স্পট-কিক নিতে যান ফরাসি অধিনায়ক, তখন তিনি গোল করতে ব্যর্থ হন। যদিও দ্বিতীয়ার্ধে গোল করে নিজের ভুল শুধরে নেন তিনি এবং ফ্রান্সকে টানা তৃতীয় বিশ্বকাপের শেষ চারে তোলার অন্যতম নায়ক হয়ে ওঠেন।
ম্যাচের পর সাংবাদিকদের এমবাপ্পে বলেন, ‘আমি মনোযোগ হারিয়ে ফেলেছিলাম। ভার নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, সেটাই আমাকে কিছুটা বিচলিত করে দেয়। এই ধরনের পরিস্থিতিতে আমার আরও মনোযোগী থাকা উচিত ছিল। এটা আমার ভুল। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, পরে আমি ঘুরে দাঁড়িয়ে দলকে সাহায্য করতে পেরেছি।’
পেনাল্টি মিস করলেও সেই ব্যর্থতা দীর্ঘস্থায়ী হতে দেননি ফরাসি অধিনায়ক। দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন তিনি। এরপর উসমান দেম্বেলের গোল ম্যাচের ফল নিশ্চিত করে। এই জয়ের ফলে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল দিদিয়ের দেশঁর দল।
নিজের প্রত্যাবর্তন নিয়ে এমবাপ্পে বলেন, ‘ফুটবলে সব সময় নিখুঁত হওয়া যায় না। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ভুলের পর কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে, সেটাই। আমি চেষ্টা করেছি সেটাই করতে।’
চলতি বিশ্বকাপে এমবাপ্পে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন। মরক্কোর বিপক্ষে গোল করে তিনি গোল্ডেন বুটের দৌড়ে লিওনেল মেসির সমতায় পৌঁছে গিয়েছেন। তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দলগত সাফল্যকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ফরাসি অধিনায়ক।এমবাপ্পের কথায়, ‘ব্যক্তিগত সাফল্য অবশ্যই ভালো লাগে। কিন্তু আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল দলকে জিততে সাহায্য করা। আমরা এখন সেমিফাইনালে, আর আমাদের লক্ষ্য এখানেই থেমে নেই।’
এবার সেমিফাইনালে আরও কঠিন পরীক্ষার সামনে পড়তে চলেছে ফ্রান্স। তবে মরক্কোর বিরুদ্ধে পেনাল্টি মিসের হতাশা কাটিয়ে যেভাবে এমবাপ্পে নিজেকে মেলে ধরেছেন, তাতে ফরাসি শিবিরের আত্মবিশ্বাস যে অনেকটাই বেড়েছে, তা বলাই যায়।