যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের সবুজ গালিচায় হলুদ জার্সি গায়ে নামছেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র, এনদ্রিক, মার্তিনেলি, কাসেমিরো, পাকেতা, এদেরসনরা, আর আপনি গ্যালারিতে বসে দেখেছেন সেই ঐতিহাসিক দৃশ্য- এমন স্বপ্ন দেখেছেন নাকি?
যদি দেখে থাকেন, তা হলে আপনার কাছে আসতে চলেছে এক বড় সুখবর। পুজোর সময় বাঙালির খুশির পরিমাণ বহুগুণ বাড়িয়ে উদয় হতে পারে গোটা ব্রাজিলীয় ফুটবল দল। প্রায় ১৫ বছর পর ফের কোনও বিশ্ব ফুটবলের মহাশক্তিকে দেখা যেতে পারে কলকাতার মাঠে।
সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে পুজোর মাসেই, অর্থাৎ অক্টোবরে কলকাতায় একটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে আসতে পারে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ইতিমধ্যেই এই নিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা শুরু করেছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (CBF)।
জানা যাচ্ছে, এ বছর ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালীন ভারতের, বিশেষ করে কলকাতার ফুটবল সমর্থকদের উন্মাদনা ব্রাজিলকে মুগ্ধ করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া হাজার হাজার ব্রাজিল-জার্সি পরা সমর্থকের ছবি এবং কলকাতার বিভিন্ন পাড়ায় ব্রাজিলের পতাকা, জার্সি ও ফুটবলারদের আঁকা ছবি-পোস্টারে ছেয়ে যাওয়ার ভিডিও সেলিসাও কর্তাদের নজর কেড়েছে। সেই আবেগের টানেই ভারতে একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা শুরু হয়েছে।
ইএসপিএন ব্রাজিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৫ সেপ্টেম্বর টাউনসভিলে এবং ২৯ সেপ্টেম্বর ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে নির্ধারিত দুটি প্রীতি ম্যাচের পাশাপাশি অক্টোবরের গোড়ায় ভারতে আরও একটি ম্যাচ আয়োজনের বিষয়ে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন আলোচনা চালাচ্ছে। তবে সেই ম্যাচে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ কে হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
কলকাতার সঙ্গে ব্রাজিলের আবেগের সম্পর্ক নতুন নয়। দশকের পর দশক ধরে এই শহরে ব্রাজিলের সমর্থকের সংখ্যা অন্য যে কোনও বিদেশি দলের তুলনায় অনেক বেশি। বিশ্বকাপের সময় শহরের অলিগলি হলুদ-সবুজ পতাকা ও জার্সিতে ছেয়ে যাওয়ার ছবি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও বারবার উঠে এসেছে। এবারের বিশ্বকাপেও সেই দৃশ্য নতুন করে ব্রাজিলের নজর কেড়েছে।
এই পরিকল্পনা ফিফার নতুন ‘সুপার ফিফা উইন্ডো’-র অংশ। এই বিশেষ আন্তর্জাতিক উইন্ডোর মেয়াদ সর্বাধিক ১৬ দিন। এই সময়ের মধ্যে প্রতিটি জাতীয় দল সর্বোচ্চ চারটি ম্যাচ খেলতে পারবে, যার মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের পাশাপাশি প্রীতি ম্যাচও থাকবে।
ইএসপিএন আরও জানিয়েছে, ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন নিশ্চিত করেছে যে ২০২৭-এ ব্রাজিল নিজেদের দেশে আরও বেশি প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করতে চায়। বিশেষ করে এমন শহরগুলিতে, যেগুলি সাধারণত জাতীয় দলের সূচিতে জায়গা পায় না।
সম্প্রতি শেষ হওয়া ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালীন কলকাতা যেন ব্রাজিল-উন্মাদনায় রঙিন হয়ে উঠেছিল। বিশেষ করে উত্তর কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় নেইমার ও ভিনিসিয়াস জুনিয়রের বিশাল কাট আউট শহরের ফুটবল-আবহকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছিল।
ভারতে যদি এমন কোনও শহরের নাম বলতে হয়, যেখানে বিশ্বকাপের জ্বর সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়, তবে তা নিঃসন্দেহে কলকাতা। আর তার মূল কারণ, এখানকার ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা। বড় কোনও আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতা এলেই তাঁদের আবেগে, পতাকায়, কাট আউটে ও উৎসবে গোটা শহরের চেহারাই বদলে যায়।
যদি শেষ পর্যন্ত এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তবে ২০১১-য় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আর্জেন্টিনার ম্যাচের পর আবারও কলকাতার দর্শকরা বিশ্বের অন্যতম সেরা জাতীয় দলকে সামনে থেকে দেখার সুযোগ পাবেন। ভারতীয় ফুটবলের জন্যও এটি হতে পারে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তবে এখন পর্যন্ত ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন বা ভারতীয় ফুটবল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো ঘোষণা করা হয়নি। আলোচনা সফল হলেই এই বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচের সূচি প্রকাশ করা হবে।