বার্মিংহামের এজবাস্টনে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত জয়ে আইসিসি মহিলা টি-২০ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ভারত। স্মৃতি মন্ধানার ঝকঝকে অর্ধশতরান এবং দীপ্তি শর্মার বিধ্বংসী বোলিংয়ের সুবাদে পাকিস্তানকে ৬৪ রানে হারিয়েছে হরমনপ্রীত কৌরের দল।
তবে খেলা শুরুর আগেই পাকিস্তানের অধিনায়কের সঙ্গে করমর্দন না করে অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর বুঝিয়ে দিলেন, তাঁদের কাছে দেশের সন্মানই সবার আগে। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ‘এখানে আমরা ক্রিকেট খেলতে এসেছি। ক্রিকেট ছাড়া আর কোনও বিষয়ে কথা বলব না। আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে যথাসম্ভব ম্যাচ খেলব। তাতে কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু হাত মেলাব না’।
রবিবার বার্মিংহামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই কিছুটা চাপে পড়েছিল ভারত। দুই ওপেনার দ্রুত ফিরে যাওয়ায় স্কোরবোর্ডে চাপ তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে ইনিংসের হাল ধরেন স্মৃতি মন্ধানা। ৪৪ বলে ৬৮ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল একাধিক দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি। এটি ছিল মহিলা টি-২০ বিশ্বকাপে তাঁর পঞ্চম অর্ধশতরান। এর মাধ্যমে তিনি ভারতের হয়ে মহিলা টি-২০ বিশ্বকাপে সর্বাধিক অর্ধশতরানের যৌথ রেকর্ড গড়েন।
অধিনায়ক হরমনপ্রীতও ৩৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। দু’জনে মিলে ৯১ রানের জুটি গড়ে ভারতকে মজবুত ভিত এনে দেন। শেষদিকে রিচা ঘোষ মাত্র ১৭ বলে ৩৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে ভারতের রানকে ১৭০/৬-এ পৌঁছে দেন।
১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান শুরুটা খারাপ করেনি। পাওয়ারপ্লেতেই ৫২ রান তুলে ম্যাচে লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিল তারা। ওপেনার মুনিবা আলি ৪১ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। কিন্তু এরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন দীপ্তি শর্মা। তাঁর নিখুঁত অফ-স্পিনের সামনে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান।
দীপ্তি ৪ ওভারে মাত্র ১০ রান দিয়ে ৫ উইকেট তুলে নেন, যা তাঁর টি-২০ আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের সেরা বোলিং। তাঁর স্পেলেই ৭৫/৩ থেকে ধসে পড়ে পাকিস্তানের ইনিংস এবং শেষ পর্যন্ত তারা ১০৬ রানে অলআউট হয়ে যায়। এই পারফরম্যান্সের সুবাদে মহিলা টি-২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বাধিক উইকেটশিকারির তালিকাতেও শীর্ষে উঠে আসেন দীপ্তি।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই এমন একতরফা জয় ভারতের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিল। ব্যাট ও বল—দুই বিভাগেই আধিপত্য দেখিয়ে হরমনপ্রীতের দল স্পষ্ট করে দিল, গত বছরের একদিনের বিশ্বকাপ জয়ের পর এবার টি-২০ বিশ্বকাপও জয়ের লক্ষ্য নিয়েই তারা মাঠে নেমেছে।
এই অসাধারণ জয়ের পর ভারত অধিনায়ক হরমনপ্রীত বলেন, ‘সবার আগে আমি ভারতীয় সমর্থকদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। ওরা সবসময় আমাদের পাশে থেকেছে। তাই আমরা সত্যিই ওদের প্রতি কৃতজ্ঞ। দলের যখনই প্রয়োজন হয়, স্মৃতি ও দীপ্তি সবসময় এগিয়ে এসে দলকে সাহায্য করে।
তাই আজ ওরা দু’জন যেভাবে খেলেছে, তাতে আমি ভীষণ খুশি। শুরুতে আমরা অকারণে নিজেদের ওপর কিছুটা চাপ তৈরি করেছিলাম। কিন্তু তারপর যখন আমি আর স্মৃতি ব্যাট করছিলাম, তখন আমরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করি এবং শেষ পর্যন্ত আমরা সফল হই।‘
রবিবারের এই জয় কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা জানতে চাইলে হরমনপ্রীত বলেন, ‘লিগ পর্বের প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। আজ আমরা যেভাবে জিতেছি, তাতে আমি খুব খুশি। কারণ লিগ পর্বের শেষে এই জয় আমাদের নেট রান রেটের দিক থেকে অনেক সাহায্য করবে’।
বাংলার উইকেট কিপার ও ব্যাটার রিচা ঘোষ বারবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাই রিচার ওপর তিনি অনেকটাই নির্ভর করেন বলে জানান হরমনপ্রীত। বলেন, ‘যদি বিষয়টা আমার হাতে থাকত, তাহলে আমি ওকে প্রথম বলেই ব্যাট করতে পাঠাতাম। কিন্তু দলের মধ্যে ওর নির্দিষ্ট ভূমিকা আছে এবং ও সেই দায়িত্ব খুব ভালোভাবেই পালন করছে। আজ ও যেভাবে খেলেছে, তাতে আমি খুবই খুশি’।
দলের ফিল্ডিং শুরুতে কিছুটা নড়বড়ে হলেও পরে দল ঘুরে দাঁড়ায়। এই নিয়ে ক্যাাপ্টেন বলেন, ‘ক্রিকেট এমন একটি খেলা, যেখানে আপনি যদি প্রতিটি বল ধরতে পারেন, সব ক্যাচ নিতে পারেন, তাহলে বেশিরভাগ সময়ই ম্যাচ জিতবেন। ফিল্ডিংয়ের সময় ঠিক সেটাই ঘটেছে। আমরা প্রতিটি বলেই নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিতে চেয়েছিলাম। আমাদের ফিল্ডিং এবং গোটা দলের পারফরম্যান্সে আমি খুবই সন্তুষ্ট’।