প্রথম টেস্টে প্রত্যাশিত ছন্দে পাওয়া যায়নি কুলদীপ যাদবকে। তার পরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কলম্বোয় শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে কি ভারতের প্রথম একাদশে জায়গা ধরে রাখতে পারবেন বাঁ-হাতি রিস্ট স্পিনার?
গল টেস্টে কুলদীপ প্রত্যাশামতো উইকেট না পেলেও ভারত ১৬৫ রানে জয় তুলে নিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছে। দ্বিতীয় টেস্টের আগে তাই কুলদীপের জায়গা নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও ভারতীয় শিবিরের অন্দরে তাঁর উপর আস্থা যে অটুট, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন স্পিন কোচ।
কুলদীপকে নিয়ে জল্পনায় জল ঢেলে দিয়ে ভারতের স্পিন বোলিং কোচ সাইরাজ বাহুতুলে। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, একটি ম্যাচের পারফরম্যান্স দিয়ে তাঁকে বিচার করা ঠিক নয়। ভারতীয় দলের পরিকল্পনায় এখনও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা রয়েছে কুলদীপের।
সাইরাজ বলেন, ‘কুলদীপ অবশ্যই আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে। একটি ম্যাচ দিয়ে কোনও খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স বিচার করা যায় না। আমরা জানি, ও কী করতে পারে এবং দলের জন্য কী ধরনের ভূমিকা পালন করতে পারে’।
কলম্বোয় অনুশীলনের সময় কুলদীপকে বল করতে দেখা যায়নি। তবে তা নিয়ে কোনও উদ্বেগের কারণ নেই বলেই জানিয়েছেন সাই। গলে পাঁচ দিনের দীর্ঘ টেস্ট খেলার পর দলের কয়েক জন ক্রিকেটারকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল। সেই তালিকায় ছিলেন কুলদীপও। সেই কারণেই হয়তো দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর খেলা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।
সাইরাজ ঘটনাটির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘ওকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল। পাঁচ দিন মাঠে থাকার পর গল থেকে কলম্বোয় আসতে হয়েছে। তাই ওর বিশ্রামের প্রয়োজন ছিল’।
দ্বিতীয় টেস্টে ভারতের স্পিন আক্রমণে পরিবর্তন হবে কি না, সেই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর অবশ্য দেননি সাই। নেটে অফস্পিনার সারাংশ জৈনকে বল করতে দেখা গিয়েছে। তিনি ঋষভ পন্থ এবং শুভমান গিলকে নেটে বল করেন। ফলে প্রথম একাদশে পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে চর্চা হলেও কুলদীপের কার্যকারিতা শেষ হয়ে গিয়েছে, এমনটা মানতে নারাজ ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট।
প্রথম টেস্টে ভারতীয় স্পিনারদের মধ্যে রবীন্দ্র জাদেজা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিলেও কুলদীপ নিজের সেরা ছন্দ খুঁজে পাননি। কিন্তু তাঁর বৈচিত্র্য এবং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতার কথা মাথায় রেখেই দ্বিতীয় টেস্টের আগে তাঁকে নিয়ে তাড়াহুড়ো করে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে না ভারত।
সাইরাজের কথায়, ‘আমরা সবাই জানি কুলদীপ কতটা দক্ষ এবং দলের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। একটি ম্যাচে ভাল বা খারাপ হওয়া দিয়ে কোনও ক্রিকেটারের সামগ্রিক মূল্যায়ন করা যায় না’।
তবে ভারতীয় দলের প্রথম এগারো যে উইকেটের ওপরও নির্ভর করবে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। রবিবার থেকে কলম্বোয় যে দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হচ্ছে, সেই টেস্টে যদি গলের মতো স্পিন-বান্ধব উইকেটই থাকে, তা হলে প্রথম এগারোয় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। কিন্তু অন্যরকম উইকেট হলে ভারতকে দলে পরিবর্তন আনতেই হবে।
সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ভারতের সামনে সুযোগ সিরিজ জেতার। আবার এই ম্যাচে ড্র করলেও শ্রীলঙ্কা সিরিজ হারবে। তাই জয়ের জন্য এসএসসি-র ব্যাটার-বান্ধব উইকেটকে ম্যাচের জন্য বেছে নেওয়া হতে পারে, এমন খবরও শোনা যাচ্ছে।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের এক কর্তা সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, ‘দ্বিতীয় টেস্টে আমরা দীনেশ চান্ডিমল, কুশল মেন্ডিস এবং পাথুম নিশঙ্ককে পাব না। তরুণ ব্যাটারদের নিয়ে খেলতে হবে আমাদের। এটা ওদের কাছেও বড় সুযোগ’।পিচের চরিত্র নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের প্রয়োজনের উপর নির্ভর করবে বলেও জানিয়েছেন ওই কর্তা। তাঁর বক্তব্য, ‘পিচ ঠিক কেমন হবে, সেটা অনেকটা নির্ভর করবে দল কী চাইছে তার উপর। দ্বিতীয় টেস্ট জিতে সিরিজ ড্র করার সুযোগ দিতে চাই আমাদের দলকে’।
অর্থাৎ, কুলদীপের প্রথম এগারোয় থাকা বা না থাকা নির্ভর করছে পরিস্থিতি ও পরিবেশের ওপর, তাঁর পারফরম্যান্সের উপর নয়। তাঁকে নিয়ে ভারতীয় দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হয়, নজর থাকবে সেদিকেই। তবে স্পিন কোচের স্পষ্ট মন্তব্য— একটি ম্যাচের পারফরম্যান্সে কুলদীপের উপর থেকে ভরসা হারাচ্ছে না ভারতীয় দল।