প্রথম দিনেই ম্যাচের রাশ হাতে নিয়েছিল তারা। দ্বিতীয় দিন সেই দাপট আরও বাড়ল। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে ইশান কিশনের ব্যাটে এল এক ঝকঝকে ডাবল সেঞ্চুরি। সঙ্গে কুমার কুশাগ্রর দুরন্ত শতরান। শেষ খবর, ১৩২ ওভারে ৬১৮/৫—দলীপ ট্রফির ফাইনালে দক্ষিণাঞ্চলের বিরুদ্ধে ছ’শো রানের পাহাড় গড়ল পূর্বাঞ্চল।
প্রথম দিন ১১১ রানে অপরাজিত ছিলেন ইশান। দ্বিতীয় দিনও থামানো গেল না তাঁকে। ২৭০ বলে দলীপের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন অধিনায়ক। পাডিক্কলের বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দুশো পূর্ণ করেন ইশান। এক দিকে আগ্রাসন, অন্য দিকে উইকেটে থাকার জেদ—দুইয়ের মিশেলে ক্রমেই বড় হয়ে ওঠে ইশানের ইনিংস। দুশো রানে পৌঁছানোর পর গিয়ার তুলে দেন এবং পরের তিরিশ বলে আরো পঞ্চাশ রান তুলে ফেলেন পূর্বাঞ্চল অধিনায়ক।
ইশানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যাট করেছেন কুমার কুশাগ্র। দুলীপ ট্রফিতে নিজের প্রথম শতরান করলেন তিনি। ১৩২ বলে ১০১ রানের ঝকঝকে ইনিংসে ছিল আটটি চার এবং পাঁচটি ছক্কা। শতরান পূর্ণ করার পর বেশিক্ষণ অবশ্য টিকতে পারেননি। স্পিনার ত্রিপুরানা বিজয়ের বলে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান কুশাগ্র।
ইশান-কুশাগ্র জুটিই ম্যাচটাকে দক্ষিণাঞ্চলের নাগালের বাইরে নিয়ে গেল। পঞ্চম উইকেটে দু’জনে মিলে ২৮৭ বলে ২৩০ রান যোগ করেন।
দক্ষিণাঞ্চলের বোলিংয়ের ছবি অবশ্য একেবারেই উল্টো। ভারতের তারকা পেসার মহম্মদ সিরাজও কোনও প্রভাব ফেলতে পারেননি। ২১ ওভারে ১১৮ রান দিয়েও উইকেটশূন্য থেকেছেন তিনি।
দক্ষিণের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার চামা মিলিন্দ। ১৮ ওভারে ৮১ রান দিয়ে নিয়েছেন দু’টি উইকেট। ত্রিপুরানা বিজয়ও দু’টি উইকেট পেয়েছেন, কিন্তু ৩৮ ওভারে দিয়েছেন ১৭৩ রান। ফলে পূর্বাঞ্চলের রান থামানোর মতো চাপ তৈরি করতে পারেনি দক্ষিণের বোলিং আক্রমণ।
প্রথম দিনও ইস্ট জ়োনের হয়ে রান পেয়েছিলেন অভিমন্যু ঈশ্বরণ (৭২), শিখর মোহন (৮৫) এবং ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশী (৪৪)। প্রথম দিনের শেষে ৩৮৫/৪ থেকে দ্বিতীয় দিনে সেই রান পেরিয়ে ৬০০-র গণ্ডি টপকে গিয়েছে তারা।
এখন নজর ইশানের দিকে। তাঁর ব্যাটে আরও রান এলে ফাইনালে দক্ষিণের সামনে আরও কঠিন লক্ষ্য দাঁড়াবে। চেন্নাইয়ের চিপকে তাই তৃতীয় দিনের শুরুতেই বড় প্রশ্ন—পূর্বাঞ্চল খেতাব থেকে আর কত দূরে।