বার্মিংহামের এজবাস্টনে রবিবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে ভারত। উত্তেজনায় ঠাসা এই ম্যাচ দিয়েই মহিলা টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এ নিজেদের অভিযান শুরু করছেন হরমনপ্রীত কৌররা। টুর্নামেন্টের শুরুতেই এই হাইভোল্টেজ ম্যাচ ঘিরে বিলেতে থাকা সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে।
ভারত এই বিশ্বকাপে নামছে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস নিয়ে। গত বছর ওয়ানডে (৫০ ওভার) বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড এবং শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স দেখায় হরমনপ্রীত কৌরের দল। তবে এই বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারালেও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে পাঁচ রানে হারতে হয় ভারতকে।
তবে সেই হারেও ইতিবাচক দিক দেখছেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত। ইংল্যান্ড ম্যাচের পরে তিনি বলেছিলেন, “এই দুই প্র্যাকটিস ম্যাচই আমাদের যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে”। বাংলার রিচা ঘোষের বিধ্বংসী ব্যাটিং সত্ত্বেও ভারত হেরে যায় সে দিন। রিচার প্রশংসা করে দলনেত্রী বলেন, “রিচার ইনিংসই আমাদের মনে বিশ্বাস তৈরি করে দিয়েছে যে ক্রিজে টিকে থাকতে পারলে যে কোনও সময়ে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া যায়।”
অধিনায়ক স্বীকার করেন যে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পার্টনারশিপ গড়তে না পারাই দলের পরাজয়ের অন্যতম কারণ ছিল। বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচগুলিতে প্রত্যেক ক্রিকেটারকে সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও ছিল টিম ম্যানেজমেন্টের। এবং তা দেওয়াও হয়েছে বলে মনে করেন অধিনায়ক।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই আলাদা আবেগ। আর বিশ্বকাপের মঞ্চে সেই লড়াই হলে উত্তেজনা আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এজবাস্টনের পরিবেশ নিয়ে রোমাঞ্চিত হরমনপ্রীত বলেন, “শুরুটা দুর্দান্ত হচ্ছে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলা, বার্মিংহামে। রোমাঞ্চকর পরিবেশ। এই ম্যাচটার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।” ভারতীয় অধিনায়ক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে চান তাঁরা। বলেন, “আশা করি, শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ও ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলব আমরা।”
ভারতের ব্যাটিং বিভাগে স্মৃতি মান্ধানা, শেফালি ভার্মা, জেমাইমা রড্রিগেজ ও রিচা ঘোষের দিকে তাকিয়ে থাকবেন সমর্থকেরা। অলরাউন্ডার দীপ্তি শর্মা এবং স্পিন বিভাগও ভারতের অন্যতম শক্তি। অন্যদিকে, পাকিস্তান অধিনায়ক ফতিমা সানার নেতৃত্বে অঘটন ঘটানোর স্বপ্ন দেখছে।
ভারতের ব্যাটারদের সেরা ছন্দে থাকাটা জরুরি, কারণ তাদের সামনে রয়েছে পাকিস্তানের আক্রমণভাগ, যার নেতৃত্বে আছেন ফর্মে থাকা অধিনায়ক ফতিমা সানা। সাম্প্রতিককালে ফতিমা দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। গত প্রায় এক বছরে ব্যাট হাতে তাঁর গড় ৫০-এরও বেশি, আর বল হাতে গড় ২৫-এর নিচে।
২৪ বছর বয়সি এই অলরাউন্ডার সম্প্রতি করাচিতে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে মাত্র ১৫ বলে অর্ধশতরান করে মহিলা টি-২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দ্রুততম পঞ্চাশের রেকর্ড গড়েছিলেন। ফলে তিনি যে ভারতীয় বোলিং আক্রমণের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারেন, তা বলাই বাহুল্য। বিশেষ করে চোটের কারণে অমনজিৎ কৌর এবং কাশভি গৌতম দলে না থাকায় ভারতীয় বোলিং ইউনিটকে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে।
প্রাক্তন ইংল্যান্ড অধিনায়ক নাসের হুসেন অবশ্য ম্যাচের আগে ভারতকেই এগিয়ে রেখেছেন। তাঁর মতে, “ভারত শক্তিশালী দল। পাকিস্তানের থেকে এগিয়ে থেকেই নামবে ভারতের মেয়েরা।”
ইতিহাসও ভারতের পক্ষেই কথা বলছে। মহিলা টি-২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের রেকর্ড অত্যন্ত ভাল। তবে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে অতীতের পরিসংখ্যানের চেয়ে ম্যাচের দিনের পারফরম্যান্সই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতের লক্ষ্য বিশ্বকাপ অভিযান জয় দিয়ে শুরু করা। আর পাকিস্তান চাইবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে টুর্নামেন্টে বড় বার্তা দিতে। সব মিলিয়ে রবিবারের এজবাস্টন সাক্ষী থাকতে চলেছে আরেকটি ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট মহারণের।