আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেন কেএস ভরত

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন ভারতীয় উইকেটকিপার-ব্যাটার কে এস ভারত। বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এক আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে নিজের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন তিনি। দেশের জার্সিতে খেলার সুযোগকে জীবনের সর্বোচ্চ সম্মান বলে উল্লেখ করে ভারত জানান, তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটযাত্রা শেষ হলেও ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পর্ক কখনও শেষ হবে না।

ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা বার্তায় ভারত লিখেছেন, “গর্ব এবং কৃতজ্ঞতায় ভরা হৃদয় নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা করছি। ভারতের হয়ে খেলা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান। এই পথচলায় অনেক লড়াই, ধৈর্য এবং মানসিক শক্তির প্রয়োজন হয়েছে, কিন্তু দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ প্রতিটি মুহূর্তকে সার্থক করেছে।”

আন্ধ্রপ্রদেশের এই ক্রিকেটার ভারতের হয়ে সাতটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। সেই ম্যাচগুলিতে তিনি ২২১ রান করেছেন, গড় ২০.০৯। সর্বোচ্চ স্কোর ৪৪। উইকেটের পিছনে তিনি ২১টি ক্যাচ নিয়েছেন এবং একটি স্টাম্পিং করেছেন।


অবসরের ঘোষণায় ভারত তাঁর পরিবারকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, পরিবারের চার সদস্য গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে একই স্বপ্ন দেখেছেন। বাবা-মা এবং বোনের ভালোবাসা, শৃঙ্খলা ও ত্যাগই তাঁকে এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে।

এছাড়াও ভারত ধন্যবাদ জানান বিসিসিআই, বিভিন্ন কোচ, ম্যানেজার এবং ক্রিকেট প্রশাসকদের। তিনি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আন্ধ্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন এবং বিশাখাপত্তনম ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতি, যাদের সমর্থন শৈশব থেকেই পেয়েছেন। মাঠকর্মী এবং সতীর্থদের অবদানও তিনি স্মরণ করেন।

ভারত তাঁর আইপিএল অভিষেকের জন্য প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ২০২১ সালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে আইপিএলে অভিষেকের সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। সেই মরশুমে আট ম্যাচে ১৯১ রান করে নজর কেড়েছিলেন। পাশাপাশি টেস্ট অভিষেকের সুযোগ দেওয়ার জন্য অধিনায়ক রোহিত শর্মা এবং দীর্ঘদিনের পরামর্শ ও সমর্থনের জন্য রাহুল দ্রাবিড়কেও ধন্যবাদ জানান তিনি।

নিজের শৈশবের কোচ জে কৃষ্ণ রাও এবং ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ভারত। তিনি বলেন, জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে মাঠে নামার অনুভূতি এবং দেশের প্রতিনিধিত্ব করার স্মৃতি চিরকাল তাঁর কাছে অমূল্য হয়ে থাকবে।

তরুণ ক্রিকেটারদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, বড় স্বপ্ন দেখতে হবে এবং সেই স্বপ্ন পূরণে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধ্যায় শেষ হলেও ভবিষ্যতে কোচিং, মেন্টরিং এবং পথপ্রদর্শনের মাধ্যমে ক্রিকেটকে ফিরিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকারও করেছেন কে এস ভারত।