হালান্ডের জোড়া গোলও জেতাতে পারল না সিটিকে, পিএসজির কাছে হার ২-৪! রোমে রিয়ালের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন

Photo: Representational Image

ইউরোপীয় ফুটবলের মহারণে বুধবার রাত ছিল গোলের উৎসব। কোথাও হালান্ডের ব্যক্তিগত নজির, কোথাও শেষ মুহূর্তে রিয়ালের নাটকীয় প্রত্যাবর্তন। তবে সবচেয়ে বড় চমক এত্তিহাদ স্টেডিয়ামে। ম্যাঞ্চেস্টার সিটিকে তাদেরই মাঠে ৪-২ গোলে হারিয়ে দিল পিএসজি। অন্য দিকে, রোমার বিরুদ্ধে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে নিল রিয়াল মাদ্রিদ। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এই রাতের ম্যাচগুলিতে মোট ৪৬টি গোল হয়েছে।

হালান্ডের নজির, তবু হার সিটির

ম্যাঞ্চেস্টার সিটির বিরুদ্ধে শুরু থেকেই আক্রমণে ঝড় তোলে পিএসজি। প্রথমার্ধেই তিন গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় ফরাসি ক্লাবটি। দু’মিনিটেরও কম ব্যবধানে গোল করেন দেজিরে দুয়ে এবং উসমান দেম্বেলে। ৩২ মিনিটে ভিতিনহার গোলে ব্যবধান বাড়ে ৩-০।


দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে সিটি। ৫৩ মিনিটে ইলিমান এনদিয়ায়ের ক্রস থেকে হেডে গোল করেন আর্লিং হালান্ড। সেই গোলের সঙ্গে সঙ্গেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নতুন নজির গড়েন নরওয়ের স্ট্রাইকার। মাত্র ৬০টি ম্যাচে প্রতিযোগিতায় ৬০টি গোল পূর্ণ করেন তিনি। এই মাইলফলকে পৌঁছতে লিওনেল মেসির লেগেছিল ৮০টি ম্যাচ।

আরও পড়ুন: চার ম্যাচ সাসপেন্ড ভিনিসিয়াস, খেলতে পারবেন না এল ক্লাসিকোয় ! ক্ষোভে ফেটে পড়লেন রিয়াল তারকা ও কোচ মরিনিয়ো!

তবে সিটির প্রত্যাবর্তনের আশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। দূরপাল্লার দুরন্ত শটে পিএসজির হয়ে চতুর্থ গোল করেন মাগনেস আকলিউশ। ৭৫ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান কমান হালান্ড। কিন্তু তাতে হার এড়ানো যায়নি। ফেরান তোরেসের পেনাল্টি বাঁচিয়ে পিএসজির জয় নিশ্চিত করেন গোলকিপার জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা। শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলে ম্যাচ জেতে পিএসজি।

মাঠের বাইরেও এই ম্যাচ ঘিরে ছিল বিতর্ক। আর্থিক নিয়ম ভাঙার ১১৪টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর এটাই ছিল সিটির প্রথম ঘরের মাঠের ম্যাচ। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে ক্লাব এবং রায়ের বিরুদ্ধে আবেদনও করেছে তারা। গ্যালারিতে সিটির সমর্থকেরা ‘সিটিজি’— অর্থাৎ ‘সিটি টিল আই ডাই’ লেখা কার্ড তুলে নিজেদের সমর্থনের বার্তা দেন।

রিয়ালের অবিশ্বাস্য জয়

রোমার মাঠে ম্যাচের শেষ দিকে যে নাটক দেখা গেল, তা দীর্ঘ দিন মনে রাখবেন ফুটবলপ্রেমীরা। এক সময় ১-৩ গোলে পিছিয়ে ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু শেষ দশ মিনিটে তিনটি গোল করে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে মাঠ ছাড়ে স্পেনের ক্লাবটি।

২০ মিনিটে মার্তেন দে রুনের গোলে এগিয়ে যায় রোমা। পাঁচ মিনিটের মধ্যে কিলিয়ান এমবাপের গোলে সমতা ফেরায় রিয়াল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ৫১ এবং ৫৭ মিনিটে পর পর দু’টি গোল করে রোমাকে এগিয়ে দেন ডনিয়েল মালেন।

এর পরেই শুরু রিয়ালের প্রত্যাবর্তন। ৮২ মিনিটে ব্যবধান কমান কার্লোস এস্পি। তিন মিনিট পরেই গোল করে সমতা ফেরান এন্দ্রিক। তখনও নাটকের শেষ বাকি ছিল। ৯০ মিনিটে আরদা গুলেরের কর্নার থেকে গোল করে রিয়ালকে জেতান আন্তোনিও রুডিগার। শেষ মুহূর্তের এই জয়ে স্বস্তি ফিরল রিয়াল শিবিরে।

আরও পড়ুন: চোট অর্শদীপের! শেষ টি-টোয়েন্টিতে খেলতে পারবেন ভারতীয় পেসার? কী জানালেন সঞ্জু স্যামসন?

লিভারপুলের ছ’গোল হ্যাটট্রিক বারকোলার

অস্ট্রিয়ায় এলএএসকে-র বিরুদ্ধে ৬-৩ গোলে জিতল লিভারপুল। দলের হয়ে হ্যাটট্রিক করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। ক্লাবের হয়ে এটাই ছিল তাঁর প্রথম গোল, আর প্রথম গোলের পর থামলেন না— একাই তিনটি গোল করে ম্যাচের নায়ক হয়ে উঠলেন তিনি।

লিভারপুলের হয়ে বাকি গোলগুলি করেন রোনাল্ড আরাউহো, জেরেমি ফ্রিম্পং এবং লুইস কুমাস। এলএএসকে-র হয়ে দু’টি গোল করেন ফ্লোরিয়ান ফ্লেকার। রবিবার প্রিমিয়ার লিগে সিটির কাছে ০-৩ গোলে হারের পর এই জয় লিভারপুলকে আত্মবিশ্বাস জোগাবে।

অ্যাস্টন ভিলার সবচেয়ে বড় জয়

ফেনেরবাখকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয়ের নজির গড়ল অ্যাস্টন ভিলা। নিকোলাস জ্যাকসন এবং রস বার্কলে দু’জনেই দু’টি করে গোল করেন। বাকি গোল জোহান মানজাম্বি এবং তামি আব্রাহামের।

১২ মিনিটে মানজাম্বি গোল করে ভিলাকে এগিয়ে দেন। তার পর জ্যাকসনের জোড়া গোলে বিরতির আগেই ব্যবধান ৩-০ হয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি থেকে গোল করেন বার্কলে। চার মিনিটের মধ্যে নিজের দ্বিতীয় গোলও করেন তিনি। ম্যাচের শেষ দিকে আব্রাহামের গোলে ছ’গোল পূর্ণ হয় ভিলার। বড় দলগুলির দাপটে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রাত শেষ হল গোলের বন্যায়।

এ দিনের ম্যাচগুলিতে গোলের সংখ্যা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এক ম্যাচ-ডে-র গোলের রেকর্ডও ভেঙে গিয়েছে। মঙ্গলবার ও বুধবার মিলিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচ-ডে-তে মোট ৭৮টি গোল হয়েছে। এর আগে গত মরসুমে তৃতীয় ম্যাচ-ডে-তে ৭১টি গোল হয়েছিল। এ বার সেই নজির ছাপিয়ে গেল ইউরোপের ক্লাব ফুটবল।

দেখুন:<iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/N6g_XzAG6tA?si=DCWmg5AThmssTXn9″ title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>