নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিনটি একদিনের ম্যাচের সিরিজে ভারত লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত সিরিজ নিজেদের হাতে রাখতে পারল না। প্রথম একদিনের ম্যাচে শুভমন গিল ব্রিগেড জয় তুলে নিলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় একদিনের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে পরাস্ত হওয়ায় ভারত পিছিয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, ভারতীয় বোলারদের ব্যর্থতা যেমন চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে, পাশাপাশি বিরাট কোহলি, লোকেশ রাহুল সহ দু-একজন ভারতীয় ক্রিকেটারদের ব্যাটিং ছাড়া সবাই হতাশ করেছেন। যার ফলে নিউজিল্যান্ড নির্ভয়ে ভারতের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বাজিমাত করেছে। ভারতের তরুণ ক্রিকেটারদের কাছে যে খেলা আশা করা গিয়েছিল, তার সার্থক রূপ দেখতে পাওয়া যায়নি। বলতে দ্বিধা নেই, নিউজিল্যান্ডের বোলারদের কাছে তাঁরা মোকাবিলা করতে পারেননি। ভারতের এই হতাশাজনক খেলার পরে কোচ গৌতম গম্ভীর ও নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্যরা কী উত্তর দেবেন?
একদিনের সিরিজে নিউজিল্যান্ডের সাহসী ক্রিকেটার ড্যারিল মিচেল যেভাবে ভারতীয় বোলারদের কোণঠাসা করে রেখে দিয়েছিলেন, তার জন্য অবশ্যই অভিনন্দন তোলা থাকবে। এবারের সিরিজে সেরা সম্মানটা তুলে দেওয়া হয়েছে ড্যারিল মিচেলের হাতে। অবশ্যই এই সম্মানটা তাঁরই প্রাপ্য। নিউজিল্যান্ডের এই ব্যাটসম্যান ভারতের মাটিতে তিন ম্যাচ সিরিজে দু’টি শতরান উপহার দিয়েছেন। আর এই শতরানকে ভর করে পরপর দুটো একদিনের ম্যাচে নিউজিল্যান্ড বাজিমাত করেছে। তবে, ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে বিরাট কোহলিকে আবার নতুন করে পাওয়া গেল। তিনি একটি ম্যাচে শতরান করেছেন। কিন্তু অন্য একটি ম্যাচে অল্পের জন্য শতরান থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সেই অর্থে ভারতের সেরা ব্যাটসম্যান বলতে প্রায় চল্লিশ ছুঁই ছুঁই ক্রিকেটার বিরাট কোহলি।
বিরাটের পাশে দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচে উইকেটরক্ষক লোকেশ রাহুল শতরান করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। রোহিত শর্মার কাছ থেকে সেইভাবে তাঁর ‘হিটম্যান’-এর চরিত্রকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে সবারই আক্ষেপ থাকতে পারে, কিন্তু যে সমস্ত ক্রিকেটার টানা খেলার মধ্যে রয়েছেন, তাঁদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। অধিনায়ক শুভমন গিল, রবীন্দ্র জাদেজা ও হর্ষিত রানাদের ব্যাট থেকে কিছু রান ভারতীয় স্কোরবোর্ডে দেখতে পাওয়া গেলেও, কিন্তু নির্ভরতা আসেনি।
সবচেয়ে ভালো লাগল সিরিজের সেরা নিউজিল্যান্ডের ড্যারিল মিচেলকে উপহার তুলে দিলেন ভারতের সেরা ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি। যখন এই দুই তারকা ক্রিকেটার খেলার শেষে মাঠের মধ্যে দাঁড়িয়েছিলেন, তখনই এই দারুণ দৃশ্যটা উপভোগ করা গেছে। কোহলি যখন নিজের সই করা জার্সিটা মিচেলের হাতে তুলে দিলেন, তখন তিনিও হাসি বিনিময় করে অভিনন্দন জানালেন। এটাই হল মাঠের ভদ্রলোক ক্রিকেটারদের কাহিনি। প্রতিপক্ষ দলের সেরাকে কীভাবে কাছে টেনে নিতে হয় বা কুর্নিশ জানাতে হয়, তার প্রমাণ রেখে গেলেন ভারতের
বিরাট কোহলি।