আজ ইন্দোরে আবার রান ফোয়ারার পূর্বাভাস! ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই শ্রেয়সদের

Photo: X

রাঁচিতে ৫০১ রান উঠেছিল । তার পরেও ম্যাচ জিততে পারেনি ভারত। ২৪৯ রান তুলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের কাছে হারতে হয়েছে শ্রেয়স আইয়ারদের। এ বার সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি দুই দল। আজ, রবিবার ইন্দোরের হোলকার স্টেডিয়ামে ফের কি দেখা যাবে রানের বন্যা? পিচের চরিত্র এবং মাঠের ছোট বাউন্ডারি দেখে তেমনই পূর্বাভাস পাওয়া গিয়েছে। ফলে ব্যাটারদের পাশাপাশি আরও এক বার কঠিন পরীক্ষার সামনে ভারতীয় বোলাররা।

পাঁচ ম্যাচের সিরিজে এখন ফল ১-১। প্রথম ম্যাচে ভারত আট উইকেটে জিতলেও দ্বিতীয় ম্যাচে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২৫০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে অনায়াসে জয় তুলে নিয়েছে তারা। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে রান তাড়া করে জয়ের ক্ষেত্রে যা অন্যতম নজির। এ বার ঘরের মাঠে সিরিজে এগিয়ে যেতে মরিয়া ভারত।

ইন্দোরের হোলকার স্টেডিয়াম বরাবরই ব্যাটারদের স্বর্গরাজ্য হিসাবে পরিচিত। সমতল পিচ এবং ছোট বাউন্ডারি ব্যাটারদের বড় শট খেলতে সাহায্য করে। ফলে বোলারদের জন্য স্বস্তির জায়গা খুব বেশি নেই। দুই দলের বোলারদেরই নিজেদের পরিকল্পনা নিখুঁত ভাবে কার্যকর করতে হবে।


রাঁচিতে ভারতীয় বোলারদের ব্যর্থতার অন্যতম কারণ ছিল ক্যাচ ফেলা। বিশেষ করে শেরফেন রাদারফোর্ডের ক্যাচ ছাড়ার খেসারত দিতে হয়েছে ভারতকে। সেই সময় ১৮ বলে ৩৮ রানে ব্যাট করছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই বাঁহাতি ব্যাটার। জীবন ফিরে পেয়ে শেষ পর্যন্ত ৩৭ বলে ৮৪ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল সাতটি চার ও সাতটি ছয়।

অন্য দিকে, অধিনায়ক শাই হোপের ব্যাটও দুরন্ত ছন্দে। ভারতের বিরুদ্ধে এই সফরে দু’টি শতরান করেছেন তিনি। রাদারফোর্ডের সঙ্গে তাঁর ১২০ রানের জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এ বারও ভারতীয় বোলারদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হোপকে দ্রুত ফেরানো।

ব্যাট হাতে ভারতীয় দলের কয়েকটি ইতিবাচক দিকও রয়েছে। অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার আবার পুরনো ছন্দে ফিরেছেন। প্রাক্তন ব্যাটিং কোচ অভিষেক নায়ারের সঙ্গে অনুশীলনের পর ব্যাটিংয়ে উন্নতি দেখা গিয়েছে তাঁর। সিরিজ়ের দ্বিতীয় ম্যাচে অপরাজিত ১০২ রান করার পাশাপাশি ১৮ বলে ৪০ রানের ঝোড়ো ইনিংসও খেলেছেন তিনি।

দীর্ঘ দিন বড় রান না পাওয়ার পরে সঞ্জু স্যামসনও রাঁচিতে নিজের জাত চিনিয়েছেন। মাত্র ৪১ বলে ৮২ রান করে ভারতকে বড় স্কোরে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন তিনি। তাঁর এই ইনিংসের পরে প্রথম একাদশে জায়গা ধরে রাখার দাবি আরও জোরালো হয়েছে। ফলে তরুণ বৈভব সূর্যবংশীর সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা এখন আরো কমে গিয়েছে।

ভারতীয় দলের কোচ গৌতম গম্ভীর অবশ্য মিডল অর্ডারে ব্যাটিংয়ের জায়গা বদল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যেতে চান। রাঁচিতে শ্রেয়সের আগে শিবম দুবেকে চার নম্বরে পাঠানো হয়েছিল। মাত্র সাত রান করে আউট হলেও সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে খুব বেশি ভাবতে নারাজ ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট।

ব্যাটিংয়ে স্বস্তি থাকলেও বোলিং নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না ভারতের। বিশেষ করে অর্শদীপ সিংহের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। প্রথম দুই ম্যাচে ৭৯ রান দিয়ে মাত্র একটি উইকেট পেয়েছেন তিনি।

অন্য দিকে, মায়াঙ্ক যাদব গত ম্যাচে গতি ও উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা দেখিয়েছেন। শুরুতেই দুই উইকেট তুলে নিয়ে ভারতকে এগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তিনটি উইকেট পান মায়াঙ্ক। ইন্দোরেও তাঁর গতি ভারতের বড় অস্ত্র হতে পারে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে রস্টন চেজও নজর কেড়েছেন। ভারতের বড় রানের ইনিংসের মধ্যেও ২৪ রানে তিন উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। অন্য দিকে, চার ওভারে ৬৪ রান দেওয়া শামার স্প্রিঙ্গারকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে পারে ক্যারিবিয়ান শিবির।

রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হবে ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ় তৃতীয় টি-টোয়েন্টি। সরাসরি সম্প্রচার দেখা যাবে Star Sport Network ও Jio Hotstar এ।

ব্যাটারদের দাপটের মধ্যে যে দল বোলিং, ফিল্ডিং এবং চাপের মুহূর্তে নিজেদের পরিকল্পনা ভাল ভাবে কার্যকর করতে পারবে, সিরিজে এগিয়ে যাওয়ার দৌড়ে তারাই সুবিধা পাবে।