গোলের বন্যা থামছে না। একের পর এক আক্রমণ, পেনাল্টি কর্নারের পর পেনাল্টি কর্নার— শেষ পর্যন্ত সিঙ্গাপুরকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে উঠে পড়ল ভারতীয় মহিলা হকি দল। রবিবার পুল বি-র শেষ ম্যাচে দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে পাঁচ ম্যাচে পাঁচ জয় নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে থেকেই শেষ চারে জায়গা করে নিলেন সলিমা তেতেরা। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর সেমিফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া।
ভারতের হয়ে গোল করেছেন অধিনায়ক সলিমা তেতে, সুনেলিতা টোপ্পো, লালরেমসিয়ামি, রুতুজা দাদাসো পিসাল, নিকি প্রধান এবং দীপিকা। সুনেলিতা জোড়া গোল করেছেন। ম্যাচের শেষ দিকে দীপিকার শক্তিশালী ফ্লিকে আসে ভারতের সপ্তম গোল।
তবে শুরুটা কিন্তু খুব সহজ ছিল না। প্রথম কোয়ার্টারে ভারত আক্রমণের পর আক্রমণ করলেও সিঙ্গাপুরের রক্ষণ বার বার বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে পেনাল্টি কর্নার রুখতে দুর্দান্ত ভূমিকা নেয় সিঙ্গাপুর। প্রথম কোয়ার্টারেই ভারতের আটটি পেনাল্টি কর্নার নষ্ট করে দেয় তারা। ফলে গোলের মুখ খুলতে অপেক্ষা করতে হয় দ্বিতীয় কোয়ার্টার পর্যন্ত।
১৭ মিনিটে সেই অপেক্ষার অবসান। দুর্দান্ত ফিল্ড গোল করে ভারতকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক সলিমা। তার পর যেন বাঁধ ভাঙে। ২২ মিনিটে পেনাল্টি কর্নারের ভুলচুক থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবধান বাড়ান সুনেলিতা। দু’মিনিট পরেই ফের গোল তাঁর—দীপিকার পেনাল্টি কর্নারের ভ্যারিয়েশন থেকে বল পেয়ে জালে পাঠান সুনেলিতা।
২৬ মিনিটে ভারতের চতুর্থ গোল। দীপিকার ফ্লিক থেকে বলের দিক বদলে জালে পাঠান লালরেমসিয়ামি। তিন মিনিট পরেই রুতুজার ফিল্ড গোল—স্কোর ৫-০।
এত গোলের পরেও ভারতের পেনাল্টি কর্নার কনভারশনের হার কিন্তু খুব একটা ভাল ছিল না। প্রথম দুই কোয়ার্টারে পাওয়া ১৫টি পেনাল্টি কর্নারের মধ্যে মাত্র তিনটি থেকে গোল আসে, তাও সরাসরি নয়—ভ্যারিয়েশন বা রিবাউন্ড থেকে।
তৃতীয় কোয়ার্টারেও একই ছবি। ৩৫ মিনিটে ফের একটি সেট-পিসের পর আলগা বল পেয়ে গোল করেন নিকি প্রধান। ভারত আরও একাধিক পেনাল্টি কর্নার আদায় করলেও সিঙ্গাপুরের জমাট রক্ষণে বার বার আটকে যায় তাদের চেষ্টা। প্রথম তিন কোয়ার্টার মিলিয়ে ভারত মোট ২৪টি পেনাল্টি কর্নার পেয়েছিল, যার মধ্যে মাত্র তিনটি থেকে গোল আসে।
