‘ভারতীয় ফুটবলকে বাঁচিয়েছে আইএসএল’

দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে আইএসএলের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে ফেডারেশন। তাদের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ না করা হলেও জানানো হয়েছে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের শীর্ষ লিগের বল গড়াবে। আর তাতেই স্বস্তি পেয়েছে ফুটবলার থেকে শুরু করে ক্লাব কর্তারা। এবার প্রাক্তন ফুটবলারদের মুখেও সেই একই কথা শোনা গেল।

রবিবার একটি অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে ক্রীড়া সাংবাদিক ক্লাবে উপস্থিত হয়েছিলেন বাইচুং ভুটিয়া, ভাস্কর গাঙ্গুলি , দীপেন্দু বিশ্বাস, প্রসূন বন্দোপাধ্যায়, বিকাশ পাঁজি, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য্য’রা। বাইচুংয়ের মতে, আইএসএল শুরু হওয়াটা ভারতীয় ফুটবলের জন্য অবশ্যই ভালো একটা দিক। খেলোয়াড়রা আবারও মাঠে ফিরতে পারবে। তিনি বলেন হয়তো, এবারের আইএসএলটা প্রত্যেকের জন্যই অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং।

তবে, দেশের শীর্ষ লিগ শুরু হওয়াটা ভীষণ দরকার ছিল বলেই মনে করছেন বাইচুং। একইসঙ্গে তিনি আশাপ্রকাশ করেছেন, আগামী মরসুম শুরুর আগেই দেশের ফুটবলের স্বার্থে ফেডারেশন দীর্ঘমেয়াদি কোনও পরিকল্পনা নিশ্চয় তৈরী করবে। প্রাক্তন ভারতীয় এই স্ট্রাইকার জানান, হয়তো ভারতীয় ফুটবল নিয়ে একটা বাজে বিজ্ঞাপন গেল।


তবে, লিগ শুরু হওয়াটা খুবই দরকার ছিল বলে মনে করছেন বাইচুং। প্রায় একই কথা শোনা গেল দীপেন্দু বিশ্বাসের গলায়ও। তিনি বলেন, আইএসএল না হলে দেশের ফুটবলের ক্ষতি হতো। সেক্ষেত্রে, ফিফার পক্ষ থেকে ভারতীয় ফুটবলকে হয়তো শাস্তির কবলে পড়তে হতো। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন টুর্নামেন্ট মিলিয়ে প্রায় কুড়ি-পঁচিশটা ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে। সেখানে ভারতের একনম্বর লিগের একটা ম্যাচও খেলা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে দ্রুত আইএসএল করা ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না বলেই মত দীপেন্দুর।

অন্যদিকে, আইএসএলের নতুন ফরম্যাট নিয়ে কিছুটা হলেও ক্ষুব্ধ বিকাশ পাঁজি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য যেভাবে আইএসএল হচ্ছে সেটা কোনও লিগ নয়। সেজন্য, বেশিরভাগ দলই তাদের তারকা খেলোয়াড়দের ছেড়ে দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এটা একটা “ফান ফুটবল” হতে চলেছে। তিনি আশঙ্কাপ্রকাশ করেছেন ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়েও। বিকাশ পাঁজি বলেন, এভাবে চললে ভারতীয় ফুটবলের উন্নতি কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

এদিন, কলকাতা ক্রীড়া সাংবাদিক ক্লাবে অর্ঘ্য বন্দোপাধ্যায়ের লেখা অলোক মুখাৰ্জীর আত্মজীবনী “লাল কার্ডের বাইরে” প্রকাশ করা হল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতীতের দিকপাল খেলোয়াড়রা।