আজ দুপুরে নয়াদিল্লির সাইয়ে ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য ও আইএসএলের ক্লাবগুলির মধ্যে যে বৈঠক হওয়ার কথা, সেই বৈঠকে আগামী মরসুমের ইন্ডিয়ান সুপার লিগ নিয়ে জট কাটতে পারে, এমন অনেকে মনে করলেও সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের অন্দরমহল থেকেই এই ব্যাপারে নেতিবাচক মত উঠে আসছে। ফেডারেশনের একাধিক কর্তার মতে, এই বৈঠকেই জট কেটে যাবে এবং আইএসএলের দিনক্ষণ স্থির হয়ে যাবে, এমন মনে করা বোধহয় ঠিক নয়।
এর আগেও আইএসএল ক্লাবগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রী। সেই বৈঠকে তিনি ক্লাবগুলিকে ডেকেছিলেন ফেডারেশনের মাধ্যমে। এ বারের বৈঠকে কিন্তু সরসারি ক্লাবগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্রীড়ামন্ত্রক। ফেডারেশন কর্তাদেরও এই বৈঠকে নেমন্তন্ন করে আনা হচ্ছে। কোনও পক্ষকেই বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তুও জানানো হয়নি। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, আইএসএল নিয়ে জট এখন কী অবস্থায় রয়েছে, শুধু সেই ব্যাপারে আপডেট পাওয়ার জন্যই এই বৈঠক ডেকেছেন ক্রীড়ামন্ত্রী। এখানে কোনও সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম।
তা ছাড়া ক্রীড়ামন্ত্রকের পক্ষ থেকে আগামী মরসুমের আইএসএল শুরু করা নিয়ে বা তাদের মার্কেটিং পার্টনার সম্পর্কিত কোনও সিদ্ধান্ত যদি জানানো হয়, তা হলে তা ফুটবলের আন্তর্জাতিক নিয়মের বিরুদ্ধে যেতে পারে। কারণ, ফিফার নিয়মেই রয়েছে, কোনও দেশের ফুটবল সংক্রান্ত যাবতীয় সিদ্ধান্ত সরকারি ভাবে নিতে হবে সেই দেশের জাতীয় ফুটবল নিয়ামক সংস্থাকেই। দেশের সরকার বা তার কোনও মন্ত্রক এই ব্যাপারে সরাসরি কোনও হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। সে রকম যদি হয়, তা হলে এআইএফএফ-এর বিরুদ্ধে সাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে ফিফা। এর আগেও তারা সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে ভারত-সহ একাধিক দেশকে শাস্তি দিয়েছিল তারা। তাই এ বার এই ভুল তারা করবে বলে মনে হয় না।
যদিও বা ক্রীড়ামন্ত্রক ফেডারেশনকে আজ কোনও নির্দেশ দেয়, তা হলেও তা যতক্ষণ না ফেডারেশনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কমিটিতে তা অনুমোদিত হচ্ছে, ততক্ষণ সেই ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত হবে না। আজ বিকেলের বৈঠকে ক্রীড়ামন্ত্রক ফেডারেশনকে আইএসএলের জট কাটানোর কোনও পথ বাতলে নির্দিষ্ট কোনও নির্দেশ দেবে, নাকি শুধুই সব পক্ষের মতামত শুনে বৈঠক শেষ করে দেবে, সেটাই দেখার।
ফেডারেশন সূত্রে আগেই জানা গিয়েছিল, আইএসএলে খেলা ক্লাবগুলির জোট ফেডারেশনকে যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তা খুব একটা অপছন্দ হয়নি সংস্থার শীর্ষস্থানীয় কর্তাদের। এই প্রস্তাবে জানানো হয়, আগামী দুই মরসুমের জন্য আইএসএল আয়োজনের দায়িত্ব নিতে চায় তারা এবং এজন্য ফেডারেশনকে তারা বছরে ১৫ কোটি টাকা করে দেবে।
তার আগে মার্কেটিং পার্টনারের দায়িত্ব পাওয়ার জন্য বিড করা বিদেশি সংস্থা জিনিয়াস স্পোর্টস যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তাতে তারা জানিয়েছিল আগামী ২০ বছরের জন্য তারা আইএসএলের মার্কেটিং পার্টনার হতে চায় এবং প্রতি বছর তারা ফেডারেশনকে ১২ কোটি টাকা করে দেবে। কিন্তু জিনিয়াস স্পোর্টসের এই প্রস্তাবে ক্লাবগুলি কোনও আর্থিক লাভের সম্ভাবনা দেখতে পায়নি। সেই কারণেই তারা আকারে ইঙ্গিতে ফেডারেশনকে বুঝিয়ে দেয়, এই প্রস্তাব মেনে নিয়ে খেলা তাদের পক্ষে সম্ভব হবে না।
পরিস্থিতি এমনই হয় যে, পাঁচ-ছ’টি ক্লাব তাদের ঝাঁপ বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনাও করতে শুরু করে দেয়। সে রকম পরিস্থিতি যাতে না হয়, সেই জন্যই ক্লাব জোট ফেডারেশনকে সম্প্রতি এই প্রস্তাব দেয়। এ ছাড়াও ফেডারেশনকে তারা জানিয়েছে, তাদের আইএসএল চালানোর দায়িত্ব দিলে ফেডারেশনের অধিকারে তারা হস্তক্ষেপ করবে না। সে জন্যই ফেডারেশনের এগজিকিউটিভ কমিটি এই প্রস্তাবে সম্মতি দিতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। এ বার হঠাৎ করে ক্রীড়ামন্ত্রক এই ব্যাপারে জানতে চাওয়ায় বিষয়টি অন্য কোনও দিকে গড়ায় কি না, সেটাই দেখার।