মেসির উপর আস্থা হারাচ্ছেন না স্কালোনি, স্পষ্ট বার্তা: ‘ওকে পেনাল্টি মারতে বারণ করতে পারব না

Photo: Representational Image

বিশ্বকাপে টানা দুটি পেনাল্টি মিস করেছেন লিওনেল মেসি। তবুও আর্জেন্টিনা শিবিরে তাঁকে নিয়ে কোনও সংশয় নেই। বরং সুইৎজ়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে দলের অধিনায়কের উপর পূর্ণ আস্থা রাখলেন আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি।

ভারতীয় সময়ে রবিবার কানসাস সিটিতে সুইৎজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচের আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্কালোনি জানিয়ে দিলেন, মেসিকে পেনাল্টি নেওয়া থেকে বিরত রাখার কথা তিনি কল্পনাও করতে পারেন না।

অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বে এবং মিশরের বিরুদ্ধে শেষ ষোলোর ম্যাচে পেনাল্টি মিস করেছিলেন ৩৯ বছর বয়সি মেসি। তবে এই ঘটনার পরেও স্কালোনির বিশ্বাসে এতটুকুও চিড় ধরেনি। কোচ বলেন,’ওকে গিয়ে পরের পেনাল্টিটা নিতে বারণ করব— এমন ভাবনাও আমার মাথায় আসে না। ওকে ওর মতো থাকতে দাও।’


তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দলে এমন অনেক ফুটবলার আছে যারা পেনাল্টি নিতে পারে। কিন্তু মেসি যদি নিতে চায়, তাহলে ও-ই নেবে। আর যদি না চায়, সেটাও ওর সিদ্ধান্ত। মাঠে ও যা খুশি করতে চায়, তা-ই করতে দাও।’

বিশ্বকাপ শুরুর আগে মেসির হ্যামস্ট্রিং চোট নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগ ছিল। তবে সেই সমস্ত আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে ইন্টার মায়ামি তারকা দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন। চলতি বিশ্বকাপে ইতিমধ্যেই আটটি গোল করেছেন তিনি। পাশাপাশি জার্মানির কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজের বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলের রেকর্ড ভেঙে এখন তাঁর বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও তিনি ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন।

এই বয়সেও যে ভাবে সোনার বুটের দৌড়ে প্রবলভাবে রয়েছেন, তাতে স্কালোনির ধারণা, মেসির ক্ষেত্রে বয়স কোনও বাধাই নয়। আর্জেন্টিনার অধিনায়ক যত দিন ইচ্ছা, তত দিন খেলতে থাকুন— তিনি সেটাই চান।বলেন, ‘এতে আমি একটুও অবাক হইনি। যাঁরা ওকে ভালোভাবে চেনেন না, তাঁরা হয়তো ভেবেছিলেন ৩৯ বছর বয়সে ও আর এই মানের ফুটবল খেলতে পারবে না। কিন্তু আমি জানি না, কতবার এই কথা বলেছি— যত দিন ও নিজে খেলতে চাইবে, তত দিন ও-ই বিশ্বের সেরা থাকবে। আমি এটা শুধু ওর কোচ বলে বলছি না, সত্যিই এটাই বিশ্বাস করি আমি।’

মিশরের বিরুদ্ধে শেষ ষোলোর ম্যাচে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)-এর সিদ্ধান্ত নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। দ্বিতীয়ার্ধে মিশর ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পথে মোস্তাফা জিকোর একটি গোল ভিএআরের মাধ্যমে বাতিল হয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, গোল হওয়ার আগে মারওয়ান আত্তিয়া আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে ফাউল করেছিলেন। সেই সিদ্ধান্তকে ঘিরে সমালোচনা হলেও স্কালোনি ভিএআরের ব্যবহারকে সমর্থন করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, ভিএআর এবং এই ধরনের প্রযুক্তি চালু হওয়ার পর রেফারিদের পক্ষে কোনও দলকে সুবিধা করে দেওয়া খুবই কঠিন। সত্যিই খুব কঠিন। ভিএআরের ক্ষেত্রে কোনও সিদ্ধান্তের দ্বিতীয়বার ব্যাখ্যার সুযোগ নেই। বিশ্বকাপ শুরুর আগে আমাদের যে ট্রেনিং সেশন করানো হয়েছিল, সেখানে সবকিছু একেবারে পরিষ্কার করে বোঝানো হয়েছিল। ওরা আমাদের সব ভিডিও ফুটেজ দেখিয়েছিল। বলেছিল, ‘এভাবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, ঠিক এই নিয়মেই সবকিছু চলবে।’ আর এখনও পর্যন্ত সেই নির্দেশিকা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলা হয়েছে,’ বলেন স্কালোনি।

উল্লেখ্য, মিশরের বিরুদ্ধে ০-২ পিছিয়ে থেকেও শেষ দিকে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে পেনাল্টি মিস করলেও পরে গুরুত্বপূর্ণ গোল করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা নেন মেসি।