জেল্সকোভিচের গোলে ফাইনালে দাপুটে জয়, শিল্ড জিতে ৫০ বছর আগের ইতিহাস ফিরিয়ে আনল মোহনবাগান

Samir Zeljkovic Photo-SNS

ডুরান্ড কাপ ফাইনালে হেরেছিল তারা। এ বার মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট সেই হারের বদলা নিয়ে নিল আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে। বৃহস্পতিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে সামির জেল্সকোভিচের একমাত্র গোলে ২২তম শিল্ডজয় করল গতবারের চ্যাম্পিয়ন সবুজ-মেরুন বাহিনী। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মিনিটে গোল করে দলকে একমাত্র গোলটি এনে দেন বসনিয়া-হার্জাগোভিনা থেকে আসা এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার।

এ মরসুমে তিনবারের মুখোমুখিতে একবার করে জিতেছিল দুই দলই। একটি ম্যাচে ড্র হয়। চার নম্বর ম্যাচে জিতে এ বার মরসুমের হেড টু হেডে এগিয়ে গেল মোহনবাগান এসজি। সঙ্গে জিতে নিল ঐতিহ্যবাহী আইএফএ শিল্ডও। ফিরে এল ৫০ বছর আগের স্মৃতি।

৫০ বছর আগে ১৯৭৬-এ আইএফএ লিগ ও আইএফএ শিল্ড দুই খেতাবই পেয়েছিল মোহনবাগান। তার পর থেকে একই মরসুমে একই সঙ্গে লিগ ও শিল্ড পাওয়া হয়ে ওঠেনি তাদের। এ বার ৫০ বছরের সেই খরা কাটিয়ে লিগের পর শিল্ডের খেতাবও জিতে নিল সবুজ-মেরুন শিবির।


ইস্টবেঙ্গল শেষবার শিল্ড জিতেছিল ২০১৮-য়। সে ছিল তাদের ২৯তম শিল্ড জয়। তার পর এ বারেই তাদের সামনে ছিল ৩০তম খেতাব জয়ের হাতছানি। কিন্তু এ বারও তারা সফল হল না। আটকে গেল সেই চিরপ্রতিদ্বন্দী মোহনবাগানের তৈরি চক্রবূহ্যে।

সাম্প্রতিক ফর্মের জন্য বিশেষজ্ঞরা ইস্টবেঙ্গলকে এই ম্যাচে এগিয়ে রাখলেও ডার্বিতে যে কোনো ভবিষ্যদ্বাণীই চলে না, তা আরো একবার প্রমাণিত হল। মোহনবাগান এ দিন ম্যাচের শুরু থেকে দাপুটে ফুটবল খেলে এবং প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন সামির জেল্সকোভিচ। এ দিন প্রথমার্ধে এগিয়ে থাকার মতোই যে খেলেছে মোহনবাগান, এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। ধীর গতিতে শুরু করলেও ম্যাচ যত এগিয়েছে, সবুজ-মেরুন বাহিনীই বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। যদিও শুরুতেই সুযোগ পেয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। একা গোলরক্ষককে সামনে পেয়ে গিয়েছিলেন এডমন্ড লালরিন্ডিকা, কিন্তু ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে তাঁকে আটকে দেন বিশাল কয়েথ।

এর পর থেকে অবশ্য মোহনবাগানই বেশি সুযোগ তৈরি করে। গোলের কাছ থেকেও গোল করতে পারেননি মেহতাব। ছাঙতে এবং সাহালের শটও দুর্দান্ত দক্ষতায় আটকে দেন ফুর্বা লাচেনপা। তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে জেল্সকোভিচ এবং সাহালের দুর্দান্ত ‘গিভ অ্যান্ড গো’-র ফলেই এগিয়ে যায় মোহনবাগান।

 

ইস্টবেঙ্গলের ওপর চাপ ক্রমশ বাড়াচ্ছিল তারা, আর প্রথমার্ধেই একেবারে শেষ দিকে তার ফল পায় মোহনবাগান। এডমন্ডের কাছ থেকে বল কেড়ে নেন জেল্সকোভিচ। তিনি বল বাড়ান সাহালকে, আর নিজে বক্সের মধ্যে ফাঁকা জায়গায় ঢুকে পড়েন। সাহাল একটু সময় নিয়ে ইস্টবেঙ্গলের ডিফেন্ডারদের মাথার উপর দিয়ে নিখুঁতভাবে বল তুলে দেন জেল্সকোভিচের উদ্দেশে। আর সুযোগ পেয়ে কোনও ভুল করেননি বসনিয়ান তারকা। লাচেনপাকে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। বিরতিতে এই গোলেই এগিয়ে থেকে সাজঘরে যায় সবুজ-মেরুন বাহিনী এবং শেষ পর্যন্ত এই গোলেই শিল্ড জয় করে তারা।

দ্বিতীয়ার্ধে খেলার তীব্রতা ক্রমশ বাড়তে থাকে এবং দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যেও সহনশীলতা কমতে দেখা যায়। ৫৫ মিনিটের মাথায় মাঠে উত্তেজনা চরমে ওঠে। মাথায় মাথা ঠুকে যাওয়ার পর মাটিতে পড়ে যান দেজান দ্রাজিচ এবং সন্দীপ মান্ডি। পরিস্থিতি নিয়ে দুই দলের ফুটবলাররাই চরম অসন্তুষ্ট হয়ে ওঠেন। দু’পক্ষের খেলোয়াড়দের মধ্যে সামান্য ধাক্কাধাক্কিও শুরু হয়। তবে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন রেফারি। মান্ডিকে হলুদ কার্ডও দেখান তিনি।

কোনোভাবেই প্রতিপক্ষকে বাগে পাওয়া যাচ্ছে না দেখে ৫৮ মিনিটের মাথায় বিষ্ণু ও আকে লোবাকে মাঠে নামান হাবাস। উদ্দেশ্য পরিষ্কার, আক্রমণে ঝাঁঝ বাড়ানো। নেমেই দুর্দান্ত একটি গোলের ক্রস বাড়িয়েছিলেন লোবা। কিন্তু সেই ক্রস কাজে লাগিয়ে গোল করতে পারেননি ইস্টবেঙ্গলের কেউ। ক্রমশ খেলা শারীরিক হয়ে উঠতে শুরু করে।

৬৬ মিনিটের মাথায় সহালকে বসিয়ে মনবীরকে নামান কোচ দিমপেরিস। মনবীর নামার পরের মিনিটেই লালচুঙনুঙ্গার একটি অসাধারণ দূরপাল্লার শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঁচান বিশাল কয়েথ। শুধু গোল নয়, দলকেও বাঁচান তিনি। এর পরে অরউইন ও ছাঙতেকে তুলে লিস্টন ও থাপাকে নামান দিমপেরিস।

খেলার শেষ দিকে গোল শোধ করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু ততক্ষণে মোহনবাগান তাদের গোলের দরজা বন্ধ করে দেয়। প্রায় দশজন সবুজ-মেরুন জার্সিধারী ফুটবলারকেই তখন নিজেদের গোল এরিয়ায় দেখা যাচ্ছিল। খেলাটাও বেশিরভাগ সময়েই হয় মোহনবাগানের পেনাল্টি বক্সের আশেপাশে। সাত মিনিট সংযুক্ত সময় পেয়েও তাই তা কাজে লাগাতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল।