গলের ঘূর্ণি পিচে তিন বাঁহাতি স্পিনার নিয়ে নামতে পারে টিম ইন্ডিয়া, ইঙ্গিত বোলিং কোচের

Three Left Arm Spinners Photo-SNS

গলের উইকেটে বল যত পুরনো হবে, ততই বাড়তে পারে স্পিনারদের দাপট। আর এই সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে একসঙ্গে তিন বাঁহাতি স্পিনার খেলানোর পরিকল্পনা নিয়েছে ভারতীয় দল। কুলদীপ যাদব, রবীন্দ্র জাডেজা এবং মানব সুথার— এই তিন স্পিনারকেই প্রথম একাদশে দেখা গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

বৃহস্পতিবার গলে ভারতের বোলিং কোচ মর্নি মর্কেল কার্যত তেমনই ইঙ্গিতই দিলেন। তিন জনই বাঁহাতি স্পিনার হলেও তাঁদের বোলিংয়ের ধরন সম্পূর্ণ আলাদা। আর সেই বৈচিত্র্যকেই দলের বড় অস্ত্র হিসেবে দেখছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন পেসার।

কুলদীপের ক্ষেত্রে রয়েছে আক্রমণাত্মক বাঁহাতি রিস্ট স্পিন, জাদেজার প্রধান শক্তি নির্ভুল লাইন-লেংথ এবং সুথারের অস্ত্র চিরাচরিত লুপ ও বেশি টার্ন। তিন জনের বোলিংয়ে পার্থক্য থাকায় একই ধরনের তিন স্পিনার খেলানো নিয়ে খুব একটা দ্বিধায় নেই মর্কেল।


প্রথম টেস্ট গলে ও পরেরটি কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে। দুই মাঠেই স্পিন সহায়ক পরিবেশে ভারতের ব্যাটারদের পরীক্ষা নিতে প্রস্তুত শ্রীলঙ্কার দুই অভিজ্ঞ স্পিনার প্রভাত জয়সূর্য ও রমেশ মেন্ডিস। তাঁদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়তে ভারতীয় শিবিরও পাল্টা স্পিন-অস্ত্রে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার পরিকল্পনা নিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মর্কেল বলেন, ‘কুলদীপ আছে। ও আক্রমণাত্মক ধরনের বোলার। আমাদের কাছে ওর অভিজ্ঞতা এবং মান উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। তিন জনই নিজেদের মতো করে আলাদা’।

ভারতের বোলিং কোচ বলেন, ‘এক জন (সুথার) একটু বেশি বল ঘোরায়, আর এক জন (জাডেজা) তুলনামূলক ভাবে বেশি নির্ভুল। তিন জন বাঁহাতি স্পিনার খেলানো নিয়ে আমাদের খুব একটা উদ্বেগ নেই। আসল ব্যাপার হল, শুভমান গিল বিভিন্ন সময়ে এই বোলারদের কী ভাবে ব্যবহার করবে। দক্ষতার বিচারে ওদের ২০ উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে’।

সাম্প্রতিক অতীতে দেখা গিয়েছে, গলে ম্যাচ যত এগোয়, এখানকার উইকেট স্পিনারদের জন্য তত সহায়ক হয়ে ওঠে। মর্কেলেরও ধারণা, প্রথম দিকে উইকেট ভাল দেখালেও টেস্ট গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তার চরিত্র বদলাতে পারে। সেই কারণেই তিন স্পিনার নিয়ে নামার ভাবনা চলছে ভারতীয় শিবিরে।

মর্কেল এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘এই মাঠের ইতিহাস এবং এখানে অতীতে ম্যাচ যে ভাবে হয়েছে, তা দেখলে তিন স্পিনার নিয়ে খেলা স্বাভাবিক ভাবেই একটা বিকল্প। আমাদের স্পিন আক্রমণ আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। উইকেট দেখে আমার ভালই মনে হচ্ছে। তবে টেস্ট যত এগোবে, ততই পিচে পরিবর্তন ঘটবে বলে মনে হচ্ছে’।

তবে শুধু উইকেটের চরিত্র নয়, শ্রীলঙ্কার পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার মানসিক প্রস্তুতিকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন ভারতের বোলিং কোচ। তিনি বলেন, ‘যে কোনও পরিস্থিতির জন্যই আমরা তৈরি। এই ধরনের পরিবেশে খেলাটা অনেকটাই মানসিক চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘ সময় ব্যাট করা, লম্বা স্পেল বল করা এবং সঠিক জায়গায় বল ফেলাটাই গুরুত্বপূর্ণ’।

স্পিনারদের পাশাপাশি পেস আক্রমণ নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। অভিজ্ঞ মহম্মদ সিরাজের সঙ্গে প্রথম টেস্টে দ্বিতীয় পেসার হিসেবে সুযোগ পেতে পারেন গুরনুর ব্রার অথবা প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ। দু’জনেরই টেস্ট অভিজ্ঞতা সীমিত। কিন্তু মর্কেলের বিশ্বাস, যাঁকেই সুযোগ দেওয়া হোক না কেন, তিনি চ্যালেঞ্জ সামলাতে পারবেন।

ভারতের বোলিং কোচ বলেন, ‘এটা খুবই রোমাঞ্চকর। ওরা দেশে অনেক ক্রিকেট খেলেছে, যেখানে বোলিংয়ের পরিস্থিতিও কঠিন। এখানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে গরম ও আর্দ্রতা। কোকাবুরা বল নরম হয়ে যাওয়ার পরে আমাদের দেখতে হবে, কী ভাবে একই তীব্রতায় একের পর এক ওভার করে চাপ বজায় রাখা যায়। গত এক সপ্তাহে ওদের যা দেখেছি, তাতে আমি খুশি’।

মর্কেলের মতে, গলের আসল লড়াই শুধু উইকেট বা প্রতিপক্ষের সঙ্গে নয়, বোলারদের মানসিকতারও পরীক্ষা। নতুন বলের সুবিধা শেষ হয়ে যাওয়ার পর কী ভাবে ক্রিজকে ব্যবহার করতে হবে, কখন শর্ট বল করতে হবে এবং কী ভাবে দ্রুত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে— সেই পরিকল্পনাই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘সবটাই মানসিকতার ব্যাপার। ফাস্ট বোলার হলে ২০-৩৫ ওভারের পর বল নরম হয়ে যাবে। তখন আমাদের পরের পরিকল্পনা কী? ক্রিজ কী ভাবে ব্যবহার করব? শর্ট বল কখন করব? এই সব পরিস্থিতিতে আমাদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, পরিকল্পনা কার্যকর করতে হবে’।

গলের স্পিন সহায়ক উইকেটে তাই ভারতের প্রথম একাদশ নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে। জাডেজার অভিজ্ঞতা, কুলদীপের উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা এবং সুথারের লুপ—এই তিন অস্ত্র একসঙ্গে নামিয়ে কি শ্রীলঙ্কাকে চাপে ফেলতে পারবে ভারত? মর্কেলের কথায় অন্তত সেই সম্ভাবনা বেশ জোরালো হয়ে উঠল।