ভারতীয় দলে দীর্ঘদিন সুযোগ না পেলেও থেমে থাকেননি কুলদীপ যাদব। বরং ইংল্যান্ডের মাটিতেই নিজের বোলিং দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছেন, তাঁকে উপেক্ষা করা কতটা বড় ভুল হতে পারে। রয়্যাল ওয়ান-ডে কাপে ইয়র্কশায়ারের হয়ে ধারাবাহিক সাফল্যের পর ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন ভারতের এই বাঁহাতি চায়নাম্যান স্পিনার।
চলতি ওয়ান-ডে কাপে কুলদীপ যাদব দুর্দান্ত বোলিং করেন এবং শুক্রবার বেন স্টোকসের ডারহামের বিরুদ্ধে ইয়র্কশায়ারের দাপুটে জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১০ ওভারের কোটায় মাত্র ২৩ রান দিয়ে দুটি উইকেট তুলে নেন কুলদীপ। তাঁর শিকার হন সদ্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া বেন স্টোকসও। ৩৮ বল খেলে মাত্র ১২ রান করা স্টোকস কুলদীপের বলে জর্জ হিলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।
গত মাসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ান ডে সিরিজে একটি ম্যাচেও সুযোগ না পেয়ে আইসিসি বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ের সেরা দশ থেকে ছিটকে যাওয়া কুলদীপ ফের আঘাত হানেন। তিনি ২৬ রান করা কলিন অ্যাকারম্যানকেও আউট করে ডারহামের ব্যাটিংয়ে ফের ধাক্কা দেন।
শেষ পর্যন্ত ৪৯তম ওভারে ১৬৫ রানে অলআউট হয়ে যায় ডারহাম। এরপর ইয়র্কশায়ারের ব্যাটাররা রান তাড়া করে শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে সহজ জয় তুলে নেয়। এ পর্যন্ত ওয়ান-ডে কাপে খেলা চারটি ম্যাচের প্রতিটিতেই কুলদীপ যাদব দুটি করে উইকেট নিয়েছেন।
তাঁর এই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পর নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—ভারতীয় দলের হেড কোচ গৌতম গম্ভীর যাঁকে দলের বাইরে বসিয়ে রেখেছিলেন, তাঁকে কি এবার ফের জাতীয় দলের প্রথম একাদশে ফিরিয়ে আনতেই হবে?
ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে কুলদীপের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স যথেষ্ট নজরকাড়া। মিডল ওভারে রান আটকে রাখার পাশাপাশি নিয়মিত উইকেটও তুলছেন তিনি। তাঁর নিয়ন্ত্রণ, বৈচিত্র্য এবং ম্যাচে প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা ফের নির্বাচকদের ভাবাতে বাধ্য করছে।
ভারতের ইংল্যান্ড সফরের সময় কুলদীপকে একের পর এক ম্যাচে সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আগেও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। প্রাক্তন ভারতীয় অফস্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিনও সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, এমন একজন ম্যাচজয়ী স্পিনারকে দীর্ঘ সময় বাইরে বসিয়ে রাখা দলের পক্ষে মোটেও ইতিবাচক ছিল না।
টিম ম্যানেজমেন্ট দলগত ভারসাম্য এবং ব্যাটিং গভীরতাকে গুরুত্ব দেওয়ায় কুলদীপকে সুযোগ দেওয়া হয়নি। কিন্তু ইংল্যান্ডে তাঁর বর্তমান ফর্ম দেখার পর সেই যুক্তি এখন নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এর আগে দলের বাইরে বসে থাকার অভিজ্ঞতা নিয়ে কুলদীপ বলেছিলেন, ‘আমাদের মধ্যে সম্পর্ক তো ভালোই ছিল। তিন-চারটি ম্যাচে আমার মনে হয়েছিল আমি খেলতে পারি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ব্যাটিং-এর জন্য সুযোগ পাইনি। কোচ (গৌতম গম্ভীর) খুব স্পষ্ট করে সবকিছু বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। এটা আমার দক্ষতার অভাবের জন্য নয়, দলের কম্বিনেশন এবং পরিস্থিতির জন্যই আমি জায়গা পাইনি’।
তবে এখন পরিস্থিতি যেন বদলাচ্ছে। ইংল্যান্ডের মাটিতে ধারাবাহিক সাফল্য কুলদীপের জাতীয় দলে ফেরার দাবি আরও জোরালো করে তুলেছে। আগামী আন্তর্জাতিক সূচির আগে নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্টের সামনে তাই বড় প্রশ্ন—এতদিন বেঞ্চে বসিয়ে রাখা স্পিনারকে কি এবার ফের ভারতের প্রথম একাদশে ফিরিয়ে আনা হবে?