পরে ব্যাট করলেও জিততাম, সিরিজ জয়ের পর বললেন আত্মবিশ্বাসী গিল

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

বুধবার লখনৌয়ে দ্বিতীয় ওয়ান ডে ম্যাচে আফগানিস্তানের সামনে ৪০২ রানের পাহাড় গড়ে ভারত। শুভমান গিল ও ইশান কিষানের দুর্দান্ত জোড়া সেঞ্চুরিতে ভর করে এই বিশাল রান তোলে তারা। যা একদিনের ক্রিকেটে ভারতের অন্যতম সেরা ইনিংস।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই যশস্বী জয়সওয়ালের উইকেট হারায় ভারত। তবে রোহিত শর্মা ও শুভমান গিল ইনিংস সামাল দেন। রোহিত ৩৯ বলে ৪৮ রান করে রশিদ খানের শিকার হন। তার ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ২টি ছক্কা।

রোহিত আউট হওয়ার পর গিলের সঙ্গে জুটি বাঁধেন ইশান কিষান। এই জুটি আফগান বোলারদের ওপর চরম আধিপত্য বিস্তার করে। গিল ও ইশান মিলে ২২৪ রানের বিধ্বংসী পার্টনারশিপ গড়ে ভারতের ইনিংসকে রানের পাহাড়ে তুলে দেন।

ভারতীয় অধিনায়ক গিল ১১০ বলে ১৫৪ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ২২টি চার ও ২টি ছক্কা। এই সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে তিনি একাধিক রেকর্ড গড়েন এবং ওয়ানডে ক্রিকেটে ভারতের অন্যতম দ্রুততম ৩,০০০ রান সংগ্রহকারী হিসেবেও নতুন কীর্তি গড়েন।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ইশান কিষান দারুণ ভাবে নিজেকে ফিরিয়ে আনেন। তিনি ১২৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন এবং মাত্র ৭১ বলে শতরান পূর্ণ করেন। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ওয়ানডে ইতিহাসের দ্রুততম শতরানের তালিকায়ও নিজের নাম তুলেছেন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। এই ৪০২ রানের ইনিংসের মাধ্যমে ভারত ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বাধিক ৪০০-প্লাস স্কোরের তালিকায় ইংল্যান্ডকে পেছনে ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকার সমান উচ্চতায় পৌঁছে যায়।


জবাবে ব্যাট করতে নেমে আফগানিস্তান ২৩২ রানে অল আউট হয়ে যায়। ভারত জেতে ১৭০ রানে। পাঞ্জাবের দুই বোলার অর্শদীপ সিং ও গুরনুর ব্রার তিনটি করে উইকেট এবং প্রিন্স যাদব দুটি উইকেট নেন। ওয়াশিংটন সুন্দর একটি উইকেট নেন।
এই জয়ের পর ভারতীয় দলের অধিনায়ক শুভমান গিল বলেন, “আজ যদি আগে বোলিংও করতাম, আমার মনে হয় উইকেট প্রায় একই রকম থাকত। যদি ৩১০-৩২০ রানের লক্ষ্য পেতাম, তাহলে সেটা আমাদের জন্য ভালো রান তাড়া হতো এবং আমাদের ব্যাটিং ইউনিটের ওপর একটা ইতিবাচক চাপও তৈরি করত।”

নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে তিনি বলেন, “সত্যি বলতে, আমি খুব ভালো জায়গাতেই আছি। বল ঠিক সেখানেই যাচ্ছে, যেখানে আমি চাইছি। প্রথম বল থেকেই আমি খুব আত্মবিশ্বাসী অনুভব করছি। এমনকি এই ম্যাচে, আসলে পুরো সিরিজেই, আমি নিজের জন্য একটা লক্ষ্য ঠিক করেছিলাম—আমি উইকেটে থাকতে চাই, ম্যাচ শেষ করে আসতে চাই এবং ৪০-৪৫ ওভার পর্যন্ত ব্যাট করতে চাই, যাতে সেই অভ্যাসটা তৈরি হয়। যখনই ভালো শুরু করতে পারব, সেটাকে বড় ইনিংসে রূপরিণত করতে চাই।”

বুধবার ব্যাট করতে করতে গরমে কাবু হয়ে পড়েন শুভমান। সেই প্রসঙ্গে বলেন, “যখন আউট হলাম, তখন শরীরের বিভিন্ন জায়গায় অনেক খিঁচুনি ধরেছিল। তবে আবহাওয়া খুব গরম ছিল এবং আমি প্রায় ৪০-৪৫ ওভার ব্যাট করেছি। তাই শরীরের বিভিন্ন অংশে খিঁচুনি হচ্ছিল। তবে পরে অনেকটাই সুস্থ হয়ে যাই।”