সর্বভারতীয় মঞ্চে নকআউট-খরা: কলকাতার জুনিয়র ব্রিগেড

প্রতীকী চিত্র

রনজিৎ দাস

সাবজুনিয়র, জুনিয়র ও এলিট লিগের তথ্য বলছে, ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান, মহামেডান ও ইউনাইটেড স্পোর্টস – চার ক্লাবই জোনালে দাপট দেখালেও নকআউট পর্বে পৌঁছতে পারছে না। ব্যতিক্রম শুধু মোহনবাগানের সাবজুনিয়র দল। রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন ডেভেলপমেন্ট লিগ ২০২৫/২৬-এর অনূর্ধ-২১ পর্যায়েও একই ছবি। আইএসএল ও আই-লিগের টিমের জুনিয়র দলগুলোর পারফরম্যান্স তুলে ধরলে ছবিটা আরও স্পষ্ট হয়।

ইস্টবেঙ্গল সাবজুনিয়র, জুনিয়র ও এলিট – তিন স্তরেই জোনালে অপ্রতিরোধ্য। সাবজুনিয়রে জোনাল গ্রুপে ১২ ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট, গোল পার্থক্য +২৪। জুনিয়রে ১২ ম্যাচে ২৯ পয়েন্ট, গোল পার্থক্য +৩৩। এলিট লিগে ১০ ম্যাচে ২৫ পয়েন্ট, গোল পার্থক্য +১৯। রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন ডেভেলপমেন্ট লিগের রিজিওনাল ও জোনাল দুই পর্বেই ৫ ম্যাচে ৪ জয়, ১ হার, ১২ পয়েন্ট। রিজিওনালে গোল পার্থক্য +১২, জোনালে +৮। কিন্তু নকআউট বা ফাইনাল রাউন্ডে এলেই ছন্দপতন। এলিটের ফাইনাল রাউন্ডে ৩ ম্যাচে ১ পয়েন্ট, ১ গোল। সাবজুনিয়রেও ফাইনাল রাউন্ডে ৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ। আরএফডিএল-এর ন্যাশনাল গ্রুপে ১০ ম্যাচে মাত্র ১ জয়, ২ ড্র, ৭ হার। পয়েন্ট ৫, গোল পার্থক্য -৭। জোনালের পরিসংখ্যান দিয়ে আত্মতৃপ্তিতে ভুগলে হবে না, নকআউটে ফল না এলে এই দাপট অর্থহীন।


মোহনবাগানের সাবজুনিয়র দলই একমাত্র নকআউটে পৌঁছেছে। সাবজুনিয়রে জোনালে ১২ ম্যাচে অপরাজিত থেকে ৩০ পয়েন্ট, ৩১ গোল করে ৪ গোল খেয়েছে। ফাইনাল রাউন্ড টপকে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও টাইব্রেকারে ১-৪ গোলে হেরে বিদায় নেয়। কিন্তু জুনিয়র, এলিট ও আরএফডিএল-এ চিত্রটা আলাদা। জুনিয়রে ১২ ম্যাচে ২৯ পয়েন্ট, গোল ৪০-১০। এলিট লিগে ১০ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট, ৩২ গোল। আরএফডিএল-এর রিজিওনালে ৫ ম্যাচে ৪ জয়, ১ হারে ১২ পয়েন্ট, গোল পার্থক্য +১৫। জোনালে ৫ ম্যাচে ২ জয়, ২ ড্র, ১ হার, পয়েন্ট ৮, গোল পার্থক্য +৩।

ন্যাশনাল গ্রুপে ১০ ম্যাচে ৩ জয়, ৪ ড্র, ৩ হার, ১৩ পয়েন্ট। এলিটের ফাইনাল রাউন্ডে তিন ম্যাচে তিন ড্র। অর্থাৎ সাবজুনিয়র ছাড়া অন্য কোনো স্তরে নকআউটে যেতে পারেনি বাগান। একটা বয়সভিত্তিক দল নকআউটে উঠে টাইব্রেকারে হারলে হবে না, সব স্তরেই শেষ আটে যাওয়ার যোগ্যতা দেখাতে হবে।

মহামেডানের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। এলিট লিগে ১০ ম্যাচে ০ জয়, ২ পয়েন্ট, ৩৪ গোল হজম। সাবজুনিয়রে একের পর এক লজ্জার হারের পর মাঝপথেই দল তুলে নিতে বাধ্য হয়েছে তারা। জুনিয়রেও জোনাল পার করতে পারেনি। রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন ডেভেলপমেন্ট লিগের অনূর্ধ-২১ পর্যায়ে মহামেডানের কোনো দলই নেই। ইউথ সিস্টেমে এই দৈন্যদশা চলতে থাকলে ঐতিহ্য দিয়ে ক্লাব বাঁচবে না, মাঠে ফল চাই।

ইউনাইটেড স্পোর্টসের পারফরম্যান্স চরম ধারাবাহিকতার অভাবের নিদর্শন। এলিট লিগে ১০ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট, ৬ জয়, ২ ড্র, ২ হার। অথচ সাবজুনিয়রে জোনাল রাউন্ডে ৮ ম্যাচে ৫ হার, জয় ২টি, ড্র ১টি। ৯ গোল করে খেয়েছে ১৩টি। কোয়ালিফায়ার ধরলে ১০ ম্যাচে ৬ হার। জুনিয়রেও কোয়ালিফায়ারে ২ ম্যাচে শূন্য পয়েন্ট। আরএফডিএল-এর রিজিওনালে ৫ ম্যাচে ২ জয়, ১ ড্র, ২ হার, পয়েন্ট ৭, গোল পার্থক্য -৬। জোনালে ৫ ম্যাচে ০ জয়, ১ ড্র, ৪ হার, পয়েন্ট ১, গোল পার্থক্য -১০। এক টুর্নামেন্টে লড়াই, অন্যটায় আত্মসমর্পণ – এই খামখেয়ালি পারফরম্যান্স দিয়ে পেশাদার
ফুটবল হয় না।

ডায়মন্ড হারবার এফসি এলিট লিগে ভালো ফল করেনি। আশা করা হয়েছিল রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন ডেভেলপমেন্ট লিগের ন্যাশনাল রাউন্ডে তারা ভালো করবে, কিন্তু সেখানেও তারা ব্যর্থ। তবে প্রথম বছর জুনিয়র পর্যায়ে অংশগ্রহণ করছে বলে তাদের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেওয়া যায়। সাবজুনিয়র থেকে এলিট, রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন ডেভেলপমেন্ট লিগ থেকে জাতীয় স্তর – মোহনবাগানের সাবজুনিয়র দল ছাড়া আর কোনো দলই কোনো টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে পৌঁছতে পারেনি।