পিতৃহারা লিওনেল মেসি, ৬৮ বছর বয়সে মৃত্যু, দীর্ঘ দিন ধরেই ভুগছিলেন অসুস্থতায়, কী কারণে মৃত্যু?

Lionel Messi And Father Photo-SNS

পিতৃহারা হলেন লিওনেল মেসি। ৬৮ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকার বাবা জর্জ মেসি। শুক্রবার রাতে আর্জেন্টিনার রোজারিওর একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে স্প্যানিশ ও আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমের খবর। দীর্ঘ দিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি।

জর্জের মৃত্যুর খবর প্রথমে প্রকাশিত হয় আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমে। বিশেষ করে ‘ইনফোবে’ সংবাদপত্র এবং ‘রোসারিয়ো ৩’ নেটওয়ার্ক প্রথম জানায় যে, প্রয়াত হয়েছেন লিওনেল মেসির বাবা জর্জ। মেসির বিশ্বকাপ সতীর্থ নিকো পাজই শুরুর দিকে এই মৃত্যুসংবাদটি নিশ্চিত করেন। জর্জ মেসি রেখে গেলেন তাঁর স্ত্রী সেসিলিয়া, তিন ছেলে লিওনেল, রদ্রিগো ও মাতিয়াস, মেয়ে মারিয়া সোল এবং নাতি-নাতনিদের।

জানা গিয়েছে, বেশ কিছু দিন ধরে একটি দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছিলেন তিনি। সম্প্রতি রোজারিওর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও মেসি পরিবার সরকারি ভাবে জানায়নি। ফলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে যে অসুস্থতার কথা বলা হচ্ছে, তা আপাতত নিশ্চিত সরকারি তথ্য নয়।


তবে কয়েকটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, জর্জ দীর্ঘ দিন ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। মার্কা-সহ বিভিন্ন স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমে তাঁর গুরুতর অসুস্থতার কথা উঠে এসেছে। কিন্তু মেসি পরিবারের তরফে এখনও রোগের নাম বা মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করা হয়নি।

জর্জ শুধু মেসির বাবা নন, ছেলের ফুটবলজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানুষও ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই লিওর ফুটবলজীবনের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে ছিলেন তিনি। পরে মেসির এজেন্ট হিসাবেও দীর্ঘ দিন কাজ করেন। ছেলের পেশাদার জীবনের চুক্তি, দলবদল এবং ব্যবসায়িক বিষয়গুলিও দেখাশোনা করতেন জর্জ।

লিওনেলের ফুটবলজীবনের শুরু থেকেই তাঁর বাবার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বার্সেলোনায় ছেলের উত্থানের সময়ও ছেলের পাশে ছিলেন জর্জ। পরবর্তী সময়ে প্যারিস সাঁ জারমঁ এবং ইন্টার মায়ামিতে মেসির দলবদলের ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলে জানা যায়।

তিনি ছেলেকে তাঁর স্বপ্নপূরণের সুযোগ দিয়েছিলেন। সেই সময়, যখন লিওনেলের ভবিষ্যৎ একেবারেই নিশ্চিত ছিল না, তখন তাঁর পাশে থেকে সব রকম সাহায্য ও সমর্থন জুগিয়েছিলেন জর্জ।

বহু বছর পরে সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে বাবার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়েও মুখ খুলেছিলেন মেসি। তিনি জানিয়েছিলেন, এমন অনেক দিন গিয়েছে যখন দু’জনেই গভীর ভাবে ভেঙে পড়তেন। একে অপরকে যাতে কাঁদতে না দেখেন, সে জন্য দু’জন দু’দিকে গিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁদতেন।

‘সব সময় আমার বাবা আমার পাশে ছিলেন’, অতীতে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন মেসি। সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, জর্জ তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, তিনি কি এ ভাবেই এগিয়ে যেতে চান, নাকি আর্জেন্টিনায় ফিরে যেতে চান? মেসি থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তার পরের গল্প তো ইতিহাস।

জর্জ নিজে অবশ্য প্রায় সব সময়ই প্রচারের আড়ালে থাকতেই পছন্দ করতেন। সারা জীবনে খুব কম সাক্ষাৎকারই দিয়েছেন তিনি। ছেলের বিপুল খ্যাতির ছটা থেকেও সাধারণত দূরেই থাকতেন তিনি। তবু মেসির পাশে তাঁর উপস্থিতি ছিল অবিচ্ছিন্ন। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ম্যাচ থেকে শুরু করে পারিবারিক অনুষ্ঠান এবং লিওনেলের কেরিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি মোড়ে পাশে ছিলেন জর্জ।

জর্জের অসুস্থতার খবর অবশ্য বিশ্বকাপ চলাকালীনও সামনে এসেছিল। এমনকী তাঁর মৃত্যুর গুজবও রটে যায়। জুনে মেসি পরিবারের তরফে জানানো হয়েছিল, তিনি একটি স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন এবং চিকিৎসা চলছে। তখনও তাঁর নির্দিষ্ট রোগের কথা জানানো হয়নি। পরিবারের তরফে সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিয়ে ‘মানবিকতা’ দেখানোর আবেদন করা হয়েছিল।

মেসির জীবনে বাবার প্রভাব কতটা গভীর ছিল, তা বার বার প্রকাশ্যে এসেছে। মাঠে সাফল্যের পাশাপাশি কঠিন সময়েও জর্জ ছিলেন তাঁর অন্যতম প্রধান ভরসা। এ বার সেই মানুষটিকেই হারালেন আর্জেন্টিনার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অধিনায়ক।

জর্জ মেসির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আর্জেন্টিনার ফুটবল মহলে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। তবে মেসি বা তাঁর পরিবারের তরফে (ভারতীয় সময়ে) শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনও বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে আপাতত জল্পনাই চলছে।

মৃত্যুর কারণ হিসেবে ক্যানসারের তথ্য সংবাদমাধ্যমের একাংশে প্রকাশিত হলেও মেসি পরিবারের তরফে তা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি বলে তা নিশ্চিত ভাবে বলা সম্ভব নয়।