ফল ৪-৩। কিন্তু কোচির জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে বুধবার রাতে আসল জয় হল ফুটবলেরই। মাঠে নেমেছিলেন রোনাল্ডিনহো (Ronaldinho), ফার্নান্দিনহো (Fernandinho), রিভালদোর (Rivaldo) মতো ব্রাজিলীয় (Brazil) কিংবদন্তিরা। তাঁদের সামনে ভারতের হয়ে খেললেন আই এম বিজয়ন, বাইচুং ভুটিয়া, জো পল আনচেরিরা। সাত গোলের রোমাঞ্চকর প্রদর্শনী ম্যাচে ভারতীয় অল স্টারদের হারাল ব্রাজিল লেজেন্ডস।
গোলের খাতা অবশ্য খোলে ভারতই। দুরন্ত ফিনিশে সি কে বিনীত ব্রাজিলের (Brazil) বিরুদ্ধে ভারতকে এগিয়ে দেন। তার পর ২১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে সমতা ফেরান রোনাল্ডিনহো (Ronaldinho)। ব্রাজিলের (Brazil) সেই চেনা হলুদ জার্সি, পায়ে বল নিয়ে জাগলারি আর তার পরেই গোল—গ্যালারি তখন কার্যত আনন্দে পাগল।
আরও পড়ুন: ইরানি কাপে ঋষভ পন্থদের কোচ হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে বাংলার হেড কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্ল
এর পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে নিয়ে নেন ফার্নান্দিনহো। একের পর এক আক্রমণ থেকে তিনটি গোল করে হ্যাটট্রিক করেন তিনি। ফলে দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়েই ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল (Brazil) লেজেন্ডস।
তবে স্কোরলাইনই যে এই ম্যাচের আসল গল্প নয়, তা শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল। প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের মতো শুধু হার-জিতের ফয়সালা নিয়ে মাথাব্যাথা ছিল না গ্যালারির দর্শকদের। তাদের উদ্দেশ্য ছিল তাদের শৈশব-কৈশোরের ফুটবল-নায়কদের এক ঝলক কাছ থেকে দেখা, তাঁদের সঙ্গে ছবি তোলা, অটোগ্রাফ নেওয়া।
গ্যালারিতে রোনাল্ডিনহোর (Ronaldinho) নামে বার বার উঠেছে স্লোগান। তার মধ্যেই শোনা গিয়েছে, ‘আমরা রোনাল্ডোকে চাই।’ অর্থাৎ ব্রাজিলের আর এক মহাতারকা রোনাল্ডোকেও (Ronaldo) দেখার দাবি উঠেছে দর্শকদের মধ্যে।
ম্যাচের শেষে কোচির পরিচিত ‘ভাইকিং ক্ল্যাপ’-ও হয়। তবে এ বার সেটি শুধু ভারতীয় সমর্থকদের নয়—ব্রাজিলীয় (Brazil) কিংবদন্তিরাও সেই ছন্দে হাততালি দিয়ে ওঠেন। মাঠে ৯০ মিনিটের প্রতিযোগিতা ছিল না, কিন্তু ফুটবল-নস্ট্যালজিয়ায় ভরা এই রাত কোচির দর্শকদের কাছে হয়ে থাকল স্মরণীয়।
আর মাঠ ছাড়ার সময় রোনাল্ডিনহোর (Ronaldinho) জন্য গ্যালারির উচ্ছ্বাসই বলে দেয়—ফুটবলের কিছু নায়ক সময়ের সঙ্গে বুড়ো হন না। তাঁদের জাদু থেকে যায় তাদের পায়ে।