আজ যুবভারতীতে চাণক্য হাবাসের কৌশলের সঙ্গে লড়াই ইরাকের দ্বিতীয় সেরা ক্লাবের, কী পরিস্থিতি, কেমন হতে পারে দল, কোথায় দেখবেন? সব খবর এখানে

Photo: EBFC

বুধবারের এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২ ম্যাচের জন্য এখন পর্যন্ত আইএসএলে নামেনি ইস্টবেঙ্গল ( EBFC)। পুরো উর্জাটুকুই মজুত করে রেখে দিয়েছে বুধবার সন্ধ্যার এই ম্যাচের জন্য, যেখানে প্রতিপক্ষ ইরাকের আল শোর্তা। কেমন এই ক্লাব? কতটা শক্তিশালী তারা? ইরাকের সফল ক্লাবগুলির অন্যতম এই আল শোর্তা। ৯৪ বছর বয়সি এই ক্লাব ইরাকের সর্বোচ্চ পর্যায়ের স্টার লিগ জিতেছে আটবার। ২০২৩-২৪-এ তারা লিগ ও এফএ কাপ- দুই খেতাবই জিতেছিল একসঙ্গে। ২০২২ থেকে ২০২৫—টানা চার বছর লিগ জিতে ইরাকের ফুটবলে নজির গড়েছে তারা। গত মরসুমে রাানার্স আপ হয় তারা।

আর এ বছর তাদের দেশের লিগে ন’টি ম্যাচ খেলা হয়ে গিয়েছে আল শোর্তার। লিগ টেবলে তারা রয়েছে পাঁচ নম্বরে। মাত্র একটি ম্যাচ হেরেছে তারা। চারটি জয় ও চারটি ড্র করেছে। এই দলে রয়েছেন সাতজন বিদেশি ও দুজন বিশ্বকাপার, যারা এ বছর বিশ্বকাপে ইরাক দলে ছিলেন। গোলকিপার জালাল হাসান নরওয়ে ও সেনোগালের বিরুদ্ধে গোলে দাঁড়িয়েছেন। ফরোয়ার্ড মোহনাদ আলি বিশ্বকাপে একটি ম্যাচ খেলেছেন নরওয়ের বিরুদ্ধে, তাও পুরোটা নয়। বিদেশিরা এসেছেন ক্যামেরুন, নাইজেরিয়া, আর্জেন্টিনা, কঙ্গো, নাইজার, ডেনমার্ক, ভেনেজুয়েলা ও পর্তুগাল থেকে।

ইস্টবেঙ্গলের ( EBFC) প্রতিপক্ষ কেমন, সেই সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারনা তো দেওয়া গেল। কিন্তু ইস্টবেঙ্গল সম্পর্কে কী ধারনা নিয়ে এসেছে আল শোর্তা? তিউনিশিয়ার মতো একটা ছোট দেশকে বিশ্বকাপের মূলপর্বে তোলা কোচ স্যামি ত্রাবেলসি এই দলের কোচ। কলকাতায় এসে তিনি বলেন, ‘ইস্টবেঙ্গল ভালো দল। বেশ কয়েকজন ফুটবলারকে আমার ভালো লেগেছে। বিশেষ করে তিনজন’। কোন তিনজন, তা অবশ্য বলেননি।


আরও পড়ুন: আইএসএলের প্রথম ম্যাচেই ধাক্কা খেল মোহনবাগান এসজি, শেষ মুহূর্তের গোলে হার

এই টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ২-২ ড্র করেছিল ইস্টবেঙ্গল। প্রতিপক্ষ জর্ডনের আল হুসেইনের মাঠে গিয়েই এই কাণ্ড করে এসেছিল লাল-হলুদ বাহিনী। তখন থেকেই আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের দলকে যথেষ্ট শ্রদ্ধার চোখে দেখছে গ্রুপে অন্য দলগুলি। তারা আছে গ্রুপ ডি-তে। যেখানে তিন পয়েন্ট নিয়ে আল শোর্তাই শীর্ষে। প্রথম ম্যাচেই তারা ১-০-য় হারায় ওমানের আল সিবকে। প্রথম ম্যাচে ড্র করায় এক পয়েন্ট নিয়ে দুই ও তিনে ইস্টবেঙ্গল ও আল হুসেইন।

তাই দুই দলের কাছেই এই ম্যাচ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আল শোর্তা জিতলে নক আউটের দিকে অনেকটা এগিয়ে যাবে আর ইস্টবেঙ্গল জিতলে নক আউটের দৌড়ে টিকে থাকার রসদ পাবে। যদিও সমর্থকদের কাছে এই টুর্নামেন্টে তাদের প্রিয় ক্লাবের বিশাল কিছু করে ফেলা একদমই সোজা হবে না। তবে তাদের স্প্যানিশ মহাগুরু হাবাস আত্মবিশ্বাসী, ভালো কিছু করা যেতেই পারে।

