ময়দানে প্রাণহীণ ফুটবল খেলা চলছে , হায়রে গ্যালারিতে হাতে গোনা দর্শক

Image: ANI

কলকাতা ফুটবল (Football) লিগের ময়দানে বল গড়াচ্ছে। ইতিমধ্যেই তিনপ্রধান ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট  ও মহামেডান স্পোটিং ৫-৬টা করে ম্যাচ খেলে ফেলেছে। কলকাতা লিগের পয়েন্ট টেবিল প্রতিদিন আপডেট হচ্ছে। কিন্তু ময়দানে সেই প্রাণটা কোথায়? টিকিটের জন্য কোনও হাহাকার নেই। গ্যালারিতে ঢোকার মুখে লম্বা লাইন নেই। ঘোড়সওয়ার পুলিশের ব্যস্ততা নেই। নব্বইয়ের দশকের সেই ‘কলকাতা ফুটবল’ কি তবে সত্যিই হারিয়ে গেল? আগে কলকাতা লিগ শুরু হলেই শহর জুড়ে উৎসবের চেহারা নেয়। পাড়ার চায়ের দোকান থেকে অফিসের ক্যান্টিন — আলোচনা একটাই। আজ কটা গোল হলো, কবে ডার্বি আছে। এখন? লিগ চলছে অথচ শহরের বেশিরভাগ মানুষ জানেই না আজ কে কার সঙ্গে খেলছে।

কারণ একটাই — দর্শক নেই। দুই দলের অতিরিক্ত ফুটবলার, কোচ, ক্লাব কর্তা আর মুষ্টিমেয় কয়েকজন দর্শক ছাড়া গ্যালারি শুনশান। ৯০ মিনিটের খেলায় সেই গর্জন, সেই স্লোগান, সেই উত্তেজনা সব উধাও। আইএফএ -র  নতুন নিয়মে লিগের ছোট দলগুলোর  ম্যাচ হচ্ছে জেলার বিভিন্ন স্টেডিয়ামে। উদ্দেশ্য ভালো — জেলায় ফুটবল ছড়িয়ে দেওয়া। কিন্তু ফল উল্টো হয়েছে। কলকাতার সাধারণ সমর্থকের পক্ষে প্রতি সপ্তাহে নদিয়া, বর্ধমান, মালদা যাওয়া সম্ভব নয়। ফলে জেলার মানুষও যেমন আসছে না, তেমনি কলকাতার মানুষও যাচ্ছে না। ফুটবল চলছে, কিন্তু দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে। টিভি সম্প্রচার নেই, হাইলাইটস নেই। ফলে ‘খেলা হলো’— এইটুকুই খবর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যা শুধু জেলা-কলকাতা নয়। সমস্যা গভীরে।
আরও পড়ুন: গ্লাসগোর রেস্তোরাঁয় ভারতের মানচিত্রে ভুল দেখে আপত্তি রুপোজয়ী বক্সার লাভলিনার! শেষ পর্যন্ত কী ঘটল?
বেশিরভাগ ম্যাচ দুপুর ২টো বা ৩টেয় শুরু হচ্ছে। অফিস-কলেজ ফেরত মানুষ মাঠে যাবে কখন? আইএসএল আইপিএল.-এর মতো প্রচার নেই। পোস্টার নেই, ক্যাম্পেইন নেই। নতুন প্রজন্ম জানবেই বা কী করে? তবে এখন ঘরে বসে মোবাইলে প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগা দেখা।৪কে সম্প্রচার, ধারাভাষ্য ও অ্যানালিসিস। তার পাশে ময়দানের ফাঁকা গ্যালারি আর সাউন্ড সিস্টেমহীন ধারাভাষ্য — টিকবে কী করে? এক প্রাক্তন ফুটবলারের (Football) কথায়, _আমরা মাঠে খেলতাম ৬০ হাজার লোকের সামনে। এখন ছেলেরা খেলে ৬০ জনের সামনে। ওদের মধ্যে ফুটবলের প্রতি টান আসবে কী করে? ময়দান বাঁচাতে হলে শুধু খেলা হলেই হবে না। উৎসব ফেরাতে হবে।

সপ্তাহে অন্তত ২টো ম্যাচ সন্ধে ৬টায়, ফ্লাডলাইটে করা হোক। প্রতিটি ম্যাচ ইউটিউব/ফেসবুকে লাইভ। ধারাভাষ্য সহ চালু করা উচিত। স্কুল-কলেজে টিকিট বিলি, প্রাক্তন ফুটবলারদের নিয়ে রোডশো করা উচিত। ডার্বি কলকাতার পাশাপাশি জেলায় বছরে অন্তত একবার তিনপ্রধানের ম্যাচ দূরের জেলার দর্শকদের দেখার ব্যবস্থা করা। নাহলে জেলা থেকে কলকাতা — সর্বত্র ফুটবলের দর্শক হারিয়ে যাবে। থেকে যাবে শুধু খাতার পাতায় ১-০, ২-১ এর স্কোরলাইন। ময়দানে খেলা ফিরেছে। কিন্তু খেলা ময়দানে প্রাণ না ফিরলে, এই লিগ শুধু ফরমালিটি হয়েই থাকবে।