আজ বড় ম্যাচ, আজ শহরে বড় উৎসব, জিতবে কারা, লাল-হলুদ, না সবুজ-মেরুন, এই চর্চায় সরগরম বাংলা

Photo: X

চার সপ্তাহ আগে যে ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়েছিল এবারের ডুরান্ড কাপ, সেই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর হাত ধরেই শেষ হতে চলেছে এ মরসুমের এই টুর্নামেন্ট। বাঙালির প্রিয় বড়ম্যাচ। নয়া প্রজন্মের কাছে যা ডার্বি।

আজ, রবিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মুখোমুখি ইস্টবেঙ্গল এফসি ও মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট।

এ বারের ডুরান্ডে দুই দলের প্রথম সাক্ষাতে জিতেছিল মোহনবাগান। ২৫ জুলাই গ্রুপ এ-র উদ্বোধনী ম্যাচে সহাল আব্দুল সামাদের দ্বিতীয়ার্ধের গোলে জিতেছিল সবুজ-মেরুন। সেটিই এখনও পর্যন্ত ইস্টবেঙ্গলের একমাত্র হার। সেই হারের বদলা নেওয়ার পাশাপাশি ট্রফি জেতার সুযোগ এ বার লাল-হলুদের সামনে। অন্য দিকে, এখনও অপরাজিত মোহনবাগান রেকর্ড ১৮তম ডুরান্ড জয়ের লক্ষ্যে নামবে।


ফাইনালের পথে

গ্রুপ পর্বে দাপট দেখিয়েছে দুই দলই। ইস্টবেঙ্গলকে হারানোর পরে সাউথ ইউনাইটেড এফসিকে ৮-০ গোলে উড়িয়ে দেয় মোহনবাগান। সেই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছিলেন মনবীর সিং। পরে সিআইএসএফ প্রোটেক্টর্সকে ৬-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপের শীর্ষে থেকে পরের পর্বে যায় তারা। সেই ম্যাচে আবার প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিক করেন সহাল।

প্রথম ম্যাচে হারের পরে দুর্দান্ত ভাবে ঘুরে দাঁড়ায় ইস্টবেঙ্গল। সিআইএসএফ প্রোটেক্টর্সকে ৮-০ গোলে হারিয়ে কোচ হিসেবে প্রথম জয় পান আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। এর পরে সাউথ ইউনাইটেডকে ৫-০ গোলে হারিয়ে সেরা দুই রানার্স-আপের একটি হিসেবে নক-আউটে জায়গা করে নেয় লাল-হলুদ।

তবে নক-আউট পর্বে দুই দলের পথই ছিল কঠিন। কোয়ার্টার ফাইনালে পিভি বিষ্ণুর গোলে ইন্ডিয়ান আর্মি এফটিকে ১-০ হারায় ইস্টবেঙ্গল। সেমিফাইনালে স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লির বিরুদ্ধে গোলশূন্য ম্যাচের পরে টাইব্রেকারে জয়। মোহনবাগানও জিতেছে দুই ম্যাচেই টাইব্রেকারে। জামশেদপুর এফসির বিরুদ্ধে ১-১ হওয়ার পরে ৯-৮-এ জয়। বৃষ্টিবিঘ্নিত সেমিফাইনালে নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ম্যাচের পরে ৪-৩-এ টাইব্রেকার জেতে তারা। রবিন যাদব ও পার্থিব গগৈয়ের শট বাঁচিয়ে ম্যাচের নায়ক হন বিশাল কয়েথ।

