ফিফা বিশ্বকাপে জাপানের ফুটবলাররা যেমন লড়াকু মানসিকতার জন্য পরিচিত, তেমনই তাদের সমর্থকেরাও বারবার বিশ্ববাসীর হৃদয় জয় করে নিয়েছেন শৃঙ্খলা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের অনন্য উদাহরণ স্থাপন করে। ২০২৬ বিশ্বকাপেও তার ব্যতিক্রম হল না।
নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে রুদ্ধশ্বাস ২-২ ড্রয়ের পর ডালাস স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে দেখা গেল পরিচিত সেই দৃশ্য। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর উল্লাসে মেতে ওঠার বদলে জাপানি সমর্থকদের অনেকেই হাতে নীল রঙের আবর্জনার ব্যাগ নিয়ে গ্যালারির বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে থাকা বোতল, খাবারের মোড়ক এবং অন্যান্য বর্জ্য সংগ্রহ করতে শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়োয়।
রবিবার বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘এফ’-এর ম্যাচে দু’বার পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরায় জাপান। কেইতো নাকামুরা এবং দাইচি কামাদার গোলের সুবাদে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট অর্জন করে ‘সামুরাই ব্লু’রা। তবে ম্যাচের ফলাফলের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে সমর্থকদের আচরণ।
জাপানি সমর্থকদের এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান নতুন কিছু নয়। ১৯৯৮-এর বিশ্বকাপ থেকে শুরু হওয়া এই ঐতিহ্য এখনও অব্যাহত রয়েছে। ২০১৮-এ রাশিয়া বিশ্বকাপে জাপানের খেলোয়াড়রা হারের পর ড্রেসিংরুম পরিষ্কার করে ধন্যবাদ-বার্তা রেখে গিয়েছিলেন। ২০২২-এর কাতার বিশ্বকাপেও গ্যালারি পরিষ্কার করার জন্য বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছিল জাপানি সমর্থকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আচরণের শিকড় জাপানের সামাজিক ও শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে নিহিত। দেশটির বহু স্কুলে শিক্ষার্থীরাই নিজেদের শ্রেণিকক্ষ ও স্কুল প্রাঙ্গণ পরিষ্কার করে। ছোটবেলা থেকেই তাদের শেখানো হয় যে, ব্যবহারের পর কোনও জায়গা আগের চেয়ে নোংরা রেখে যাওয়া উচিত নয়। জাপানে একটি জনপ্রিয় প্রবাদও রয়েছে— ‘যেভাবে পেয়েছ, সেভাবেই রেখে যাও।‘ এই মূল্যবোধই ক্রীড়াঙ্গনেও প্রতিফলিত হয়।
বিশ্বকাপের মতো বিশাল আসরে যখন অনেক সময় গ্যালারিতে আবর্জনা ফেলে চলে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়, তখন জাপানি সমর্থকদের এই উদ্যোগ অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। ফুটবল মাঠে জয়-পরাজয়ের বাইরে যে সম্মান, দায়িত্ববোধ ও নাগরিক সচেতনতারও একটি বড় ভূমিকা রয়েছে, তা আবারও মনে করিয়ে দিলেন জাপানের সমর্থকেরা।