২০৩৬ অলিম্পিকের দৌড়ে ভারতের নতুন স্লোগান ‘রাইজিং টুগেদার’, আহমেদাবাদেই স্বপ্নের মঞ্চ

Photo: X

অলিম্পিক আয়োজনের স্বপ্নকে এ বার আরও জোরালো ভাবে সামনে আনল ভারত। ২০৩৬ সালের অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক গেমস আয়োজনের জন্য ভারতের ভাবনার কেন্দ্রে থাকছে— ‘রাইজিং টুগেদার’। বুধবার কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য এবং ভারতীয় অলিম্পিক সংস্থার (IOA) সভাপতি পি টি ঊষা জানালেন, এই ভাবনাকেই সামনে রেখে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (IOC) ফুচার হোস্ট কমিশনের কাছে নিজেদের প্রস্তাব পেশ করবে ভারত।

ভারতের পছন্দের আয়োজক শহর ইতিমধ্যেই ঠিক হয়ে গিয়েছে— আহমেদাবাদ। দেশে এখনও পর্যন্ত অলিম্পিক আয়োজন হয়নি। ২০২৪ সালেই অলিম্পিক আয়োজনের ইচ্ছাপত্র জমা দিয়েছিল ভারত। এ বার অক্টোবরের শেষে IOC-র কাছে প্রথম বিস্তারিত উপস্থাপনা করবে IOA।

ভারতের ২০৩৬-এর স্বপ্ন যে শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের মধ্যে আটকে নেই, তা স্পষ্ট মাণ্ডব্যের কথায়। তিনি বলেন, ‘২০৩৬-এর জন্য ভারতের ভাবনার মূল কথা খুবই সহজ— খেলাধুলা দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার অন্যতম শক্তি হতে পারে। অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক আয়োজন করলে দেশের কোটি কোটি তরুণ খেলাধুলায় আসতে উৎসাহিত হবে। আরও স্বাস্থ্যকর ও সক্রিয় সমাজ গড়ে উঠবে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে’।


অর্থাৎ, ভারতের কাছে ২০৩৬ অলিম্পিক শুধু পদক জেতার মঞ্চ নয়, দেশের ক্রীড়া-সংস্কৃতিতে বড় পরিবর্তন আনার হাতিয়ারও। IOA-র বক্তব্যেও সেই লক্ষ্য স্পষ্ট। তাদের মতে, ‘রাইজিং টুগেদার’ শুধুমাত্র একটি স্লোগান নয়। দেশের শক্তি, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং বৈচিত্র্যকে একত্র করে একটি অভিন্ন অলিম্পিক স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার’।

ঊষার কথাতেও আত্মবিশ্বাসের সুর। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতের অলিম্পিক আয়োজনের সম্ভাব্য আয়োজকদের এই অসাধারণ তালিকায় ভারতের নাম থাকাটা আমাদের কাছে অত্যন্ত গর্বের। ‘রাইজিং টুগেদার’ আমাদের কাছে শুধু একটি স্লোগান নয়। ভারতের শক্তি, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও বৈচিত্র্যকে এক জায়গায় এনে অলিম্পিকের স্বপ্নকে বাস্তব করার প্রতিশ্রুতি’।

তাঁর সংযোজন, ‘আমরা এমন একটি গেমস আয়োজন করতে চাই, যা তরুণ, আত্মবিশ্বাসী এবং এগিয়ে চলা ভারতের ছবি তুলে ধরবে। একই সঙ্গে অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক আন্দোলনকে বিশ্বের আরও নতুন প্রজন্ম, নতুন সমাজ এবং নতুন দিগন্তের কাছে পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে’।

এ দিকে ২০৩৬-এর আয়োজক বাছাইয়ের প্রক্রিয়াও বদলেছে IOC। ভেন্যুর মাস্টারপ্ল্যান, অ্যাথলিটদের অভিজ্ঞতা, অর্থের জোগান, রাজনৈতিক ও জনসমর্থন, গেমস আয়োজনের সক্ষমতা এবং প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার পর দীর্ঘমেয়াদি ঐতিহ্য— একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। নভেম্বরের প্রেজেন্টেশনের পর শুরু হবে কৌশলগত আলোচনা। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের শেষ পর্ব শুরু হবে ২০২৮ সালে।

ভারতের সঙ্গে ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের দৌড়ে রয়েছে জার্মানি, কাতার, তুরস্ক, হাঙ্গেরি, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং দক্ষিণ কোরিয়াও। IOC-এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও বেশ দূরে। কিন্তু ভারতের বার্তা স্পষ্ট— অলিম্পিক শুধু আয়োজন নয়, খেলাকে দেশের জীবনের কেন্দ্রে নিয়ে এসে ‘একসঙ্গে উঠে দাঁড়ানোর’ স্বপ্ন।