ভারতের বিশ্বজয়, সঞ্জু স্যামসনের ব্যাটে ঝড়

পূর্ণেন্দু চক্রবর্তী

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্বপ্নের ইতিহাসে নাম লিখিয়ে ফেলল ভারত। স্বপ্নের ফেরিওয়ালা হয়ে সফল ভারতীয় খেলোয়াড়রা মাঠে দিকহারা পাখির মতো উড়তে শুরু করলেন। যে স্বপ্ন এতদিন ধরে দেখে আসছিলেন তার সার্থক রূপ পেল ৯৬ রানে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে। এক নতুন অধ্যায় রচনা করল ভারত। রাতের আহমেদাবাদের আকাশ রঙিন মশালের আলোয় ঝলমল করে উঠল। জাতীয় পতাকা নিয়ে স্টেডিয়ামের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ভারতের সমর্থকরা ছোটাছুটি শুরু করলেন। কে আগে কাকে অভিনন্দন জানাবেন, তা নিয়ে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। আতস বাজির আলোয় ভরপুর হয়ে যায় সারা শহর। রাস্তায় যেন আনন্দের জোয়ার বইতে থাকে। কারা যেন বলেছিল, আহমেদাবাদের এই স্টেডিয়ামটা অপয়া। তাঁদের চোখে আঙুল দিয়ে সঞ্জু স্যামসন, অভিষেক শর্মা, ঈশান কিশান থেকে শুরু করে বরুণ চক্রবর্তী, হার্দিক পাণ্ডিয়া, অক্ষর প্যাটেল ও যশপ্রীত বুমরারা যেন জাদু দেখালেন। সারা মাঠ উত্তাল হয়ে ওঠে বোলারদের আক্রমণাত্মক ভূমিকা দেখে।

বুমরা একাই যেন নিউজিল্যান্ড শিবিরকে ভেঙে তছনছ করে দিলেন। চার-চারটি উইকেট নিজের পকেটে নিয়ে বলতে পারলেন ভারতের জয়ে আমি একজন বড় সৈনিক। সঞ্জু স্যামসন যেমন বড় রানের অঙ্কে নিজেকে মেলে ধরলেন, তেমনই আবার অভিষেক শর্মা ও ঈশান কিশান দুরন্ত ব্যাটিং করে বুঝিয়ে দিলেন ভারত কোনও চাপের কাছে ভীত নয়। ভারতীয় খেলোয়াড়দের সাহসী ভূমিকা এবং সংগ্রামী লড়াই ভারতের এই জয়কে সহজ করে দেয়। ভারতের এই জয় টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা হল। টানা দু’বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে ভারত বলতে পারল, হ্যাঁ আমরা পারি বিশ্বজয় করতে। ভারতবাসীর স্বপ্ন পূরণের প্রার্থনায় এই জয় সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে। ভারতের আকাশে জয়ের সূর্যোদয় হল আহমেদাবাদ স্টেডিয়ামে। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রোহিত শর্মার নেতৃত্বে ভারত সেরা দলের স্বীকৃতি পেয়েছে। আর এবারে সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে ভারত বিশ্বজয়ের সম্মানটা তুলে নিল।


ভারতের সঞ্জু স্যামসন আবার সুপারম্যান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনালে তাঁর ছক্কা মারার তাণ্ডবে সারা গ্যালারি কেঁপে উঠল। সঞ্জুর সামনে প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড দলের কোনও বোলারই সেইভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি। স্বাভাবিকভাবেই ফাইনাল খেলার রং একেবারেই আলাদা হয়ে থাকে। কখন কীভাবে সেই চরিত্র বদলে যাবে, তা কেউই অনুভব করতে পারেননি। সঞ্জু স্যামসনের পাশে অভিষেক শর্মাও যেন জ্বলন্ত আগুন হয়ে উঠেছিলেন। এই দুই ব্যাটসম্যানের ব্যাট থেকে শুধুই চার আর ছক্কার ফুলঝুরি দেখতে পাওয়া গিয়েছে।

টসে হেরে ভারতীয় দল ব্যাট করতে নেমে বুঝিয়ে দিয়েছে সুনামি কাকে বলে। যখনই এই দুই ব্যাটসম্যানের ব্যাট ঝলসে উঠেছে, ততই ভারতের স্কোর বোর্ড বড় রানের অঙ্কে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। একটা সময় মনে হয়েছিল, ভারতীয় দল ৩০০ রানের টার্গেট দেবে নিউজিল্যান্ডকে। শেষ পর্যন্ত সেই অঙ্কে না পৌঁছতে পারলেও ভারতীয় দল নির্দিষ্ট ২০ ওভারে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ২৫৫ রান করে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয় নিউজিল্যান্ডকে। এবারও শতরানে লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেন সঞ্জু স্যামসন। পরপর তিনটি ম্যাচে শতরানের প্রায় দোরগোড়ায় পৌঁছেও বঞ্চিত হলেন। ফাইনাল ম্যাচে সঞ্জু মাত্র ১১ রানের জন্য বঞ্চিত হলেন শতরান থেকে। সঞ্জু ৮৯ রানের মাথায় জেমস নিশামের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরত যান। যখন তিনি মাঠ থেকে বেরোচ্ছিলেন দর্শকরা উঠে দাঁড়িয়ে অভিনন্দন জানাতে ভুল করেননি। অনেকেই বলছিলেন, অভিষেক শর্মার ব্যাট সেইভাবে কথা বলবে না। সেই ভুল ধারণাকে উড়িয়ে দিয়ে অভিষেক ২১ বলে ৫২ রান যোগ করলেন স্কোরবোর্ডে। মাত্র ১৮ বলে উপহার দিলেন ৫০ রান। ঈশান কিশানও কম যাননি। তিনি অর্ধ শতরান করে ভারতকে এক দুরন্ত জায়গায় পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৫৪ রান। খেলেছেন ২৫টি বল।