নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য ভারতের এক দিনের ও টেস্ট দল ঘোষণার পরেই নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে মহম্মদ শামির (Mohammad shami) নির্বাচন নিয়ে। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক ভাবে ভাল বল করেও জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন না তিনি। অন্য দিকে, চোট ও ফিটনেস নিয়ে একাধিক প্রশ্নের মুখে পড়লেও কয়েক জন ক্রিকেটার দলে জায়গা পাচ্ছেন। ফলে নির্বাচকদের সিদ্ধান্তের যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে ক্রিকেটমহলে।
কইফের মতে, শামির (Mohammad shami) মতো অভিজ্ঞ বোলারকে দলে না নেওয়ার কারণ প্রকাশ্যে জানানো উচিত নির্বাচকদের। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা থাকা উচিত। সামনে এসে বলুন, সমস্যাটা ঠিক কোথায়। শামি তো সব কিছু ঠিকঠাক করছে। রঞ্জি খেলছে, উইকেট নিচ্ছে। তা হলে ওকে দলে না নেওয়ার কারণ কী?’
শামির (Mohammad shami) ফিটনেস এবং দীর্ঘ সময় ধরে বল করার ক্ষমতা নিয়ে অতীতে প্রশ্ন উঠেছিল। সেই প্রসঙ্গেই ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার মনে করিয়ে দিয়েছেন, জসপ্রীত বুমরাহকেও অনেক সময় ছোট ছোট স্পেলে বল করানো হয়। তাই শুধু স্পেলের দৈর্ঘ্যকে শামির বাদ পড়ার কারণ হিসেবে দেখানো হলে তা যুক্তিসঙ্গত হবে না বলেই মনে করেন তিনি।
আরও পড়ুন: ইস্টবেঙ্গলের গোলবন্যা! চার গোলে চার্চিলকে উড়িয়ে আইএসএলে দুরন্ত শুরু হাবাসের দলের
কইফ বালেন, ‘কোথাও পড়েছিলাম, শামি নাকি শুধু ছোট স্পেলে বল করছে বলেই ওকে দলে নেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু জসপ্রীত বুমরাহও তো টেস্টে অনেক সময় ছোট স্পেলে বল করে। তার পর বিশ্রাম পায়। ইংল্যান্ড সফরে বুমরার কাজের চাপ সামলানোর সময় শুভমান গিলকেও ওকে দিয়ে ছোট স্পেলে বল করাতে হয়েছিল।”
শামির (Mohammad shami) সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের দিকে তাকিয়ে কাইফের প্রশ্ন, ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত উইকেট নেওয়ার পরেও আর কী প্রমাণ করতে হবে এই অভিজ্ঞ পেসারকে?
শামি (Mohammad shami) যে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের অন্যতম কার্যকর বোলার, তা মনে করিয়ে দিয়েছেন কাইফ। ২০২৩ সালের এক দিনের বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ধর্মশালার ম্যাচ এবং মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালে শামির পারফরম্যান্সের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
কাইফের কথায়, ‘নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারদের গিয়ে জিজ্ঞাসা করুন, কোন বোলারের মুখোমুখি হতে তারা সবচেয়ে বেশি ভয় পায়। প্রথম নামটাই হবে মহম্মদ শামি। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে ধর্মশালায় ও একাই ম্যাচ জিতিয়ে দিয়েছিল। ওয়াংখেড়ের সেমিফাইনালের কথাও মনে রাখুন।’
এর পরেই তাঁর সংযোজন, ‘আমি বলছি, নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারদের যদি জানানো হয় যে মহম্মদ শামি সফরে আসছে না, তা হলে তারা এখনই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে।’
আরও পড়ুন: শামিকে নিয়ে জল্পনা, সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে ব্যাটিং বিপর্যয় বাংলার! দিনের শেষে কত স্কোর?
গত মরসুমে বাংলার হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছিলেন শামি। সাতটি ম্যাচে ৩৭টি উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। এর মধ্যে তিন বার এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্বও রয়েছে তাঁর। চলতি মরসুমেও দিল্লির বিরুদ্ধে বাংলার হয়ে প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়ে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন এই পেসার।
তবু জাতীয় দলে ফেরার দরজা খুলছে না তাঁর সামনে। শামি (Mohammad shami) শেষ বার ভারতের হয়ে খেলেছিলেন ২০২৫ সালের মার্চে, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে।
অতীতে তাঁর ফিটনেস নিয়ে নির্বাচকদের সংশয়ের কথা প্রকাশ্যে এসেছিল। কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পরেও কেন তাঁকে বিবেচনা করা হচ্ছে না, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।
শামিকে (Mohammad shami) দলে নেওয়া হবে কি না, সেটা নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত। কিন্তু কেন তাঁকে নেওয়া হচ্ছে না, সেই ব্যাখ্যা দেওয়ার দায়িত্বও কি নির্বাচকদের নয়? কাইফের বক্তব্যে উঠে এসেছে ভারতীয় ক্রিকেটের নির্বাচনপ্রক্রিয়া নিয়ে সেই মৌলিক প্রশ্নই। আপাতত নিউজিল্যান্ড সফরের দলে জায়গা হয়নি শামির। আর তাতেই নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
দেখুন:<iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/WBXPWleJUWk?si=aLybvPH_2SFuMcZ-” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>