<blockquote class=”twitter-tweet”><p lang=”en” dir=”ltr”>Two Masterminds. One Final Move. No Second Chances.<br><br>East Bengal FC vs Mohun Bagan Super Giant<br><br>23rd Aug | 5:00 PM | VYBK, Kolkata<br><br>Watch LIVE on <a href=”https://x.com/SonySportsNetwk?ref_src=twsrc%5Etfw”>@SonySportsNetwk</a> , <a href=”https://x.com/SonyLIV?ref_src=twsrc%5Etfw”>@SonyLIV</a> and Sony Aath.<a href=”https://x.com/hashtag/EBFCMBSG?src=hash&amp;ref_src=twsrc%5Etfw”>#EBFCMBSG</a> <a href=”https://x.com/hashtag/135thEditionofIndianOilDurandCup?src=hash&amp;ref_src=twsrc%5Etfw”>#135thEditionofIndianOilDurandCup</a> <a href=”https://x.com/hashtag/PoweredbySBIandCIL?src=hash&amp;ref_src=twsrc%5Etfw”>#PoweredbySBIandCIL</a> <a href=”https://x.com/hashtag/DeshKaCup?src=hash&amp;ref_src=twsrc%5Etfw”>#DeshKaCup</a>… <a href=”https://t.co/aINJS7qM5F”>pic.twitter.com/aINJS7qM5F</a></p>&mdash; Durand Cup (@thedurandcup) <a href=”https://x.com/thedurandcup/status/2091081230540591585?ref_src=twsrc%5Etfw”>August 22, 2026</a></blockquote> <script async src=”https://platform.x.com/widgets.js” charset=”utf-8″></script>

দুই রক্ষণের লড়াই

পরিসংখ্যানও বলছে, রবিবার যুবভারতীতে দুই শক্তিশালী রক্ষণভাগের লড়াই হতে চলেছে। ছ’ম্যাচে মোহনবাগান ১৬ গোল করেছে, হজম করেছে মাত্র একটি। ইস্টবেঙ্গলের গোলসংখ্যা ১৪, তারাও গোল খেয়েছে মাত্র একটি— সেও আবার আগের ডার্বিতেই।

ডুরান্ড কাপের ফাইনালে এ বার দুই দলের ১৩তম সাক্ষাৎ। এই লড়াইয়ের ইতিহাসও প্রায় সমানে সমানে। পাঁচ বার করে ডুরান্ড ফাইনাল জিতেছে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান। দু’বার যৌথ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ করে তারা। ২০২৩-এর শেষ ডার্বি ফাইনালে দিমিত্রিয়স পেত্রাতোসের ৭১ মিনিটের গোলে ১০ জনের মোহনবাগান ১-০-য় হারিয়েছিল ইস্টবেঙ্গলকে।

মোহনবাগান এখন ১৭ বার ডুরান্ড জিতে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে সফল দল। রবিবার জিতলে সেই সংখ্যা বেড়ে হবে ১৮। অন্য দিকে, ১৬ বারের চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল জিতলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে ব্যবধান ঘোচাবে।

তারকাদের দ্বৈরথ

এ বারের প্রতিযোগিতায় মোহনবাগানের অন্যতম ভরসা সহাল। প্রথম ডার্বির একমাত্র গোলের পরে সিআইএসএফের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিকও করেছেন তিনি। মনবীরও গোলের মধ্যে রয়েছেন। আর টাইব্রেকারে বিশাল কয়েথের দক্ষতা মোহনবাগানকে ফাইনালে পৌঁছে দিয়েছে।

ইস্টবেঙ্গলের অধিনায়ক মহম্মদ বাসিম রশিদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সেমিফাইনালে দু’বার তাঁর শট ক্রসবারে লেগেছে। পরে তিনিই টাইব্রেকারে জয়সূচক পেনাল্টি মারেন। গোলরক্ষক প্রভসুখন সিংহ গিলও স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লির বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময় এবং টাইব্রেকার— দুই ক্ষেত্রেই পেনাল্টি বাঁচিয়ে ইস্টবেঙ্গলকে ফাইনালে তুলেছেন।

মোহনবাগানের আক্রমণভাগে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারেন মিগেল ফিগেইরা ও লালিয়ানজুয়ালা ছাংতে। ইস্টবেঙ্গল থেকে মোহনবাগানে আসা ব্রাজিলীয় মিডফিল্ডার ফিগেইরা এবং ভারতীয় উইঙ্গার ছাংতে দু’জনেই কোচ এর বড় ভরসা। নর্থইস্টের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে বদলি হিসেবে নেমেছিলেন তারা। ফাইনালে ম্যাচের পরিস্থিতি বদলাতে তাঁদের ব্যবহার করতে পারেন কোচ প প্যানাগিওতিস দিলমপেরিস।

