এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট আয়োজন নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে ক্রিকেটারদের থাকার ব্যবস্থা এবং মাঠের পরিকাঠামো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এশিয়ার একাধিক প্রথম সারির ক্রিকেট খেলিয়ে দেশ। এ বার সেই সব প্রশ্নের জবাব দিল জাপান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (জেসিএ)। তারা জানিয়ে দিয়েছে, জাপানে হলেও ক্রিকেট কোনো দিক দিয়ে পিছিয়ে থাকবে না।
জেসিএ-র সিইও নাওকি অ্যালেক্স মিয়াজি এই ব্যাপারে সবাইকে আশ্বস্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট অন্যতম বড় খেলা হবে। এশিয়ার সেরা ক্রিকেট দলগুলি এই প্রথম জাপানে খেলতে নামবে’। জাপানে ক্রিকেট এখনও জনপ্রিয়তম খেলাগুলির তালিকায় নেই। সেই সত্যিটা মেনে নিয়েও মিয়াজির দাবি, ‘এই সীমিত সময় এবং সুযোগ-সুবিধার মধ্যে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকবেই। তবে আমি যতটা দেখেছি, এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর এ বার যে মাঠ ও খেলার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, সেটিই হবে সেরা’।
এশিয়াডের ভেনু কোরোগি স্পোর্টস পার্ক মাত্র ১৭ মাসে শূন্য থেকে তৈরি করতে হয়েছে বলে জানান মিয়াজি। মাঠটি মূলত তৈরি করেছেন শ্রীলঙ্কার কিউরেটররা। মিয়াজি বলেন, ‘প্রস্তুতির জন্য মাত্র ১৭ মাস ছিল। আইচি প্রিফেকচারে আগে কোনও উচ্চ মানের ক্রিকেট মাঠ ছিল না, তাই একেবারে শুরু থেকে কাজ করতে হয়েছে’।
মাঠ তৈরিতে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। তাদের কিউরেটররা টার্ফ এবং হাইব্রিড পিচ তৈরিতে সাহায্য করেছেন। মিয়াজির দাবি, ‘এটি পূর্ণাঙ্গ মাপের মাঠ হবে। টার্ফ এবং হাইব্রিড পিচ তৈরি করেছেন সেরা কিউরেটররা। এই কাজে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সাহায্যের জন্য তাদের কৃতিত্ব দিতেই হবে’। আত্মবিশ্বাসী মিয়াজির দাবি, জাপানে এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটই হতে চলেছে অন্যতম বড় আকর্ষণ।
সম্প্রতি এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) বৈঠকে কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেট খেলিয়ে দেশ থাকার জায়গা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। তাদের মূল আপত্তি, কোরোগি স্পোর্টস পার্ক থেকে নির্দিষ্ট হোটেলের দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। সেই সঙ্গে মাঠের ওয়াশরুম এবং ড্রেসিংরুম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।
মিায়াজি জানিয়ে দিয়েছেন, ক্রিকেট দলগুলি চাইলে আয়োজকদের দেওয়া ভিলেজে থাকতে পারে, আবার নিজেদের ইচ্ছেমতো হোটেলে থাকার ব্যবস্থাও করতে পারবে। জেসিএ-র সিইও এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘এশিয়ান গেমসের আয়োজন করছে আইচি-নাগোয়া গেমস আয়োজক কমিটি। জেসিএ কিছু ক্ষেত্রে সাহায্য করেছে, কিন্তু সরাসরি আয়োজনে যুক্ত নয়। তাই সব উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। তবে এটুকু বলতে পারি, এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট সফল করার জন্য সব পক্ষই কঠোর পরিশ্রম করছে’।
থাকার ব্যবস্থা নিয়েও তাঁর বক্তব্য স্পষ্ট। মিয়াজি বলেন, ‘এসিসি অনেক দিন ধরেই আয়োজকদের সঙ্গে থাকার বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করছে। ক্রিকেটে অংশ নেওয়া দলগুলিকে হোটেলে থাকার ব্যবস্থাও করে দেওয়া হচ্ছে’। তবে দলগুলি চাইলে নিজেদের ব্যবস্থাতেও থাকতে পারবে। মিয়াজির কথায়, ‘অন্যান্য অনেক খেলার ক্রীড়াবিদদের আরও সীমিত ব্যবস্থায় থাকতে হচ্ছে— যেমন ক্রুজ় জাহাজ বা কনটেনার হোটেলে। ক্রিকেট দলগুলি চাইলে নিজেদের থাকার ব্যবস্থাও করে নিতে পারে’।
এশিয়ান গেমস শুরু হবে ১৭ সেপ্টেম্বর। ভারতীয় পুরুষ ক্রিকেট দল সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে এবং তাদের অভিযান শুরু হবে ২৮ সেপ্টেম্বর। ফলে তার আগে থাকার ব্যবস্থা এবং মাঠের পরিকাঠামো নিয়ে জাপানের এই আশ্বাস নিঃসন্দেহে স্বস্তি দেবে অংশগ্রহণকারী দলগুলিকে।