চলতি বিশ্বকাপে ইরান-নিউজিল্যান্ড ম্যাচের পর নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন ইরানের গোলদাতা মোহাম্মদ মোহেবি। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে গোল করার পর তাঁর উদযাপনের ধরনকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।
লস অ্যাঞ্জেলিসের সো-ফাই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘জি’-র ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে গোলে ড্র করে ইরান। দুবার পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে ফিরে আসে এশিয়ার দলটি। প্রথমে রামিন রেজাইয়ান এবং পরে মোহাম্মদ মোহেবি গোল করে ইরানকে এক পয়েন্ট এনে দেন।
তবে ম্যাচের ফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে মোহেবির এই সেলিব্রেশন। গোল করে সমতা ফেরানোর পর তিনি এমন একটি ভঙ্গি করেন, যা অনেকের কাছে বন্দুক তাক করার ইঙ্গিত বলে মনে হয়েছে। এর পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক-সহিংসতা একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় হওয়ার পরও এমন উদযাপন কতটা গ্রহণযোগ্য।
বিতর্কের মাত্রা আরও বেড়েছে ম্যাচটির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে। ইরানের বিশ্বকাপ অভিযান এমন এক সময়ে চলছে, যখন দেশটির সরকারকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক, প্রবাসী ইরানিদের বিক্ষোভ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক নিয়ে উত্তেজনা বিশ্বমঞ্চে আলোচিত বিষয়। ম্যাচের আগে ও ম্যাচ চলাকালীন স্টেডিয়ামের বাইরে এবং ভেতরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দেখা গিয়েছে। জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর সময়ও দর্শকদের একাংশের কটূক্তি শোনা যায়।
এই পরিস্থিতিতে মোহেবির সেলিব্রেশনকে অনেক সমালোচক ‘অসংবেদনশীল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। যদিও ইরান শিবির থেকে এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, সমর্থকদের একটি অংশের দাবি, এটি ছিল নিছক আবেগের বহিঃপ্রকাশ এবং ফুটবলে এ ধরনের সেলিব্রেশন নতুন কিছু নয়।
সুইডেনের প্রাক্তন তারকা ফুটবলার স্লাতান ইব্রাহিমোভিচ এই প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘ফুটবলারদের আবেগ, আত্মবিশ্বাস থাকা অবশ্যই ভাল। আমি এগুলো পছন্দ করি। ফুটবলারদের চারিত্রিক দৃঢ়তা থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিশ্বকাপের মতো বিশাল মঞ্চে কী ভাবে আনন্দ উদযাপন করা উচিত, এই নিয়ে আগে থেকে ভাবনা-চিন্তা করা উচিত’।
ম্যাচে অবশ্য ইরান তাদের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা কুড়িয়েছে। নিউজিল্যান্ডের এলাইজা জাস্ট দুবার দলকে এগিয়ে দিলেও প্রতিবারই জবাব দিয়েছে ইরান। রেজাইয়ানের গোলের পর মোহেবির হেড থেকেই আসে সমতাসূচক গোল। ফলে গ্রুপ ‘জি’-তে ইরান, নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম ও মিশর—চার দলই প্রথম ম্যাচের পর এক পয়েন্ট করে পেয়েছে।
তবে মাঠের ফুটবলের পাশাপাশি মোহেবির গোল-উদযাপন এখন বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ‘বন্দুক উদযাপন’-এর প্রতীকী অর্থ নিয়ে বিতর্ক যে সহজে থামছে না, তা স্পষ্ট।