ক্লাবের সভাপতি পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন জোয়ান লাপোর্তা। তবে ক্লাব সূত্রে জানা যাচ্ছে, লাপোর্তার সরে যাওয়া আচমকা নেওয়া কোনও সিদ্ধান্ত হয় বরং একটি প্রক্রিয়াগত পদক্ষেপ। সোমবার সভাপতি পদ থেকে সরে দাঁড়িয়ে লাপোর্তা আগামী ১৫ মার্চের প্রেসিডেন্ট পুনর্নির্বাচনে দাঁড়ানোর আইনি পথ পরিষ্কার করে রাখলেন। বার্সেলোনার তরফে জানানো হয়েছে, লাপোর্তার এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গেই ৩৫ দিনের নির্বাচনী কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। আইনজীবী-সভাপতি লাপোর্তা এবারের ভোটেও ফেভারিট হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছেন। ২০২১ সালের মার্চে ৫৪ শতাংশ ভোট পেয়ে ক্ষমতায় ফেরার পর আবারও ব্যালটের লড়াইয়ে নামতে চলেছেন তিনি। নির্বাচনে জিতলে ১ জুলাই ফের সভাপতি পদে দায়িত্ব নেওয়ার লক্ষ্য লাপোর্তার।
আসলে লাপোর্তার সরে দাঁড়ানোর অন্যতম কারণ ক্লাবের সংবিধান। লাপোর্তার দ্বিতীয় দফার শাসনকাল ছিল ক্লাবের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই সময়েই বার্সা ছেড়ে লিওনেল মেসির পিএসজিতে চলে যাওয়া, আর্থিক পুনর্গঠন, কাঠামোগত সংস্কার এবং গত মরশুমে সাফল্যের মধ্য দিয়ে গেছে বার্সেলোনা। বর্তমানে তারা লা লিগা ও কোপা দেল রে শিরোপা জিতেছে। এমনকী, গত মরশুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে পৌঁছেছিলেন রাফিনহারা। কোচ হ্যান্সি ফ্লিকের অধীনে টানা এল ক্লাসিকো জিতেছে বার্সা। এই মুহূর্তে সহ-সভাপতি রাফা ইউস্তে অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ৩০ জুন পর্যন্ত। মাঠের বাইরের টানাপোড়েনের পাশাপাশি মাঠেও উত্তেজনা চরমে, লা লিগা টেবিলের শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা, মাত্র এক পয়েন্ট পিছনে রিয়াল মাদ্রিদ।
ক্লাবের সংবিধানের ৪২এফ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনও বর্তমান সভাপতিকে র্নির্বাচনে দাঁড়াতে হলে আগে পদত্যাগ করতে হয়। সেই নিয়ম মেনেই লাপোর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে পদ ছেড়েছেন এবং নির্বাচনে লড়ার একমাত্র আইনি বাধা সরিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বোর্ড অব ডিরেক্টরসের একটি সাধারণ সভায়। নিয়ম অনুযায়ী, লাপোর্তার পদত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর কার্যনির্বাহী বোর্ডের আট সদস্যও স্বাভাবিক ভাবেই পদ ছেড়েছেন।
যদি লাপোর্তা ফের নির্বাচিত হন, তাহলে অ্যাসেম্বলি অব ডেলিগেটসের অনুমোদনের মাধ্যমে ওই সদস্যরাই আবার বোর্ডে ফিরতে পারেন, কারণ বোর্ড সদস্যরা আলাদা করে নির্বাচিত হন না। লাপোর্তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং ক্রীড়া বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ মুখ রাফা ইউস্তের অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতির দায়িত্ব নেওয়াকে ক্লাবে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
১৫ মার্চের নির্বাচনে যদিও তিনি ফেভারিট, তবুও দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ভিক্টর ফন্ট প্রধান বিরোধী মুখ। এছাড়াও প্রাক্তন ক্লাব কর্তা জাভিয়ের ভিলাজোয়ানা এবং অর্থনীতিবিদ মার্ক সিরিয়া নির্বাচনে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেছেন। ১৯৫৩ সালে প্রথম নির্বাচনের পর এটি হতে চলেছে বার্সেলোনার ইতিহাসে ১৫তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। একাধিক কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে, বার্সেলোনা, জিরোনা, তারাগোনা, লেইদা এবং আন্দোরা লা ভেল্লায়। ২০২১ সালের নির্বাচনে ৫৫ হাজার ভোটারের মধ্যে ২০ হাজারেরও বেশি সদস্য ডাকযোগে
ভোট দিয়েছিলেন।