স্বপ্ন দেখাচ্ছেন কেকেআরের বাতিল সাকিব হুসেন

ফাইল চিত্র

আইপিএলে এখনও জয়ের মুখ দেখেনি কলকাতা নাইট রাইডার্স। পরপর ম্যাচ হেরে কার্যত ধুঁকছে তারা। এই অবস্থায় আইপিএলের মঞ্চেই বল হাতে জ্বলে উঠলেন নাইট রাইডার্সের বাতিল সাকিব হুসেন। সোমবার রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে বল হাতে কার্যত আগুন ঝরালেন তিনি। অভিষেক ম্যাচেই নিজের প্রথম ওভারেই ফর্মে থাকা যশস্বী জয়সওয়ালকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। এদিন মোট চারটি উইকেট নিয়েছেন তিনি। অথচ ২০২৪ সালে তাঁকে দলে নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। তবে, একটিও ম্যাচ না খেলিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেয় শাহরুখ খানের দল। সেই সুযোগ বুঝে এবছর মিনি নিলামে তাঁকে ৩০ লক্ষ টাকা দিয়ে বেস প্রাইসে কিনে নেয় হায়দরাবাদ।

সাকিবের উত্থানের গল্প কিন্তু মোটেই সহজ ছিল না। কৃষকের সন্তান সাকিবকে একটা সময়ে দু’বেলা কী খাবেন তা নিয়েই ভাবতে হত। তবে, প্রথমদিন থেকেই দেশের সেবা করার একটা সুপ্ত বাসনা ছিল সাকিবের। সেই উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে চেয়েছিলেন তিনি। এমনকি, বাড়ির কাছেই সেনার স্টেডিয়ামে সকালবেলা নিয়ম করে দৌড়োতেন তিনি। তখনই দুই জওয়ান তাঁর বাবা আলি আহমেদ হুসেনকে বলেছিলেন, ছেলের মধ্যে তেজ আছে। তাকে যেন খেলাধুলোয় দেওয়া হয়। সাকিব জানান, টেনিস বলে খেপ খেলতেন। আসলে তাঁর টাকার দরকার ছিল। ৫০০, ৬০০, ৭০০ টাকা করে পেতাম। একটু দূরে খেলা থাকলে ম্যাচপিছু ২,০০০ টাকা করে পেতেন। প্রথম থেকেই সাকিব সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ক্রিকেট খেলবেন।

তবে, চূড়ান্ত দারিদ্রতার সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকা সাকিবের ক্রিকেট খেলার ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় ছিল অর্থ। তাই, তাঁকে বুট কিনে দিতে গহনা বিক্রি করে ছেলেকে জুতো কিনে দিয়েছিলেন সাকিবের মা সুবুক তারা খাতুন। সৈয়দ মুস্তাক আলি টি টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় বিহারের হয়ে একটি ম্যাচে প্রথম নজর কাড়েন তিনি। সেখান থেকে চেন্নাই সুপার কিংসের নজরে পড়লে সাকিবকে নেট বোলার হিসাবে ডাকে তারা।