রঞ্জি ট্রফি ক্রিকেটে ইতিহাস গড়ে প্রথমবার ফাইনালে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে জম্মু-কাশ্মীর। আর তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে কর্ণাটক। স্বাভাবিকভাবেই এই লড়াইটা যে অন্যরকম হবে, তা জানাই ছিল। কেউই ভাবতেই পারেননি জম্মু-কাশ্মীরের ক্রিকেটাররা এমন কিছু ঘটনা ঘটাবেন, যা নতুন করে আরও একটি ইতিহাস তাঁরা গড়ে ফেলবেন। খেলার প্রথম দিন থেকেই কর্ণাটকের বিরুদ্ধে জম্মু-কাশ্মীরের ক্রিকেটারদের দাপট দেখতে পাওয়া গিয়েছে। প্রথম দিনে ২ উইকেট হারিয়ে জম্মু-কাশ্মীর ২৮৪ রান করে। আর বুধবার দ্বিতীয়দিনে সেই দাপট আবারও দেখতে পাওয়া গিয়েছে। বলতে দ্বিধা নেই, কর্ণাটকের বোলারদের পাত্তাই দিচ্ছেন না প্রতিপক্ষ দলের ক্রিকেটাররা। দ্বিতীয় দিনের শেষে রানের পাহাড় গড়ে ফেলেছে জম্মু-কাশ্মীর। তাঁরা ৬ উইকেট হারিয়ে ৫২৭ রান করেছে। কর্ণাটক দলের প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার মতো বোলারদের কোনও জায়গাই দিচ্ছেন না জম্মু-কাশ্মীরের শুভম পুণ্ডির, আবদুল সামাদ, হাসান খান, কানহাইয়া ওয়াধাওয়ান ও অধিনায়ক পরশ ডোগরারা।
প্রথম দিনের ২ উইকেটে ২৩৪ রান নিয়ে খেলতে নামেন শুভম পুণ্ডির ও পরশ ডোগরা। ১২১ রান করে শুভম পুণ্ডির আউট হয়ে যান। তিনি ১২টি বাউন্ডারি ও দু’টি ছক্কা মারেন। পরশ ডোগরা স্বচ্ছন্দে খেলছিলেন। তিনি ৭০ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরত যান। এই রান তোলার ফাঁকে তিনি আটটি বাউন্ডারি মেরেছেন। কানহাইয়া ওয়াধাওয়ান ৭০ রানে আউট হন। তিনি ১০৯টি বল খেলেছেন এবং নয়টি বাউন্ডারি মারেন। শাহিল লোটরা দিনের শেষে ৫৭ রান করে অপরাজিত রয়েছেন। আর আবিদ মুস্তাক ২০ রান করে ক্রিজে রয়েছেন। কর্ণাটকের বোলাররা প্রতিপক্ষ দলের ব্যাটসম্যানদের উপর প্রভাব ফেলতে পারেননি। সেই কারণেই জম্মু-কাশ্মীরের পাহাড় প্রমাণ রানের সামনে কীভাবে কর্ণাটকের ব্যাটসম্যানরা লড়াই করবেন, সে প্রশ্ন থেকেই যাবে।
এদিকে প্রথম দিনের খেলায় কোনওরকম অসুবিধা না হলেও দ্বিতীয় দিনে মাঠে অশান্তি তৈরি হয়। খেলা চলাকালীন কর্ণাটকের ক্রিকেটারকে ঢুঁসো মারেন জম্মু-কাশ্মীরের অধিনায়ক পরশ ডোগরা। আবার কর্ণাটকের মায়াঙ্ক আগরওয়াল, লোকেশ রাহুলদের সঙ্গেও বচসায় জড়িয়ে পড়েন প্রতিপক্ষ জম্মু-কাশ্মীর দলের খেলোয়াড়রা। ঘটনাটি ঘটে ১০১তম ওভারের সময়। অশান্তিকে সামাল দেওয়ার জন্য আম্পায়ারদের হস্তক্ষেপ করতে হয়।
সেই সময় বল করছিলেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ। তাঁর একটি বল খেলার পরেই দেখা যায় ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে ফিল্ডিং করা কেভি অনীশের দিকে তেড়ে যাচ্ছেন পরশ। তাঁদের মধ্যে কিছু কথা হয়। তার পরেই দেখা যায়, অনীশকে ঢুঁসো মারেন পরশ। তবে দুই ক্রিকেটারই হেলমেট পরে থাকায় মাথায় চোট লাগেনি। পরে বোঝা যায়, পরশকে স্লেজ করায় মেজাজ হারান জম্মু-কাশ্মীরের অধিনায়ক।
আচমকা এই ঘটনায় অবাক হয়ে যান অনীশ। সঙ্গে সঙ্গে সেখানে আসেন মায়াঙ্ক। তিনি পরশকে প্রশ্ন করেন, কেন ঢুঁসো মারলেন তিনি। তাতে পরশ আরও কিছু বলেন। ঘটনাস্থলে এ বার আসেন রাহুল। তাঁর সঙ্গেও বচসায় জড়ান পরশ। বাধ্য হয়ে পরিস্থিতি সামলাতে আসেন আম্পায়ারেরা। তাঁরা কথা বলেন পরশের সঙ্গে। তার পরে দেখা যায়, কর্ণাটকের অধিনায়ক দেবদত্ত পড়িক্কলের সঙ্গে দুই আম্পায়ার কথা বলছেন। তাঁরা তাঁকে পরিস্থিতি বোঝানোর চেষ্টা করেন। এই ঘটনার ফলে কিছুক্ষণ পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকে। পরশের কাজে খুশি হননি জম্মু-কাশ্মীরের প্রধান কোচ অনিল শর্মাও। ডাগ আউটে তাঁকে দেখে বোঝা যায়, বিরক্ত হয়েছেন। হাতের ইশারায় পরশদের খেলার দিকে মন দেওয়ার নির্দেশ দেন অনিল।
পরের ওভারে আবার একটি বচসা ঘটতে পারত। রান নেওয়ার সময় কর্ণাটকের পেসার বিজয়কুমার বৈশাখের সঙ্গে ধাক্কা লাগে ওয়াধাওয়ানের। দুই ক্রিকেটার আবার সামনাসামনি চলে আসেন। তবে কিছু বলার আগেই সেখানে চলে আসেন আম্পায়ারেরা। দুই ক্রিকেটারকে সরিয়ে নিয়ে যান তাঁরা।