Photo: Statesman

কৌশলের যুদ্ধ

কৌশলের দিক থেকেও দুই দলের লড়াই বেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। হাবাসের ইস্টবেঙ্গল মূলত রক্ষণকে মজবুত রেখে সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। প্রতিপক্ষের চাপ সামলে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠা এবং পিভি বিষ্ণুর গতি ও রশিদের সেট-পিসকে কাজে লাগানোই লাল-হলুদের অন্যতম অস্ত্র। কিন্তু এই ম্যাচে বিষ্ণুকে পাচ্ছেন না হাবাস।

তিনি অবশ্য ডার্বির আবেগকে দলের উপর বাড়তি চাপ হয়ে উঠতে দিতে চান না। তিনি বলেছেন, ‘কলকাতা ডার্বি ভারতের একটি অনন্য এবং স্পেশাল ম্যাচ। কিন্তু আমাদের একে অন্য ম্যাচের মতোই ভাবতে হবে। এত বড় ম্যাচে বাড়তি অনুপ্রেরণার প্রয়োজন হয় না। পুরো ৯০ মিনিট নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখাটাই সবচেয়ে জরুরি। কোনও অজুহাতের জায়গা নেই। শেষ পর্যন্ত মাঠে যে দল বেশি বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে খেলবে, তারাই ম্যাচ জিতবে।’

অন্য দিকে, দিলমপেরিস চান বলের দখল এবং আক্রমণাত্মক ফুটবলের মাধ্যমে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে। তাঁর মতে, শুধু অভিজ্ঞতা থাকলেই হবে না, ডার্বিতে মানসিক লড়াইটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ’ ও নির্ভরযোগ্য।

মোহনবাগান কোচ বলেছেন, ‘ইস্টবেঙ্গলের গুণগত মান এবং অভিজ্ঞতা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু আমরা ৯০ মিনিটের মধ্যেই ম্যাচ শেষ করতে চাই। আমাদের দলে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে এ রকম ম্যাচে শুধু অভিজ্ঞতা যথেষ্ট নয়। আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে লড়াইয়ের মানসিকতা নিয়ে না খেললে সমস্যা হবে। এ ধরনের ম্যাচ মানসিক লড়াইয়েও জেতা হয়। তাই কাল আমাদের আবেগ নিয়ন্ত্রণে রেখে জয় ছিনিয়ে নিতে হবে।’

প্রথম বড় ম্যাচ

মোহনবাগানের বিদেশি ফুটবলার সামির জেলকোভিচের কাছে আবার রবিবারের ম্যাচ একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা। প্রথম বার কলকাতা ডার্বিতে নামার আগে তিনি বলেন, ‘কাল আমার প্রথম ডার্বি। ভারতীয় ফুটবলের সবচেয়ে বড় ম্যাচে অংশ হতে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত। আমরা ধীরে ধীরে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া বাড়াচ্ছি এবং প্রতি দিন উন্নতি করছি। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ট্রফি জেতা।’

এক দিকে হাবাসের ধৈর্যশীল, সংগঠিত ইস্টবেঙ্গল— সুযোগ পেলেই দ্রুত পাল্টা আক্রমণে আঘাত হানার পরিকল্পনা। অন্য দিকে দিলমপেরিসের মোহনবাগান— বলের দখল রেখে শুরু থেকেই ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা। প্রথম ডার্বিতে সহালের গোলের মতো এ বারও কি সবুজ-মেরুন বাহিনী প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে পারবে? নাকি প্রথম ম্যাচের হারের বদলা নিয়ে লাল-হলুদ ব্রিগেড মাঠ ছাড়বে ট্রফি জিতে?

ইতিহাস, আবেগ, কলকাতার শ্রেষ্ঠত্ব এবং মরসুমের প্রথম বড় ট্রফি— সব কিছু মিলিয়ে রবিবার যুবভারতীতে ফের এক মহারণ। ৯০ মিনিটে ফয়সালা না হলে, সাম্প্রতিক দুই নক-আউট ম্যাচের মতো আবারও কি পেনাল্টির টানটান উত্তেজনা? উত্তর মিলবে রবিবার সন্ধ্যায়।

ম্যাচ শুরু বিকেল ৫টায়। সোনি স্পোর্টস নেটওয়ার্কে সরাসরি সম্প্রচার হবে ম্যাচটির। দেখা যাবে সোনিলিভেও।