বয়স মাত্র ১৯। অথচ বার্সেলোনার নেতৃত্বের দায়িত্ব এসে গিয়েছে তাঁর কাঁধে। সামনে আবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নতুন মরসুম। বুধবার ঘরের মাঠে ফেইনউর্ডের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় অভিযান শুরু করার আগে তাই লামিনে ইয়ামালের গলায় আত্মবিশ্বাস। তবে ব্যক্তিগত পুরস্কার নিয়ে কোনও প্রচার চালাতে রাজি নন বার্সেলোনার তরুণ তারকা। তাঁর লক্ষ্য একটাই— চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়।
ফেইনউর্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে সাংবাদিক বৈঠকে ইয়ামাল বলেন, “চ্যাম্পিয়ন্স লিগ আমার কাছে খুব স্পেশ্যাল। এটা জেতার চেয়ে বড় কোনও অনুপ্রেরণা নেই।” গত মরসুমে সেমিফাইনালে ইন্টার মিলানের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল বার্সেলোনাকে। এ বার সেই আক্ষেপ মুছে ইউরোপসেরা হতে চান ইয়ামালরা।
ব্যক্তিগত ভাবে ইয়ামালের সামনে রয়েছে ব্যালন ডি’অরের হাতছানি। গত মরসুমে বার্সেলোনা ও স্পেনের হয়ে তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তাঁকে পুরস্কারের অন্যতম দাবিদার করে তুলেছে। কিন্তু ভোট পাওয়ার জন্য নিজের হয়ে প্রচার করতে নারাজ তিনি।
ইয়ামালের সাফ কথা, “আমার মনে হয় না, এর জন্য প্রচার করার প্রয়োজন আছে। প্রত্যেকে যা খুশি ভাবতে পারেন। আমি প্রচার করতে যাচ্ছি না, কাউকে অনুরোধও করব না। ভোট দেওয়ার কাজটা আপনাদের।”
গত বছর ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন উসমান দেম্বেলে। এ বার ইয়ামালের নাম তাঁর পছন্দের তিন ফুটবলারের তালিকায় না থাকায় প্রশ্ন উঠেছিল। তবে দেম্বেলের মন্তব্যে মোটেই বিচলিত নন বার্সেলোনার তরুণ ফরোয়ার্ড। দু’জনের সম্পর্কও ভাল বলেই জানিয়েছেন তিনি।
ইয়ামালের কথায়, “দেম্বেলে আমার বন্ধু। ও যা মনে করেছে, সেটাই বলেছে। আমি ওকে নিয়ে কোনও সমস্যা তৈরি করতে চাই না।” তাঁর মতে, ব্যালন ডি’অরের মতো পুরস্কারে শেষ কথা বলবে মাঠের পারফরম্যান্সই।
<blockquote class=”twitter-tweet”><p lang=”en” dir=”ltr”>🚨🌕 Lamine Yamal: “I’m not gonna campaign for anything. I won’t be begging to win anything… the Ballon d’Or is up to you [journalists], not me”.<br><br>“We had a great year with Barça and the national team. That makes me proud”. <a href=”https://t.co/nX9qywJgMx”>pic.twitter.com/nX9qywJgMx</a></p>— Fabrizio Romano (@FabrizioRomano) <a href=”https://x.com/FabrizioRomano/status/2097318394169045266?ref_src=twsrc%5Etfw”>September 8, 2026</a></blockquote> <script async src=”https://platform.x.com/widgets.js” charset=”utf-8″></script>
শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বার্সেলোনার সতীর্থদের নিয়েও প্রশংসায় পঞ্চমুখ ইয়ামাল। বিশেষ করে ফেরমিন লোপেস এবং দানি ওলমোর সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়ার কথা উঠে এসেছে। সম্প্রতি ভ্যালেন্সিয়ার বিরুদ্ধে বার্সেলোনার ৫-০ জয়ে ফেরমিন একটি গোল ও দু’টি অ্যাসিস্ট করেছিলেন, আর ইয়ামাল করেছিলেন জোড়া গোল।
নেতৃত্বের দায়িত্ব নিয়েও খুশি ইয়ামাল। সতীর্থদের ভোটে বার্সেলোনার অন্যতম সহ-অধিনায়ক হয়েছেন তিনি। ১৯ বছর বয়সে এত বড় দায়িত্ব পাওয়া নিয়ে তাঁর বক্তব্য, “বার্সেলোনার অধিনায়ক হওয়া আমার কাছে গর্বের বিষয়। একই সঙ্গে এটা বড় দায়িত্বও। সতীর্থেরা আমাকে যে ভাবে বিশ্বাস করেছে, তার জন্য আমি খুব খুশি।”
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতাই যে তাঁর এ বারের প্রধান লক্ষ্য, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন ইয়ামাল। বার্সেলোনা শেষ বার এই ট্রফি জিতেছিল ২০১৫-য়। ফলে দীর্ঘ ১১ বছরের অপেক্ষা শেষ করার তাগিদ রয়েছে ক্লাবের অন্দরেও।
লা লিগায় মরসুমের শুরুটা দুর্দান্ত হয়েছে বার্সেলোনার। চার ম্যাচে চার জয়, ১২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে তারা। ভ্যালেন্সিয়ার বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচে ৫-০ জয়ের পর আত্মবিশ্বাসও তুঙ্গে। এ বার সেই ছন্দ ইউরোপের মঞ্চে নিয়ে যাওয়াই লক্ষ্য ফ্লিকের দলের।
আর সেই লড়াইয়ের অন্যতম মুখ যে ইয়ামাল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। ব্যালন ডি’অর নিয়ে প্রচার নয়—মাঠে গোল, অ্যাসিস্ট আর ট্রফি দিয়েই নিজের জবাব দিতে চান বার্সেলোনার নতুন প্রজন্মের নেতা।