আবার হারতে হল বাংলাকে। জাতীয় যুব ফুটবল ডা. বি সি রায় ট্রফিতে বাংলাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হল মণিপুর। বুধবার বেঙ্গালুরু ফুটবল স্টেডিয়ামে মণিপুর খেলার শুরু থেকেই প্রাধান্য বিস্তার করে বাংলাকে হারায় ৩-১-এ।
গত বছরও ফাইনালে মণিপুর একই ব্যবধানে বাংলাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই, আশা করা গিয়েছিল কোচ গৌতম ঘোষের প্রশিক্ষণে বাংলা দল হয়তো গত বারের হারের বদলা নেবে। কিন্তু সেই আশা বিফলে গেলো।
এদিন বাংলার ফুটবলাররা মণিপুরের বিরুদ্ধে কোনওরকম আগ্রাসী ভূমিকা নিতে পারেননি। বরং মণিপুরের ফুটবলাররা যেভাবে বাংলার দুর্গে বার বার হানা দেয়, তাতেই স্পষ্ট হয়ে যায় তারা এগিয়ে। শেষ পর্যন্ত তাই হয়।
প্রথমার্ধে মণিপুর ২-০-য় এগিয়ে যায়। ম্যাচের ২৫ মিনিটের মাথায় দুরন্ত ফ্রিকিক থেকে যোগেশ সিং গোল করে মণিপুরকে এগিয়ে দেয়। এগিয়ে থাকা মণিপুর আক্রমণে গতি বাড়িয়ে ফের বাংলার গোলে বল জড়িয়ে দেয় ৩৯ মিনিটের মাথায়। দূরপাল্লার জোরালো শটে থিয়াম জেনশন মণিপুরকে ২-০ গোলে এগিয়ে দেন। মণিপুর প্রথম পর্বের খেলা নিজেদের দখলে রেখেছিল।
বিরতির পরে বাংলা দলের কোচ মাঝমাঠে অভ্র দে’র পরিবর্তে ঋষভ দাসকে খেলান। দ্বিতীয়ার্ধে ৫২ মিনিটে বাংলার আজিজুল মণ্ডলকে ফাউল করলে রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। পেনাল্টি থেকে বাংলার দেবরাজ দাস গোল করে ব্যবধান কমিয়ে দেয়। তারপরেই মণিপুরের ফুটবলাররা আক্রমণে আবার ঝড় তোলে। মণিপুরের আক্রমণে বাংলার রক্ষণভাগ একেবারেই এলোমেলো হয়ে যায়। পরিবর্ত ফুটবলার মুসকান গোল করে মণিপুরকে ৩-১ গোলে এগিয়ে দেয়। বাংলা দল ৯টি কর্নার পেয়েও একটি গোল পায়নি। মণিপুরের থিয়াম জেনসন ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়।
মণিপুরের ৩৪ বছরের কোচ ডোনাল্ড সিং পরপর দু’বছর তাঁর রাজ্য দলকে চ্যাম্পিয়ন করলেন। তাঁর দল প্রসঙ্গে জানালেন, জেলার লোকাল অ্যাকাডেমি ও প্রিমিয়ার লিগের টিমগুলো থেকে ট্রায়ালের মাধ্যমে দল গড়েছেন। মণিপুরের অনেক ফুটবলার দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অ্যাকাডেমিতে যুক্ত আছে। কিন্তু দল গঠনে তাদের ডাকা হয়নি। এবারের দলে গুণগত মানের ভালো ফুটবলার বেশি না থাকলেও, মানসিক দৃঢ়তা এবং দলের শৃঙ্খলা বজায় রেখে ফুটবল খেলায় — প্রত্যেকে তাদের সেরাটা দিয়েছে। তাই এই সাফল্য এসেছে।