এশিয়াডে খেলোয়াড়দের থাকার জায়গা নিয়ে বেনজির অব্যবস্থা, মুখ না খুলে পারলেন না ভারতের শেফ দ্য মিশন, কী বললেন?

Asian Games Logo Photo-SNS

এশিয়ান গেমস শুরু হতে আর কয়েক ঘণ্টা। তার আগেই নাগোয়ায় ভারতীয় শিবিরে আবাসন নিয়ে চরম অস্বস্তি। একের পর এক সমস্যা সামনে আসার পরে এ বার মুখ না খুলে পারলেন না ভারতীয় দলের শেফ দ্য মিশন সহদেব যাদব। স্পষ্ট স্বীকারোক্তি তাঁর— আবাসনের ঘাটতি রয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে ভারতীয় দলকে নিজেদের উদ্যোগে অতিরিক্ত হোটেল বুক করতে হয়েছে।

সহদেব জানিয়েছেন, ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের থাকার জন্য ইতিমধ্যেই ১৮টি অতিরিক্ত ঘর বুক করা হয়েছে। আরও ১০টি ঘর বুক করার প্রক্রিয়া চলছে। শুধু আবাসন নয়, যাতায়াতের ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হয়েছিল। তাই গাড়ির ব্যবস্থাও নিজেদের উদ্যোগে করতে হয়েছে ভারতীয় দলকে।

জাপানের মতো উন্নত দেশে এতটা অব্যবস্থা আশাতীত। এর আগেও এশিয়াড হয়েছে জাপানে। কিন্তু এত অব্যবস্থা দেখা যায়নি। এই ধরনের গেমসের আসরে যেখানে ক্রীড়াবিদদের ন্যূনতম প্রয়োজনগুলি নিয়ে খুব কম অভিযোগ আসে, সেখানে থাকা, যাতায়াত নিয়েই এত ঝুরি ঝুরি অভিযোগ আসছে যে, এর পর বিভিন্ন ইভেন্টের টেকনিক্যাল দিকগুলি নিয়ে খেলোয়াড়, কোচেরা আদৌও সন্তুষ্ট হতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে অনেকেই আতঙ্কে রয়েছেন।


সহদেব বলেন, ‘সকলের থাকার ব্যবস্থা হয়ে গিয়েছে। আমাদের দিক থেকে এখন কোনও সমস্যা নেই। শুরুতে কিছু সমস্যা হয়েছিল, তাই আমরা অতিরিক্ত একটি হোটেল বুক করেছি। আমাদের দল সরাসরি বিমানবন্দরে যাচ্ছে। অ্যাক্রেডিটেশনের প্রক্রিয়াটি বেশ দীর্ঘ এবং ক্রুজে সেটি করা হচ্ছে, তাই অনেক সময় লাগছে’।

 

এর পরেই তিনি বলেন, ‘যাতায়াতের ক্ষেত্রেও কিছু সমস্যা রয়েছে। তবে আমরা আমাদের খেলোয়াড়দের জন্য নিজেদের মতো করে গাড়ি এবং হোটেলের ব্যবস্থা করেছি। ইতিমধ্যেই ১৮টি ঘর বুক করা হয়েছে এবং আজ আরও ১০টি ঘর বুক করব। সত্যিই এখানে থাকার জায়গার অনেক ঘাটতি রয়েছে’।

কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হল? সহদেবের বক্তব্য, জাপানে পৌঁছনোর পরে ভারতীয় দলকে জানানো হয়েছিল যে তাদের জন্য বরাদ্দ আবাসনের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে হাতে কার্যত কোনও সময় না রেখেই বিকল্প ব্যবস্থা করতে হয়।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে পৌঁছনোর পরে জানতে পারি যে আমাদের আবাসনের কোটা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই এক দিনের মধ্যেই আমাদের অতিরিক্ত হোটেল বুক করতে হয়েছিল’।

নাগোয়ায় এ বার প্রচলিত কোনও ‘গেমস ভিলেজ’ তৈরি করা হয়নি। তার বদলে ক্রুজ জাহাজ, অস্থায়ী কন্টেনার-ধাঁচের থাকার জায়গা এবং বিভিন্ন হোটেলে ক্রীড়াবিদ ও আধিকারিকদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিযোগিতা শুরুর আগেই ঘর পাওয়া নিয়ে একাধিক সমস্যা সামনে এসেছে।

কখনও ঘর পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা, কখনও ঘরের সংখ্যা নিয়ে সমস্যা—ভারতীয় দলের একাধিক সদস্যকে এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে। মহিলা জিমন্যাস্ট প্রণতি নায়েক এবং তাঁর পুরুষ কোচকে একই ঘর বরাদ্দ করার ঘটনাও সামনে এসেছে। পরে অবশ্য আলাদা থাকার ব্যবস্থা করা হয়।

তবে এই পরিস্থিতিতে দোষারোপের পথে হাঁটতে চান না সহদেব। তাঁর কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের স্বস্তি এবং প্রস্তুতি। তাঁর কথায়, ‘কিছুটা অব্যবস্থাপনা হয়েছে। তবে এটা এত বড় একটি প্রতিযোগিতা যে এখানে যে কোনও কিছু ঘটতে পারে। কিন্তু কে দোষী, সেটা নিয়ে আমরা ভাবতে চাই না’।

ভারতের শেফ দ্য মিশন আরও বলেন, ‘আমাদের অগ্রাধিকার হল আমাদের ছেলেমেয়েদের দেখাশোনা করা, তাঁদের সমস্ত সমস্যা সমাধান করা এবং তাঁরা যাতে স্বচ্ছন্দে ও ভাল ভাবে থাকতে পারেন, তা নিশ্চিত করা। আমরা চাই তাঁরা নিজেদের পারফরম্যান্সে মন দিক, পদক জিতুক এবং তার পরে নিশ্চিন্তে বিশ্রাম নিক। এটাই আমাদের ইচ্ছা এবং আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি’।

এর মধ্যেই শুক্রবার ভারত-সহ পাঁচটি দেশের পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানও নির্ধারিত সময়ের পরে শুরু হয় এবং মাঝপথে বিঘ্নিত হয়। পরে এক ঘণ্টারও বেশি সময়ের দেরির পরে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। ফলে শনিবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে আয়োজকদের সামনে ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।

মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই তাই নাগোয়া এশিয়ান গেমসের শিরোনামে উঠে এসেছে অন্য ছবি—পদকের লড়াইয়ের আগে আবাসন, যাতায়াত আর ব্যবস্থাপনার ধাক্কা সামলাতে হচ্ছে খেলোয়াড়দের।