শেষ কোয়ার্টারে অবশ্য গোলের জন্য বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি। ম্যাচ শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে পর পর দু’টি পেনাল্টি কর্নার পায় ভারত। দ্বিতীয়টিতে দীপিকার শক্তিশালী ফ্লিক সিঙ্গাপুরের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে ৭-০ করে দেয়।
এই জয়েই পুল বি-তে ভারতের একশো ভাগ জয় নিশ্চিত হল। পাঁচ ম্যাচে পাঁচ জয়— উজবেকিস্তানকে ১৯-০, ইন্দোনেশিয়াকে ১৭-১, থাইল্যান্ডকে ২০-১ এবং জাপানকে ৩-১ হারানোর পর এ বার সিঙ্গাপুরকেও বড় ব্যবধানে হারাল ভারত।
সেমিফাইনালে এ বার সামনে দক্ষিণ কোরিয়া। অন্য সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে গত বারের চ্যাম্পিয়ন চিন এবং আয়োজক জাপান। ৩০ সেপ্টেম্বর হবে দুই সেমিফাইনাল।
দু’ সেন্টিমিটারের জন্য সোনা হারালেন অ্যান্সি
মহিলাদের লং জাম্পে সোনা জয়ের খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত রুপোতেই সন্তুষ্ট থাকতে হল অ্যান্সি সোজানকে। প্রতিযোগিতার বেশির ভাগ সময় দাপট দেখিয়েও শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে পড়েন তিনি। শেষ কয়েক সেকেন্ডে দুর্দান্ত ৬.৫৫ মিটার লাফ দিয়ে অ্যান্সিকে টপকে সোনা জিতে নেন চিনের হুয়াং ইংইং। অ্যান্সির সেরা লাফ ৬.৫৩ মিটার। ফলে মাত্র ২ সেন্টিমিটারের ব্যবধানে তাঁকে রুপো নিয়েই ফিরতে হল। এর আগে মহিলাদের ২০০ মিটার দৌড়ে ব্রোঞ্জ জিতেছেন হরিতা ভদ্র। ২৩.২০ সেকেন্ড সময় করে তৃতীয় স্থানে শেষ করে পোডিয়ামে জায়গা করে নেন তিনি।
পুরুষদের ডেকাথলনে ব্রোঞ্জ জিতেছেন ভারতের তেজস্বিন শঙ্কর। দুদিন ধরে দশটি ইভেন্টের পর তাঁর স্কোর ৭৯৩৪ পয়েন্ট। ২০২২-এ হাংঝৌয়ে তিনি রুপো জিতেছিলেন। জাপানের ইউমা মারুইয়ানা ৮১২৩ স্কোর করে সোনা জেতেন। চিনের চেন জিংহুয়া রুপো জেতেন ৮০১২-এ। মহিলাদের ৩০০০ মিটার স্টিপলচেজে ব্রোঞ্জ জিতলেন ভারতের পারুল চৌধুরি। ৯ মিনিট ৮.৬৭ সেকেন্ড সময় করে নিজের সেরা পারফরম্যান্স গড়লেন তিনি। দৌড়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তৃতীয় স্থান ধরে রেখেই শেষ করেন পারুল। তাঁর সতীর্থ অঙ্কিতা চতুর্থ স্থানে শেষ করেছেন। হাইজাম্পে রূপো পেলেন সর্বেশ কুশারে। তিনি ২.২৫ মিটার লাফিয়ে ঐতিহাসিক রূপো জেতেন। এই ইভেন্টে ৫৬ বছর পর পদক জিতলেন কোনও ভারতীয়।
বক্সিংয়ে পদক নিশ্চিত
বক্সিং রিং থেকে এল সুখবর। পুরুষদের ৮০ কেজি বিভাগে সেমিফাইনালে উঠে ভারতের জন্য পদক নিশ্চিত করেছেন অঙ্কুশ পাংঘাল। একই ভাবে মহিলাদের ৬৭ কেজি বিভাগে সেমিফাইনালে পৌঁছে পোডিয়ামে ওঠা নিশ্চিত করেছেন প্রভিন হুডা। পুরুষদের ৯০ কেজি+ বিভাগেও পদক নিশ্চিত হয়েছে ভারতের। সেমিফাইনালে উঠে পদক নিশ্চিত করেছেন নরেন্দর।