শামির আগুন এখনও জ্বলছে, ৩৬-এও উইকেটের জন্য ছটফট করেন, জাতীয় দলে ফিরতে মরিয়া, বলছেন তাঁর অধিনায়ক

Mohammed Shami CAB FELICITATED SHAMI FOR 100TH FC MATCH. PIC X

বয়স ৩৬ পেরিয়েছে। জাতীয় দলের দরজা বেশ কিছু দিন ধরে বন্ধ। তবু ভিতরের আগুনটা এখনও নেভেনি। বরং ঘরোয়া ক্রিকেটে যত বার সুযোগ পাচ্ছেন, তত বারই বুঝিয়ে দিচ্ছেন— ফিরতে চান।

মহম্মদ শামির সেই তাগিদই সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে ইশান কিষাণের। ডানহাতি পেসারের লড়াইয়ের প্রশংসা করে পূর্বাঞ্চল অধিনায়ক জানিয়ে দিলেন, শামির মধ্যে এখনও সেই পুরনো খিদে রয়েছে।

দুলীপ ট্রফির সেমিফাইনালে মধ্যাঞ্চলের বিরুদ্ধে পাঁচ উইকেট নিয়ে পূর্বাঞ্চলকে ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন শামি। ৯৯টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে তাঁর উইকেটের সংখ্যা ৩৮২। তবু যেন তৃপ্তি নেই। যা দেখে বেশ অবাকই হয়েছেন ইশান।


‘আমার মনে হয়, শামি ভাই অন্যতম সেরা। এই খেলাটার কিংবদন্তি। বাংলার হয়ে খেলা শুরু করার পর থেকেই দুর্দান্ত পারফর্ম করে আসছে। উইকেট নিয়েছে, নিজের সমস্ত শক্তি দিয়েছে এবং ভারতীয় দলের হয়েও অসাধারণ খেলেছে,’ বলেছেন ইশান।

বয়স নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই ইশানের সাফ কথা, ‘বয়স তো শুধুই একটা সংখ্যা। কেউ যদি পরিশ্রম করে, তা হলে বয়স কোনও ব্যাপার নয়। শামি ভাইয়ের মধ্যে সেই খিদেটা আমি দেখতে পাচ্ছি। আর এই খিদে কী, সেটা আমার চেয়ে ভাল আর কে বুঝতে পারবে?’ জাতীয় দলের বাইরে থাকার অভিজ্ঞতার দিকেই যে ইশান ইঙ্গিত করেছেন, তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি।

এখনকার শামিকে আগের চেয়ে আলাদা লাগছে ইশানের। বিশেষ করে তাঁর তীব্রতা এবং মানসিকতা। ‘এই মরসুমে শামি ভাইকে দেখে আমার মনে হয়েছে, আগের চেয়ে ও অনেকটাই বদলে গিয়েছে। খেলার প্রতি ওর দৃষ্টিভঙ্গি, তীব্রতা, শক্তি— সব কিছুই এখন অন্য রকম,’ বলেছেন পূর্বাঞ্চলের অধিনায়ক।

শুধু বল হাতে নয়, অধিনায়ককে সাহায্য করতেও বার বার এগিয়ে আসেন শামি। উইকেটের জন্য চান অতিরিক্ত ওভার। অবাক ইশানের কথায়, ‘অধিনায়ক হিসেবে ওর এই চেষ্টা দেখে আমার খুব ভাল লেগেছে। শামি ভাই নিজেই এসে আমার কাছে বাড়তি ওভার চেয়েছে, যাতে উইকেট নিতে পারে। যে বোলার নিজে থেকে অধিনায়কের কাছে এসে উইকেট নেওয়ার দায়িত্ব নিতে চায়, তাকে দলে পেলে বাড়তি আত্মবিশ্বাস পাওয়া যায়’।

হাসতে হাসতে তিনি যোগ করেন, ‘ও দুটো বাউন্ডারিও মেরেছে। আমার তো মনে হচ্ছে, এখন শামি ভাই অলরাউন্ডার হয়ে গিয়েছে! ওকে আমাদের দলে পেয়ে আমি খুশি’। শেষ বার ভারতীয় দলের জার্সি গায়ে শামিকে দেখা গিয়েছিল ২০২৫-এর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে নিউজ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে। তার পর থেকে জাতীয় দলের বাইরে তিনি। কিন্তু সেই দীর্ঘ বিরতিও তাঁর প্রতিযোগিতার মানসিকতায় আঁচড় কাটতে পারেনি বলেই মনে করেন ইশান।

‘ভারতীয় দলের হয়ে নিয়মিত খেলতে না পারার পরেও ঘরোয়া ম্যাচে একই রকম অনুপ্রেরণা ধরে রাখা খুব কঠিন। কিন্তু শামি ভাইয়ের মধ্যে এখন সেই খিদে এবং অনুপ্রেরণা রয়েছে। ও আবার ফিরে আসতে চায়, ভারতীয় দলে জায়গা করে নিতে চায়। এই মরিয়াভাবটা ওর মধ্যে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে,’ বলেন ইশান।

দলীপ ট্রফির ফাইনালে দক্ষিণাঞ্চলের বিরুদ্ধে নামবে পূর্বাঞ্চল। সেই দলের অধিনায়ক তিলক ভার্মাও শামিকে নিয়ে সতর্ক। তবে ভয় নয়, চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত দক্ষিণাঞ্চল।

তিলকের কথায়, ‘শামি ভাইয়ের বিরুদ্ধে খেলা আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। গত ম্যাচে দেখেছি, কী ভাবে ও ব্যাটারকে সেট আপ করে উইকেট নিয়েছে। কিন্তু এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ব্যাপারে আমরা আত্মবিশ্বাসী। এ জন্যই তো খেলাটাকে ভালবাসি। আমরা যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়েছি। শামির মোকাবিলা করার জন্য আমরা তৈরি’।

অর্থাৎ, বয়স যা-ই বলুক, শামির শরীরী ভাষা এখনও অন্য গল্প বলছে। জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের খিদেই এখন শামির সবচেয়ে বড় অস্ত্র।