জয়ে ফিরলেন শ্রেয়সরা, জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ঝড় তুলে ফের বিশ্বরেকর্ড বৈভব সূর্যবংশীর

Bhaivab Suryavanshi Photo-SNS

টানা সাত ম্যাচে জয়হীন থাকার পর অবশেষে জয়ে ফিরল টি-২০ বিশ্বকাপজয়ী ভারত। জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে প্রথম টি-২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাত্র ১৮ বলে হাফ সেঞ্চুরি করে টি-২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে হাফসেঞ্চুরি করা ব্যাটার হয়ে গেলেন ১৫ বছরের এই বাঁহাতি।

বৃহস্পতিবার শ্রেয়স আইয়ারের দল জিম্বাবোয়েকে প্রথম টি-২০-তে হারাল সাত উইকেটে। টি-২০ দলের অধিনায়ক হওয়ার পর অষ্টম ম্যাচে জয়ের মুখ দেখলেন তিনি। শ্রেয়সের জয়ে ফেরার সঙ্গে বৈভব সূর্যবংশীও রানে ফিরলেন এই ম্যাচেই। চার মাস আগে যে হারারে-তে ঝোড়ো ইনিংস খেলে ভারতকে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন বিহারের এই কিশোর, সেই হারারে-তেই ফের তাঁর ব্যাটে ঝড় উঠল। এ দিন ১৮ বলে হাফ সেঞ্চুরি করলেন তিনি।

ইংল্যান্ড সফরে প্রত্যাশামাফিক পারফরম্যান্স দেখাতে না পারলেও জিম্বাবোয়ের মাটিতে বৈভব শুরু থেকেই ছিলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন মেজাজে। নির্ভীক ব্যাটিংয়ে চারটি চার ও চারটি ছক্কার সাহায্যে মাত্র ১৮ বলেই নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি। তাঁর বিস্ফোরক ব্যাটিং ভারতের ইনিংসের ভিত গড়ে দেয় এবং অনায়াসে জিম্বাবোয়ের দেওয়া ১২৬ রানের লক্ষ্যে দলকে পৌঁছে দেয়।


মাত্র ১৫ বছর ১১৮ দিন বয়সে অর্ধশতরান করে তিনি ভেঙে দেন জিব্রাল্টারের লুই ব্রুস-এর রেকর্ড। ব্রুস ২০২১ সালে মাল্টার বিরুদ্ধে ১৬ বছর ৫৬ দিন বয়সে টি-২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অর্ধশতরান করেছিলেন।

তবে হাফসেঞ্চুরির পরের বলেই তাঁকে ফিরতে হয়। রিচার্ড এনগারাভার অফ স্টাম্পের বাইরের একটি ওয়াইড ডেলিভারিতে শট খেলতে গিয়ে বলটি কেটে দেন তিনি। ডিপ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকা বেন কারান সহজ ক্যাচটি তালুবন্দি করেন।

এর আগেই বৈভব ভারতের সর্বকনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে শচীন তেন্ডুলকরের ৩৭ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙেছিলেন। এবার টি-২০ আন্তর্জাতিকে দ্রুততম উত্থানের পথে আরও একটি বিশ্বরেকর্ড নিজের নামে লিখে ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন এই কিশোর ব্যাটার।

ইনিংসের শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ছিলেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। দ্বিতীয় ওভারেই এনগারাভাকে বিশাল এক ছক্কা হাঁকান তিনি। একই ওভারে আরও একটি ছক্কা ও একটি চার মেরে ভারতীয় ইনিংসের গতি অনেকটাই বাড়িয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত ১৩.২ ওভারেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ভারত।

বৈভবের ঝোড়ো ইনিংস ছাড়াও ইশান কিষাণের ২৪ বলে ৩৫ রানের ইনিংস, শ্রেয়স আইয়ারের ২৪ বলে ২৮-ও ভারতের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ময়ঙ্ক যাদব (২-১৮), প্রিন্স যাদব (২-১৯), শিবম দুবে-দের (১-৩২) দাপটে ধস নামে জিম্বাবোয়ের ব্যাটিংয়ে। তাদের পাঁচ উইকেট পড়ে যায় ৬৪ রানের মধ্যেই। ওয়েসলি মাধেবেরে ও চাদিওয়ানাশে মারুমানির ৫৭ রানের পার্টনারশিপ একশোর গণ্ডী পার করিয়ে দেয়। তার আগে মাধেবেরে ও রায়ান বুরিও ৩২ রানের পার্টনারশিপ গড়ে। মূলত এই তিন ব্যাটসম্যানই জিম্বাবোয়েকে ১২৫-এ পৌঁছে দেয়। কিন্তু এই রান ভারতকে হারানোর পক্ষে যথেষ্ট ছিল না।