বিশ্বকাপ মানেই বিশ্বের সেরাদের মঞ্চ। আর সেই মঞ্চে কোন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলতে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী তিনি? ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে এমনই এক প্রশ্নের উত্তরে নিজের পছন্দের দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর নাম জানালেন ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। তালিকায় যেমন রয়েছেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, তেমনই রয়েছে এক চমকপ্রদ নাম।
ফিফার এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এমবাপে জানান, রোনাল্ডোর বিরুদ্ধে খেলা তাঁর কাছে সবসময়ই বিশেষ অভিজ্ঞতা। ছোটবেলা থেকেই পর্তুগিজ মহাতারকাকে আদর্শ হিসেবে দেখে বড় হয়েছেন তিনি। তাই বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে রোনাল্ডোর মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা তাঁকে আলাদা উত্তেজনা দেয়। এমবাপের কথায়, “ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো এমন একজন ফুটবলার, যাঁকে দেখে আমি বড় হয়েছি। তাঁর বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ পাওয়া সবসময়ই বিশেষ অনুভূতির।”
তবে দ্বিতীয় নামটি জেনে অনেককেই অবাক করেছে। এমবাপে বেছে নিয়েছেন মেক্সিকোর কিংবদন্তি গোলরক্ষক গিলেরমো ওচোয়াকে। ফরাসি তারকার মতে, বিশ্বকাপে ওচোয়া যেন সম্পূর্ণ অন্য এক ফুটবলার হয়ে ওঠেন। বিশেষ করে বড় দলগুলোর বিরুদ্ধে তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্স তাঁকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে। এমবাপে বলেন, “বিশ্বকাপে ওচোয়া সবসময় অবিশ্বাস্য গোলকিপিং করে। ওর বিরুদ্ধে গোল করা যে কোনও ফরোয়ার্ডের কাছেই বড় চ্যালেঞ্জ”।
ওচোয়ার বিশ্বকাপ-খ্যাতি নতুন কিছু নয়। ২০১৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে তাঁর একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভ আজও ফুটবলপ্রেমীদের মনে গেঁথে রয়েছে। এরপরও একাধিক বিশ্বকাপে তিনি মেক্সিকোর অন্যতম ভরসা হয়ে থেকেছেন। সেই কারণেই সম্ভবত তাঁকে নিজের ‘স্বপ্নের প্রতিদ্বন্দ্বী’ হিসেবে বেছে নিয়েছেন এমবাপে।
২০২২ বিশ্বকাপে রানার্স-আপ হওয়ার পর এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে খেতাব পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে নামছে ফ্রান্স। আর সেই অভিযানের আগে এমবাপের এই মন্তব্য ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন আকর্ষণ তৈরি করেছে। কারণ, যেখানে অনেকেই লিওনেল মেসি, নেইমার বা হ্যারি কেইন-এর মতো তারকাদের নাম আশা করেছিলেন, সেখানে একজন গোলরক্ষকের নাম উঠে আসা নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী।
বিশ্বকাপে ফ্রান্স, পর্তুগাল এবং মেক্সিকোর সম্ভাব্য পথ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ভাগ্য সহায় হলে এমবাপের সেই ইচ্ছা পূরণ হতেই পারে। আর তা হলে বিশ্ব ফুটবল আরও একবার উপভোগ করতে পারে রোনাল্ডো বনাম এমবাপে কিংবা এমবাপে বনাম ওচোয়ার আকর্ষণীয় দ্বৈরথ।