তাঁর হাতে ছ’জন বিদেশি। কিন্তু ছ’জনই কি আর পুরো ম্যাচ খেলার মতো অবস্থায় আছেন? একেবারেই নন। আকে লোবা ও লুকাস জোলিনস্কি মাত্র নদিন আগে কলকাতায় পা রেখে দুটো ম্যাচ খেলে ফেললেও, কোচের আস্থা বোধহয় এখনও অর্জন করতে পারেননি।

সে দিক থেকে পিছিয়েই আছে ইস্টবেঙ্গল ( EBFC)। তবে বিদেশি সংখ্যা নিয়ে বেশি ভাবতে নারাজ হাবাস। তিনি বলেই দিলেন, ‘বিদেশির সংখ্যা ওদের বেশি বলেই যে ওরা এগিয়ে, এটা মানতে রাজি নই আমি। আমাদের ফুটবলাররা যথেষ্ট ভালো মানের। দেশি-বিদেশি আমি আলাদা করে বুঝি না। আমার হাতে যে সেরা এগারো ফুটবলার আছে, তাদেরই কাল মাঠে নামাব। পরে বাকি সেরা পাঁচজন। আমার দল এ রকমই হবে’।

মাঝমাঠে দানি রামিরেজ, রক্ষণে দিয়েগো জিভুলিচ, আক্রমণে মহম্মদ বাসিম রশিদ থাকবেনই ধরে নিয়ে বলা যায়, প্রতিপক্ষ যেখানে শক্তিশালী, তাই মিডফিল্ডার ক্রিস ইকোনোমিডিসকে হয়তো শুরু থেকেই খেলাবেন হাবাস। আইএফএ শিল্ড ফাইনালে ডিফেন্ডার আনোয়ার আলিকে বিশ্রাম দিয়েছিলেন, এই ম্যাচে নামাবেন বলে। তাই এই ম্যাচে তিনি খেলবেন ধরে নেওয়াই যায়। এ ছাড়া আর কোনো বড়সড় পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা কম।

আরও পড়ুন: ‘গত দেড় মাসে জীবনের কঠোর বাস্তব শিখেছি, এবার নতুন জীবন পেলাম’, ঘুরে দাঁড়ানোর সেঞ্চুরির পর বললেন অভিষেক পোড়েল

শক্তিশালী দলকে কী ভাবে কাবু করতে হয়, তা জানেন চাণক্য হাবাস। এর আগেও তাঁর কৌশলের কাছে পরাজিত হয়েছে অনেক বাঘা বাঘা দল। সেই জন্যই তো ভারতীয় ক্লাব ফুটবলে তিনি সবচেয়ে সফল কোচ হিসেবে পরিচিত। ধুরন্ধর কৌশলের জন্যই তাঁকে চাণক্য বলা হয়। হাবাস কোনো পুরনো কৌশল এই ম্যাচের জন্য তৈরি রেখেছেন বলে মনে হয় না। হয়তো এমন কোনো নতুন ছক সামনে আনবেন, যা দেখে প্রতিপক্ষও চমকে যেতে পারে। এবং সেই আকস্মিকতাকেই কাজে লাগিয়ে হয়তো শুরুর দিকে একটা গোল দিয়ে দেবে ইস্টবেঙ্গল, এমন পরিকল্পনাই নিশ্চয়ই আছে লাল-হলুদ কোচের।

কিন্তু কোচের এই ছক অনুযায়ী নিখুঁত খেলাটা তো ফুটবলারদেরই কাজ। আইএফএ শিল্ডের ফাইনালের পর থেকে তারা এই কৌশল বাস্তবায়নের প্রস্তুতিই নিচ্ছে। এ বার দেখার কতটা কাজে লাগে হাবাসের কৌশল ও নিজেদের পারফরম্যান্সে তা কতটা ফুটিয়ে তুলতে পারেন আনোয়ার আলি থেকে মহম্মদ রশিদরা। পারলে ইস্টবেঙ্গল লড়াইয়ে থাকছে, না পারলে অনেকটা পিছিয়ে পড়তে হবে তাদের। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এই ম্যাচ শুরু ৭.১৫ থেকে। সরাসরি সম্প্রচার দেখা যাবে ‘ফ্যানকোড’ অ্যাপে।

দেখুন: <iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/N6g_XzAG6tA?si=0SBvXRk5XCbRlr-O” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>